বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ত্রিপুরাতেও 'খেলা' দেখানোর জন্য জোরকদমে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল, অগস্টে যাচ্ছেন অভিষেক
(ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
(ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

ত্রিপুরাতেও 'খেলা' দেখানোর জন্য জোরকদমে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল, অগস্টে যাচ্ছেন অভিষেক

উত্তর ত্রিপুরা, উনকোটি, ধলাই সহ বিভিন্ন জায়গায় বহু নেতা–কর্মীরা তৃণমূলে যোগদান করতে শুরু করেছে।

‌তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েই ত্রিপুরা জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপাতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বছর দেড়েক বাদে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করতে কোমর বেঁধে নামবে তৃণমূল। অগস্টে ত্রিপুরায় যাওয়ার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

দলীয় সূত্রে খবর, ত্রিপুরায় ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংগঠনিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। উত্তর ত্রিপুরা, উনকোটি, ধলাই-সহ বিভিন্ন জায়গায় বহু নেতা–কর্মীরা তৃণমূলে যোগদান করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি আদিবাসীদের মধ্যেও তৃণমূলের প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে আদিবাসীদের অনুষ্ঠানে তৃণমূল শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছে বলে খবর। সেই শুভেচ্ছাবার্তা ত্রিপুরার আদিবাসী সমাজ ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। সামনেই ২১ জুলাই। সেদিন শহিদ স্মরণে ভাষণ দেবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর সেই ভাষণ রাজধানী আগরতলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও ত্রিপুরার ধর্মনগর, উদয়পুরেও শোনা যাবে। এই ভাষণ দেখানোর জন্য ওই সব এলাকায় জায়েন্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় বিভিন্ন ব্লক থেকে জায়েন্ট স্ক্রিনের বন্দোবস্ত করার জন্য অনুরোধ আসছে। এই প্রেক্ষাপটে অগস্টে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই ত্রিপুরা সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে ‘‌খেলা হবে’‌ স্লোগান সাধারণ মানুষের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, ত্রিপুরার মাটিতেও এই স্লোগান সমান জনপ্রিয়তা লাভ করছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর একাধিক জনসভায় এই স্লোগান ব্যবহার করে বাজিমাত করেছেন। বিজেপিকে পরাস্ত করেছেন। এবার কী তাহলে ত্রিপুরার মাটিতেও আরও একবার খেলা হবে স্লোগান তুলতে তৃণমূল, সেটাই এখন দেখার।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এর আগেও ত্রিপুরায় তৃণমূলের সংগঠন বিস্তার লাভ করেছিল মুকুল রায়ের হাত ধরে। মুকুল রায় যখন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে গিয়েছিল, তখন থেকেই ত্রিপুরায় তৃণমূলের সংগঠন ভাঙতে শুরু করে। এবার যখন মুকুলের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন হয়েছে, তখন সেই পুরনো সংগঠনকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যাপারে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে এবারে আরও ব্যাপকভাবে তৃণমূলের প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন ত্রিপুরায় বিরোধী শক্তি বলতে বামেরা ক্ষয়িষ্ণু, কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্ব নেই। তাই এই শূন্যস্থানটিকেই সুকৌশলে কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল। ত্রিপুরায় বিজেপির থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে পারলেই লোকসভা ভোটে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারবে তৃণমূল।

বন্ধ করুন