বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > অমিত শাহের রোড শো–র পাল্টা ‘‌রাঙামাটির মিছিল’‌, ২৮–২৯ ডিসেম্বর বীরভূম সফরে মমতা
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি (PTI)
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি (PTI)

অমিত শাহের রোড শো–র পাল্টা ‘‌রাঙামাটির মিছিল’‌, ২৮–২৯ ডিসেম্বর বীরভূম সফরে মমতা

  • অমিত শাহের রোড শো–র পাল্টা ২৯ ডিসেম্বরে বীরভূমে মমতার জনসভা তৃণমূলের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ হয়েই দাঁড়িয়েছে। যদিও বীরভূমে জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের র‌্যালিতে আড়াই লাখ মানুষের জমায়েত হবে।

‌অমিত শাহের সফরের পর এবার লালমাটিতে পাল্টা জনসভা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলা ছাড়ার পরের দিনই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানালেন তিনি। ২৮ তারিখ থেকে দু’‌দিনের সফরে বীরভূমে যাচ্ছেন মমতা। ২৮ ডিসেম্বর, সোমবার সেখানে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। আর তার পরের দিন মঙ্গলবার থাকছে তাঁর নির্বাচনী জনসভা।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকের মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘‌আমি ২৮ তারিখে বীরভূম যাব। ২৮ তারিখে সেখানে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে একটা সাংবাদিক বৈঠকও করার কথা রয়েছে। ২৯ তারিখ দুপুরে র‌্যালি করব। কেষ্টরা (‌অনুব্রত মণ্ডল)‌ ঠিক করবে। আমি বেলা দেড়টায় যাব। ওরা বোধহয় বেলা ১২টা থেকে জমায়েত করবে।’‌

রবিবার বোলপুরে বিশাল রোড শো–তে মানুষের উৎসাহ দেখে অমিত শাহ স্বীকার করেন তাঁর জীবনে তিনি এমন রোড শো দেখেননি। তাঁর কথায়, ‘‌বিজেপি–র সর্বভারতীয় সভাপতি থাকাকালীন আমি বহু রোড শো দেখেছি। নিজেও করেছি। কিন্তু এমন রোড শো আমি জীবনে দেখিনি।’‌ তিনি দাবি করেন, ‘‌মমতাদিদির প্রতি বাংলার মানুষের যত ক্ষোভ রয়েছে তার প্রমাণ এই রোড শো।’‌

স্বাভাবিকভাবেই অমিত শাহের রোড শো–র পাল্টা ২৯ ডিসেম্বরে বীরভূমে মমতার জনসভা তৃণমূলের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ হয়েই দাঁড়িয়েছে। যদিও বীরভূমে জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের র‌্যালিতে আড়াই লাখ মানুষের জমায়েত হবে। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‌বিজেপি–র মতো অন্য জেলা থেকে লোক নিয়ে এই র‌্যালি করা হবে না।’‌

রবিবার বীরভূমে পা রেখে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন অমিত শাহ। শুনেছেন রবীন্দ্রসঙ্গীত। ঘুরে দেখছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাসস্থান। বলেছেন, ‌‘‌‌আমি এটা মন থেকে মানি, নোবেল পুরস্কার গুরুদেবের লেখা কবিতাকে স্বীকৃতি দেয়নি, বরং গুরুদেবকে সম্মানিত করে নোবেল সংস্থা নিজেকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’‌ ‌আর একইসঙ্গে তাঁর সফরের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে শান্তিনিকেতনে ছড়িয়ে পড়া একটা ফ্লেক্সকে কেন্দ্র করে। যাতে দেখা গিয়েছে, অমিত শাহের ছবির নীচে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি, আর তার নীচে বিজেপি নেতা অনুপম হাজরার ছবি।

এর আগে বিজেপি–র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার সফরে তিনি বলেছিলেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাসস্থান শান্তিনিকেতন। তা নিয়েও বিতর্কের জল বহু দূর গড়িয়েছে। ওদিকে, জাতীয় সঙ্গীত ‘‌জনগণমন’‌–র পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ হেন ‘‌অবমাননা’‌কে সামনে রেখেই ২৯ ডিসেম্বর বীবভূমে মমতা জনসভা করবেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‌রবীন্দ্রসংস্কৃতি আমাদের গর্ব— এর ওপরে সভা হবে। মাটির মানুষদের নিয়ে মিছিল হবে। রাঙামাটির মিছিল।’‌

বন্ধ করুন