বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > বাজেট অধিবেশনের আগে রাজ্যপালের মান ভাঙাতে হেলিকপ্টার দেবে রাজ্য
সোমবার সন্ধ্যায় রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অমিত মিত্র
সোমবার সন্ধ্যায় রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অমিত মিত্র

বাজেট অধিবেশনের আগে রাজ্যপালের মান ভাঙাতে হেলিকপ্টার দেবে রাজ্য

  • এর পর জেলা সফরের জন্য রাজ্যের কাছে হেলিকপ্টার চান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সেই আবেদন খারিজ করে দেয় রাজ্য সরকার।

চাপের মুখে অবশেষে রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্যের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। এই প্রথম রাজ্য সরকারের কাছে হেলিকপ্টার চেয়ে পেলেন জগদীপ ধনখড়। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি হেলিকপ্টারে বিশ্বভারতীতে যাবেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় রাজভবনে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন। তার পরই রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যপালকে হেলিকপ্টার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পিছনে রয়েছে অন্য গল্প।

এরাজ্যের দায়িত্বে আসার পর থেকেই রাজ্য – রাজ্যপাল বিবাদ চরমে পৌঁছেছে। সরকারের দাবি, রাজ্যপাল নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। পালটা রাজ্যপালের দাবি, সরকারের তরফে তাঁকে পদে পদে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। কলকাতায় এসেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনিক বৈঠক ডাকেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজভবনের তরফে আয়োজন করা হয় বৈঠকগুলি। তাতে সময় মতো রাজ্যপাল পৌঁছলেও দেখা মেলেনি কোনও প্রশাসনিক আধিকারিকের। অভিযোগ, নবান্নের নির্দেশেই রাজ্যপালকে এড়িয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। এই নিয়ে শুরু হয় ২ পক্ষের চাপানউতোর।

এর পর জেলা সফরের জন্য রাজ্যের কাছে হেলিকপ্টার চান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সেই আবেদন খারিজ করে দেয় রাজ্য সরকার। এসে দুপক্ষের সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়ে। এর মধ্যে প্রায় রোজই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

সম্প্রতি বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান পুলিশরে ডিজি বীরেন্দ্র ও আইজি আইন-শৃঙ্খলা জ্ঞানবন্ত সিং। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে সম্পর্কে আরেকটু উষ্ণতা যোগ হয়। সেদিন সকালে রেড রোডে মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনের চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল। আগে বহুবার রাজ্যপালের আমন্ত্রণ ফেরালেও সেদিন সন্ধ্যায় রাজভবনে হাজির হন মমতা।

রবিবার রাজভবনে যান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মূলত বিধানসভার অধিবেশন নিয়ে দুজনের কথা হয়। এর পরই গতকালের বৈঠকে সমঝোতায় আসে দুপক্ষ।

যদিও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিধানসভায় অস্বস্তি এড়াতেই রাজ্যপালের সঙ্গে সৌহার্দ্যের পথে আসতে চাইছে রাজ্য সরকার। কারণ, বিধানসভার অধিবেশন শুরু হয় রাজ্যপালের ভাষণ দিয়ে। আর সেই ভাষণ লেখে রাজ্য সরকার। আসন্ন বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপাল রাজ্যের তৈরি করা ভাষণ পড়তে অস্বীকার করলে, বা নিজের কোনও বক্তব্য তাতে সংযোজন করলে অস্বস্তিতে পড়তে হতে পারে সরকারকে। সেই সম্ভাবনা নির্মূল করতেই রাজ্যপালকে হেলিকপ্টার দেওয়ার উদ্যোগ।



বন্ধ করুন