বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > সংবিধান মেনে চলুন:‌‌ মমতা, রাজ্য সরকারকে ‘‌লাস্ট ওয়ার্নিং’ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের
রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। ফাইল ছবি
রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। ফাইল ছবি

সংবিধান মেনে চলুন:‌‌ মমতা, রাজ্য সরকারকে ‘‌লাস্ট ওয়ার্নিং’ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের

  • রবিবার সন্ধে ৭টা নাগাদ পুলিশি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে মৃত বিজেপি কর্মী মদন ঘোড়ুইয়ের পরিবারকে নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপি–র সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গের আইন–শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এই অভিযোগ তুলে রবিবার রাতে রাজ্য সরকারকে ‘‌লাস্ট ওয়ার্নিং’‌ অর্থাৎ শেষবারের মতো সাবধান করে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি এদিন বলেন, ‘‌আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই, সংবিধান মেনে চলুন। আমি সংবিধান রক্ষা করতেই রাজ্যে এসেছি। কিন্তু অনেকে আগুন নিয়ে খেলছে। তাঁরা (‌সরকারি আমলা ও পুলিশ)‌ রাজনৈতিক কর্মী নন, তাই রাজনৈতির কর্মীর মতো আচরণ করা তাঁদের ঠিক হচ্ছে না। যারা কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমোচ্ছেন তাঁদের হয়তো মনে নেই যে নিয়তি বলেও কিছু আছে।’‌ এর পরই রাজ্যপাল বলেন, ‘‌এটাই আমার লাস্ট ওয়ার্নিং।’‌

রবিবার সন্ধে ৭টা নাগাদ পুলিশি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে মৃত বিজেপি কর্মী মদন ঘোড়ুইয়ের পরিবারকে নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপি–র সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। ওই পরিবার বিজেপি নেতানেত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই রাজ্য সরকারকে সাবধানবানী দিয়েছেন রাজ্যপাল। উল্লেখ্য, রাজভবনের প্রবেশ পথের সিঁড়ির কাছে এদিন অন্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার সময় মৃত বিজেপি কর্মীর ভাই স্বপন ঘোড়ুই হঠাৎ মাখা ঘুরে পড়ে যান। তা দেখে রাজ্যপাল সিঁড়ি বেয়ে নেমে দ্রুত নেমে আসেন। স্বপনবাবু নিজেকে কিছুটা সামলে নিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যপাল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে এদিন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বলেন, ‘‌ভাববেন না যে আপনি রাজ্যপালকে ট্রোল করে থামিয়ে দিতে পারবেন। এটিই শেষ সতর্কতা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজ্যকে যে কোনও অবস্থানের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’‌ রবিবার রাতে এক টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, ‘‌পুলিশি হেফাজতে ভাই মদন ঘোড়ুইয়ের মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শোকার্ত দাদা স্বপন ঘোড়ুই। সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিংদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।’‌ টুইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে রাজ্যপাল লেখেন, ‘‌রাজ্যে অনাচার ও অরাজকতা চলছে।’‌

ঘটনাক্রমে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‌পশ্চিমবঙ্গে আইন–শৃঙ্খলা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলার বিজেপি নেতারা যে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি করছেন, তার পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে বলেই আমার মনে হয়।’‌ কেন্দ্র সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর ধারা কার্যকর করবে কিনা তা জানতে চাইলে অমিত শাহ এদিন বলেন, ‘‌কেন্দ্র সবসময় আইন ও সংবিধান অনুসরণ করে চলে।’‌

অমিত শাহর এ হেন মন্তব্যের ব্যাপারে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‌বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি একটি কৌশল। এঠা প্রমাণিত যে তৃণমূল এখন বিজেপি–র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। অমিত শাহ তাদের একটি সেফ প্যাসেজের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর ধারা নিয়ে ছেলেখেলা করছে কেন্দ্র। আমরা কোনও সেফ প্যাসেজ চাই না।’‌

উল্লেখ্য, ভাইপো কিশোর ঘড়ুইয়ের প্রণয়ঘটিত একটি ঘটনায় কাকা মদন ঘোড়ুইকে ২৭ সেপ্টেম্বর পটাশপুর থানার পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। জেল হেফাজতে থাকাকালীন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল, পরে সেখান থেকে এসএসকেএম হাসাপতালে নিয়ে আসা হয়। ১৩ অক্টোবর সেখানে মারা যান এই বিজেপি কর্মী। এই ঘটনায় তৃণমূল জড়িত রয়েছে— এই অভিযোগ তুলে বিজেপি হাইকোর্টে মামলা করে। তার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মৃতের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তার ভিডিওগ্রাফি আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে হাইকোর্টে।

বন্ধ করুন