জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ফাইল ছবি
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ফাইল ছবি

'আয়ুষ্মান ভারত'-এর পর কেন্দ্রের আরও ১টি প্রকল্পে মানা করল পশ্চিমবঙ্গ

খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, ‘ধান কেনায় দেশে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম। কিন্তু রাজ্যকে তার জন্য প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার।

‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর পর ফের একবার কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অসহযোগিতার পথে হাঁটল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, কেন্দ্রের ‘এক দেশ এক রেশন কার্ড’ প্রকল্পে যোগ দেবেন না তাঁরা। কেন্দ্রে সঙ্গে মতনৈক্যের জেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।

জুন মাস থেকে দেশের ১০টি রাজ্যে চালু হবে ‘এক দেশ এক রেশন কার্ড’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে দেশের যে কোনও জায়গায় একই রেশন কার্ড থেকে রেশন তুলতে পারবেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু করতে নারাজ রাজ্য সরকার।

খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, ‘ধান কেনায় দেশে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম। কিন্তু পশ্চমবঙ্গ তার জন্য প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। যার জেরে আমরা এই প্রকল্প থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

জ্যোতিপ্রিয়বাবু বলেন, আমাদের রাজ্যে খাদ্যসাথী প্রকল্প চালু রয়েছে। তার অধীনে সমস্ত মানুষকে বিলি করা হয়েছে ডিজিটাল রেশন কার্ড। যার জন্য খরচ হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। ওদিকে কেন্দ্রের কাছে প্রায় ৬০০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। সেই টাকা কেন্দ্র আগে মেটাক তার পর দেখা যাবে।

বলে রাখি, কেন্দ্রের এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছে একাধিক অবিজেপি শাসিত রাজ্যও। তার মধ্যে রয়েছে বাম শাসিত কেরল।

এর আগে কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পও চালু হতে দেয়নি রাজ্য সরকার। তার বদলে এরাজ্যে চালু হয়েছে স্বাস্থ্য সাথী। কিন্তু বিজেপির দাবি, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে সুযোগ সুবিধা আরও বেশি। সংকীর্ণ রাজনীতির জন্য রাজ্যের মানুষকে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পে যোগ দিলে সুবিধা হত রাজ্যবাসীরই। ভিনরাজ্যে কর্মরত এরাজ্যের লক্ষ লক্ষ বাসিন্দা সেখানে রেশন পেতেন। রাজ্যে শিল্প না থাকায় কাজের জন্য ভিনরাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা চরমে পৌঁছেছে। কাজ না দিতে পারলেও তাদের অন্তত রেশন পাওয়ার ব্যবস্থাটুকু করতে পারতেন মুখ্য়মন্ত্রী।


বন্ধ করুন