বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > নারী প্রগতির পথে আরও ২ ধাপ, দল ও প্রশাসনে মহিলাদের গুরুত্ব বাড়াতে উদ্যোগী মমতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নারী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সমাজে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। ছবি: এএনআই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নারী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সমাজে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। ছবি: এএনআই।

নারী প্রগতির পথে আরও ২ ধাপ, দল ও প্রশাসনে মহিলাদের গুরুত্ব বাড়াতে উদ্যোগী মমতা

  • নারীশক্তির বিকাশ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পাখির চোখ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। মহিলা ভোটারদের আকর্ষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই তৃণমূল সুপ্রিমো ঘোষণা করেছেন, রাজ্য পুলিশে লিঙ্গ বৈষম্যের অবসান ঘটানো হবে। অন্য এক ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের ৭০,০০০ বুথে পৌঁছে এলাকার কমপক্ষে ২০ জন মহিলার সঙ্গে কথা বলে দলের উন্নয়নমূলক উদ্যোগের বিষয়ে সচেতন করবেন তৃণমূলের নারী কর্মীরা।

বাংলার মসনদে বসার পর থেকে নারী উন্নয়ন তৃণমূল সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বখ্যাত ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প-সহ সামগ্রিক নারী উন্নয়নের পথে একাধিক প্রকল্পের রূপায়ণ করেছে মমতার সরকার। কিন্তু রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি নিয়ে সাম্প্রতিক সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের মুখ হয়ে উঠেছেন সেই মহিলারাই।

জাতীয় বিজেপি সম্পাদক রাহুল সিনহার অভিযোগ, ‘মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে কিছু দিন আগে তৃণমূল শুরু করেছিল ‘দিদিকে বল’ উদ্যোগ। কিন্তু এখন সরকারের মুখোশ খুলে গিয়েছে এবং মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রশাসনের আসল চেহারা দেখতে পেয়েছে। তাই তাঁকে নিজেদের অভিযোগের বিষয়ে কেউ কিছু জানাচ্ছেন না। পরিবর্তে রেশন দুর্নীতি ও আমফান ত্রাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঝাঁটা হাতে রাস্তায় নেমেছেন মানুষ। এই কারণেই তৃণমূল আবার নাটক শুরু করেছে।’

২০১৯ সালের লোক সভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৬.৯৮ কোটি ভোটারের মধ্যে ৪৮% অর্থাৎ ৩.৩৯ কোটি মহিলা। নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীদের ৪১ শতাংশও ছিলেন মহিলা। ২০১১ সালের নির্বাচনে দলের ৩১ জন প্রার্থী ছিলেন মহিলা। ২০১৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫। পাশাপাশি, সেই নির্বাচনে বিজেপি-র ৩১ জন প্রার্থী ছিলেন মহিলা, সিপিএম-এর ১৯ ও কংগ্রেসের ৮ জন মহিলা প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 

রাজ্যের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তথা তৃণমূলের মুখপাত্র তাপস রায় জানিয়েছেন, ‘বিক্ষোভে মহিলাদের প্রথম সারিতে দেখতে পাওয়া সদর্থক চিহ্ন। বাম আমলে আমরা কখনও মহিলাদের প্রতিবাদের প্রথম সারিতে দেখিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের কণ্ঠস্বর জোরালো করেছেন এবং প্রতিবাদের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছেন। ওঁদের সরকারের উপরে আস্থা রয়েছেআর সেই কারণেই দলে দলে মহিলারা পথে নেমে আজ আমাদের ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন। আমরা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছি।‘

তৃণমূলের দাবি, তাদের শাসনকালে নারীশক্তির উন্মেষ ঘটেছে এবং মহিলা উন্নয়নে সামগ্রিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী বিজেপি-র অভিযোগ, মুখে বললেও কার্যক্ষেত্রে নারী উন্নয়নে কোনও কাজ করেনি শাসকদল। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের নারী উন্নয়নমূলক যাবতীয় উদ্যোগ সমাজে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রভাব ফেলেছে।

বঙ্গবাসী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘কন্যাশ্রী প্রকল্প দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলের সমস্ত উদ্যোগই সব সময় সুফলদায়ী হবে, তা হয় না। কিন্তু তার বৃহত্তর প্রভাব সমাজের উপরে পড়বেই।’ 

বন্ধ করুন