বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > বাংলায় শান্তিতে রয়েছে শিখ সম্প্রদায়, পাগড়ি বিতর্কে টুইট–বিবৃতি স্বরাষ্ট্র দফতরের
বলবিন্দর সিং
বলবিন্দর সিং

বাংলায় শান্তিতে রয়েছে শিখ সম্প্রদায়, পাগড়ি বিতর্কে টুইট–বিবৃতি স্বরাষ্ট্র দফতরের

  • দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‌সাধারণ মানুষ, সারা দেশের লোকজন সংবাদমাধ্যম সেদিনের ঘটনার সবটা দেখেছে। রাজ্য যতই টুইট করুক, নিজের দোষ চাপানো যাবে না।’‌

বিজেপি–র ‘‌নবান্ন চলো’‌ অভিযান চলাকালীন বলবিন্দর সিং নামে এক শিখ যুবকের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে তাঁর পাগড়ি খুলে যায়। শিখ সম্প্রদায়ের কাছে পাগড়ি খুলে দেওয়া গর্হিত অপরাধ। সেটা যে ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়নি তা বোঝাতে ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেদিনের ভিডিও পোস্ট করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ। বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে ঘটনার আকস্মিকতায় আচমকাই খুলে পড়ে গিয়েছে পাগড়ি। এবার এই ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিল রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর।

রবিবার টুইটারে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘‌আমাদের শিখ ভাই–বোনরা শান্তি এবং সম্প্রীতির আবহে পশ্চিমবঙ্গে বাস করেন। তাঁদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি রাজ্যের সকল মানুষেরই সমান শ্রদ্ধা রয়েছে। সম্প্রতি এক বেআইনি বিক্ষোভের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে থাকা এক ব্যক্তির কাছ থেকে অনুমোদনহীন আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, প্রসঙ্গের বাইরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে। বিকৃত করা হচ্ছে ঘটনাটিকে। কট্টরপন্থী ও পক্ষপাতদুষ্ট স্বার্থে এই ঘটনার ওপর সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া হচ্ছে। এক বিশেষ রাজনৈতিক দল নিজেদের ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিচ্ছে। পুলিশ আইনমাফিক কাজ করেছে। শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে।’‌

স্বরাষ্ট্র দফতরের দফতরের এই টুইট প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‌সাধারণ মানুষ, সারা দেশের লোকজন সংবাদমাধ্যম সেদিনের ঘটনার সবটা দেখেছে। রাজ্য যতই টুইট করুক, নিজের দোষ চাপানো যাবে না।’‌ বিজেপি–র কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা বলেন, ‘‌আমার মনে হয়, সারা ভারতবর্ষে এই প্রথম কোনও শিখ ধর্মালম্বী ব্যক্তি যিনি কর্মরত অবস্থায় ছিলেন তাঁকে প্রকাশ্যে এভাবে হেনস্থা করা হল। লজ্জা হয় এই ভেবে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিখদের ওপর এমন আক্রমণ করালেন।’‌

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর পুলিশ বলবিন্দর সিং নামে ওই যুবককে হেফাজতে নিলে জানতে পারে, তিনি বিজেপি–র যুব মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য প্রিয়াঙ্গু পান্ডের দেহরক্ষী। রাজ্য বিজেপি–র দাবি, বলবিন্দরের কাছ থেকে পাওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। তবে পরে জানা যায় সেই লাইসেন্স জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরির ও তার বাইরে এই পিস্তল ব্যবহার করা বা নিয়ে ঘোরার অধিকার তাঁর নেই। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সেদিনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পাগড়ি খুলে যাওয়া নিয়ে নিন্দায় সরব হয়েছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ, ক্রিকেটার হরভজন সিংরা।

বন্ধ করুন