বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‘‌ক্ষমা চাইলে আপনারই সম্মান বাড়বে, আপনি সংবিধান থেকে সরলে আমার দায়িত্ব শুরু হবে’
জগদীপ ধনখড় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
জগদীপ ধনখড় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

‘‌ক্ষমা চাইলে আপনারই সম্মান বাড়বে, আপনি সংবিধান থেকে সরলে আমার দায়িত্ব শুরু হবে’

  • মুখ্যমন্ত্রীর বহিরাগত তত্ত্বের বিরোধীতায় রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান বলেন, ‘‌দেশের নাগরিকদেরই বহিরাগত বলছেন মুখ্যমন্ত্রী! ভারত এক দেশ, সব নাগরিক সমান। আপনি সংবিধান থেকে সরলে আমার দায়িত্ব শুরু হবে।’‌

বিজেপি–র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। ইতিমধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজি–কে তলব করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যে রিপোর্টের ভিত্তিতে এই তলব সেটি পাঠিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এর পরই শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। আর সেখানেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। বললেন, ‘‌দয়া করে আগুন নিয়ে খেলবেন না। আপনি সংবিধান থেকে সরলে আমার দায়িত্ব শুরু হবে।’‌

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ছেড়ে কথা বলেননি রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ‘‌ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের আচরণ সংবিধানের পক্ষে অবমাননাকর। যা ঘটল তা গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জাজনক। ডায়মন্ড হারবারের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে।’‌ মানবাধিকার দিবসের দিন এমন ঘটনা ঘটায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন জগদীপ ধনখড়। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এদিন তাঁর বার্তা, ‘‌একজন দায়িত্বশীল মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে এমন ভাষা প্রয়োগ করেন!‌ ক্ষমা চাইলে ওঁরই সম্মান বাড়বে।’‌

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কোন ‘‌ভাষা’‌র কথা এখানে বলেছেন রাজ্যপাল?‌ নড্ডার কনভয়ের ওপর হামলাকে ‘‌ছোট ঘটনা’‌ বলে বৃহস্পতিবার মমতা বলেছিলেন, ‘‌তোমার পিছনে ৫০টা গাড়ি কেন যায়? তার মধ্যে বাইকের কনভয় আবার ৪০টা। তা হলে কে দেখছিল রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে? তার মানে কি প্ল্যান করা ছিল? গাড়ির কাচে ইট এসে পড়ছে। কিন্তু সেটা কে দেখল? ছবিটা কী করে তুলল, ভিডিওটাই বা হল কী করে?‌ ইউ আর সো স্মার্ট। মনে হচ্ছে স্যাটালাইট থেকে কাজ করছে’

রাজ্য–রাজ্যপাল সঙ্ঘাত নতুন নয়। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপাল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সতর্ক করছেন। এদিনই একইভাবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‌দুর্নীতি এবং পক্ষপাতমূলক আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এই রাজ্যে। বহু চিঠি দিয়েছি মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু একটারও জবাব আসেনি।’‌ মুখ্যমন্ত্রীকে সংবিধান মেনে চলার কথাও এদিন বলেছেন রাজ্যপাল। তাঁর অভিযোগ, ‘‌রাজ্যে চারিদিকে দুর্নীতি হচ্ছে। প্রতিবাদ দেখাতে পারছেন না বিরোধীরা। বিরোধীদের কার্যকলাপ নৃশংসভাবে দমন করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে রিপোর্ট পাঠিয়ে জানিয়েছি। এমন ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না।’‌

বৃহস্পতিবারই ১০ বছরের উন্নয়নের কাজের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তার কটাক্ষ করে এদিন রাজ্যপাল বলেন, ‘‌১০ বছরের কৃতিত্ব দাবি করছেন। আমার চিঠির জবাবটা আগে দিন।’‌ তাঁর প্রশ্ন, ‘‌১২ লক্ষ কোটির বিনিয়োগ কোথায়? মাটির নীচে না ওপরে?‌ সমুদ্রের গভীরে নাকি আকাশে? কোথায় বিনিয়োগ? কে বিনিয়োগ করছে?’‌ মুখ্যমন্ত্রীর বহিরাগত তত্ত্বের বিরোধীতায় রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান বলেন, ‘‌দেশের নাগরিকদেরই বহিরাগত বলছেন মুখ্যমন্ত্রী! ভারত এক দেশ, সব নাগরিক সমান। আপনি সংবিধান থেকে সরলে আমার দায়িত্ব শুরু হবে।’‌

এর আগেও টুইটে রাজ্যের সরকারি কর্মী, আমলাদের রাজনৈতিক দলের কর্মীর সঙ্গে তুলনা করেছেন রাজ্যপাল। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, এমন ২১ জন আমলার নামের তালিকা তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘‌ওই সব আমলা সরকারি চাকরি না করে কোনও এক রাজনৈতিক দলের কর্মীর মতো আচরণ করছেন।’‌ তাঁর প্রশ্ন, ‘‌রাজ্যের উপদেষ্টার কাজটা কী? অবসরের পরেও কেন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে? এডিজি আইনশৃঙ্খলা নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত।’‌

বন্ধ করুন