বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > RBU: মমতাকে চিঠি দিয়েও লাভ হয়নি, 'কাজ করতে না পেরে' অব্যাহতি চাইলেন RBU-র উপাচার্য

RBU: মমতাকে চিঠি দিয়েও লাভ হয়নি, 'কাজ করতে না পেরে' অব্যাহতি চাইলেন RBU-র উপাচার্য

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, চাকরিতে নিয়োগে তাদের সংগঠনের সদস্যদের প্রাধান্য দিতে হবে। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় তাতে সম্মতি জানায়নি। এরপর থেকে লাগাতার বিক্ষোভ করছে ছাত্র সংগঠন। সেই কারণে গত ১৮ জুলাই থেকে বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের দফতরে পর্যন্ত যেতে পারছেন না উপাচার্য।

লাগাতার ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী। যার ফলে তিনি গত ১৮ জুলাই থেকে নিজের দফতরে যেতেই পাচ্ছেন না। স্বাভাবিকভাবেই তিনি কোনও কাজ করতে পারছেন না। এমনই দাবি করে পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন উপাচার্য। তাঁর দাবি, আগেও তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। এই নিয়ে দুবার পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন।

কী কারণে বিক্ষোভ?

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা পরিস্থিতির আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। এ বছরের মে মাসে সেই নিয়োগের পরীক্ষা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই বাইরের একটি সংস্থা এই পরীক্ষা নিয়েছিল। তারপরেই বিক্ষোভ শুরু করে একটি ছাত্র সংগঠন। তাদের দাবি, চাকরিতে নিয়োগে তাদের সংগঠনের সদস্যদের প্রাধান্য দিতে হবে। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় তাতে সম্মতি জানায়নি। এরপর থেকে লাগাতার বিক্ষোভ করছে ছাত্র সংগঠন। সেই কারণে গত ১৮ জুলাই থেকে বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের দফতরে পর্যন্ত যেতে পারছেন না উপাচার্য।

উপাচার্য জানিয়েছেন, এর আগে তিনি গত ১০ জুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় চিঠিটি দিয়েছেন ১৮ জুলাই। তিনি জানিয়েছেন, বিধায়ক অতীন ঘোষ এবং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে এ বিষয়ে তিনি অবগত করেন। তাঁরা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও কোনও লাভ হয়নি। সেই কারণে তিনি বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন। উপাচার্যের বক্তব্য, শাসকদলের ঘনিষ্ঠরাই এ নিয়ে বিক্ষোভ করছে। তাই তিনি পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।

এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়। তিনি বলেন, উপাচার্যকে কাজে বাধা দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। এর ফলে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। আশা করি মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেবেন।’ অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে একেবারেই শিক্ষার পরিবেশ নেই। শুধুই তোলাবাজি পরিবেশ। যার ফলে শিক্ষার কঙ্কালসার অবস্থা।’

বন্ধ করুন