বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‌রবীন্দ্র সরোবরেই ছটপুজো, রাজ্যের আবেদনে চিন্তায় পরিবেশবিদরা, কটাক্ষ বিজেপি–র
রবীন্দ্র সরোবরে ভেসে ওঠা কচ্ছপের দেহ। পাশে, চলছে ছটপুজো। ছবি : সংগৃহীত
রবীন্দ্র সরোবরে ভেসে ওঠা কচ্ছপের দেহ। পাশে, চলছে ছটপুজো। ছবি : সংগৃহীত

‌রবীন্দ্র সরোবরেই ছটপুজো, রাজ্যের আবেদনে চিন্তায় পরিবেশবিদরা, কটাক্ষ বিজেপি–র

  • নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ২০১৯–এর নভেম্বরে ছটপুজোর সময় বন্ধ গেট জোর করে খুলে সরোবরে ঢুকে পড়ে বহু মানুষ। সঙ্গে নিয়ে আসে ঢোলতাসা, বাজনা। ফাটানো হয় দেদার শব্দবাজি।

কলকাতার অন্যতম ফুসফুস রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে অনেক আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতীয় পরিবেশ আদালত। কিন্তু এই বছর সেই নিষেধাজ্ঞা তুল দিতে জাতীয় পরিবেশ আদালতের কাছেই আর্জি জানালো কলকাতা মেট্রোপলিট্যান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (‌কেএমডিএ)‌। ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ওই আবেদনের শুনানি হবে।

যদিও এই পদক্ষেপের ব্যাপারে রাজ্যের বিরোধীদলের কটাক্ষ, ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রাজ্যের হিন্দিভাষী লোকজনের মন জেতার আর এক চেষ্টা করছে তৃণমূল। যদিও এর জেরে চরম উদ্বিগ্ন রাজ্যের পরিবেশকর্মী ও সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আন্দোলনে সাড়া দিয়েই ২০১৮ সালে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জাতীয় পরিবেশ আদালত। প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত খোদ এই আবেদন জানিয়েছিলেন। এর আগে তাঁরা বহু দিন ধরে চলে আসা এই প্রথা বন্ধ করতে কলকাতা হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

১৯২ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত রবীন্দ্র সরোবরে ৭ হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক আমফান ঘূর্ণিঝড়ে এর অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবুজ ঘেরা এই কৃত্রিম হ্রদ ও গাছগাছালি পাখিদের স্বর্গরাজ্য। প্রায় ২০০ প্রজাতির পশুপাখি এখানে বাস করে। বছরের বিভিন্ন সময়ে সরোবরে ভিড় করে পরিযায়ী পাখিরা। যাদের দেখতে দূর–দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পক্ষীপ্রেমী মানুষজন। এর বিশাল ঝিলে বিভিন্ন প্রকারের মাছও রয়েছে।

উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ২০১৯–এর নভেম্বরে ছটপুজোর সময় বন্ধ গেট জোর করে খুলে সরোবরে ঢুকে পড়ে বহু মানুষ। তাদের জন্য কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পুকুর বা জলাশয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ছটপুজো করার সুষ্ঠু আয়োজন করা হয়। কিন্তু সে সব সুবিধা এড়িয়ে তারা ভিড় করে রবীন্দ্র সরোবরে। সঙ্গে নিয়ে আসে ঢোলতাসা, বাজনা। ফাটানো হয় দেদার শব্দবাজি। এই ঘটনাকে ঘিরে সে বার মারাত্মক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সরোবরের বাসিন্দা এক কচ্ছপের দেহ ভেসে ওঠার পরে বিতর্ক আরও বাড়ে। মাছের মড়কও দেখা দেয়।

কেএমডিএ–র এক আধিকারিক নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলেন, ‘‌মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। পুলিশও কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেনি কারণ মহিলারাই ছটপুজোর রীতিনীতি পালন করেন। এই বছর ২০ নভেম্বরে ছটপুজো। আমরা তাই শুধুমাত্র এই বছরের জন্য রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছি জাতীয় পরিবেশ আদালতের কাছে।’‌

প্রায় ৩ দশক ধরে সবুজ বাঁচিয়ে রাখতে আন্দোলন করে যাচ্ছে ‘‌পাবলিক’‌ নামে এক সংস্থা। তার কর্ণধার বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী বনানী কক্কর এ ব্যাপার বলেন, ‘‌আমি তো অবাক হয়ে যাচ্ছি। সরকার কীভাবে প্রকৃতি ধ্বংস করার অনুমতি দিতে পারে?‌’‌ একইসঙ্গে তিনি জানান, ‘জাতীয় পরিবেশ আদালতে কেএমডিএ–র করা আর্জির পাল্টা মামলা করারও উপায় নেই। কারণ হাতে সময় খুবই কম।’‌

১৯২০ সালে ব্রিটিশদের হাতে গড়ে ওঠা এই রবীন্দ্র সরোবরকে জাতীয় সরোবর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কলকাতার ফুসফুসেক একটি দিক হল এই সরোবর, আর একটি দিক ময়দান। এখানে দেখতে পাওয়া নানা প্রজাতির পাখিগুলির মধ্যে রয়েছে কটন পিগমি গুজ, লার্জ–বিল্ড লিফ ওয়ার্বলার, টিক্কেল্‌স লিফ ওয়ার্বলার, ব্লাক–হেডেড কুক্কুস্রাইক এবং স্লটি–ব্লু ফ্লাইক্যাচার।

এ ব্যাপারে কোনও তৃণমূল নেতা কোনও মন্তব্য না করতে চাইলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করার সুযোগ ছাড়েননি রাজয় বিজেপি–র সহ সভাপতি রীতেশ তিওয়ারি। তিনি বলেন, ‌‘‌হিন্দিভাষী মানুষের ভাবাবেগ বুঝতে ৯ বছর সময় লেগে গেল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। একটি বিশেষ ‘‌অতিবাঙালি’‌ দল যখন প্রকাশ্যে হিন্দীভাষী লোকজনকে কটূ কথা বলে অপমান করছে তখন কোথায় থাকে সরকার?‌’‌

ঘটনাক্রমে, সোমবার হিন্দি দিবসের দিন হিন্দি সেলকে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। পুনর্গঠিত হিন্দি সেলকে কাজের বিস্তার অনুযায়ী তিন স্তরের কাঠামোতে ভাগ করা হয়েছে। রাজ্য স্তরের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি, জেলা স্তরের কমিটি এবং ব্লক স্তরের কমিটিতে এবার থেকে কাজ হবে।

বন্ধ করুন