বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > 'বিবেকানন্দকে ভুল ভাবে উচ্চারণ করা হয়, এটা আমাদের অসনমান নয়?'
বাঁ দিকে সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডান দিকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মোতেরা স্টেডিয়ামে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বাঁ দিকে সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডান দিকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মোতেরা স্টেডিয়ামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

'বিবেকানন্দকে ভুল ভাবে উচ্চারণ করা হয়, এটা আমাদের অসনমান নয়?'

  • মমতার দাবি, ‘বিবেকানন্দকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, উচ্চারণ করা হয়। এটা আমাদের অসন্মান নয়? দেশকে অসনমান করা হচ্ছে।‘

ফের একবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোষানলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের পুরভোটের প্রস্তুতি সভা থেকে ‘বিবেকানন্দ’-এর নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে হোঁচট খাওয়ায় ট্রাম্পকে বিঁধলেন তিনি। প্রশ্ন তুললেন, ‘এটা আমাদের অসনমান নয়?’

এদিন মমতা বলেন, ‘মনে আছে? ঈশ্বরচন্দ্রের মূর্তি ভেঙেছিল কারা? বিবেকানন্দের নাম ভুল বলছে। বিবেকানন্দ আমার দেশের মণিষী। হিন্দু ধর্মের উদ্গাতাও বলা যায়। বিবেকানন্দ, কথাটার উচ্চারণ দেখেছেন? আমি তো ট্রাম্পকে দোষ দিই না। দোষ আমাদের। আমরা ভাল করে বোঝাতে পারিনি। আমরা বিবেকানন্দের উচ্চারণ শেষাতে পারিনি। আমরা বিবেকানন্দের কথা ঠিকমতো বোঝাতে পারিনি। তাই গান্ধীজির কথা বলতে ভুলে যায়...’

মমতার দাবি, ‘বিবেকানন্দকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, উচ্চারণ করা হয়। এটা আমাদের অসন্মান নয়? দেশকে অসনমান করা হচ্ছে।‘

সরকারি সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে এহেন আক্রমণ কতটা সমীচিন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সমালোচনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভাষা ও উচ্চারণবিদরাও। তাদের কথায়, বাংলা ও ইংরাজি ভাষার উচ্চারণশৈলী সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলা বর্ণমালার বেশ কিছু বর্ণ ইংরাজি ভাষায় উচ্চারিত হয় না। যেমন বাংলার ‘দ’ ও ‘ত’-এর উচ্চারণ ইংরাজি উচ্চারণে নেই। বদলে ‘ড’ ও ‘ট’ উচ্চারণ করেন ব্রিটিশরা। এছাড়া ইংরাজি বর্ণমালায় যুক্তাক্ষরের ধারণাও অমিল। মোতেরা স্টেডিয়ামে সেদিন টেলি প্রম্পটার দেখে ভাষণ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প সাহেব। সম্ভবত ‘দ’ –এর উচ্চারণ ও যুক্তাক্ষর একই বর্ণে থাকায় বিবেকানন্দ উচ্চারণ করতে গিয়ে আটকে যান তিনি।

তবে এবারই প্রথম নয়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ভারত ছাড়তেই এক কবিতায় নাম না করে তাঁকে নিশানা করেন মমতা। লেখেন, 'এলেন, বললেন, চলে গেলেন আমার মাতৃভূমি জ্বলতে থাকল। সেদিনও মমতার এই প্রশ্ন ঘিরে পালটা প্রশ্ন উঠেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান সরকারি সফরে এসে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন কি? তাহলে ট্রাম্পের কাছে কী প্রত্যাশা করেছিলেন মমতা।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৬ ঘণ্টার ভারত সফরে প্রতি পদে মোদীকে প্রশংসায় ভরিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকী সবরমতী আশ্রম ভ্রমণের পর ভিজিটরস বুকে গান্ধীজিকে নিয়ে লেখার বদলে মোদীকে ধন্য়বাদ দিয়ে এসেছেন তিনি। যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে দেশজুড়ে। আর ট্রাম্পের এই বাড়তি মোদী-প্রীতিই তাঁকে মমতার চক্ষুশূল করে তুলেছে।



বন্ধ করুন