বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > আইপিএস–আইএএসদের বদলির নিয়ম কি?‌ বাংলায় ঘটেছে একাধিক ঘটনা
নবান্নে স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় 
নবান্নে স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় 

আইপিএস–আইএএসদের বদলির নিয়ম কি?‌ বাংলায় ঘটেছে একাধিক ঘটনা

  • তবে আইএএস কিংবা আইপিএস আধিকারিকদের নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্যের এই সংঘাত নতুন নয়। বরং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এই সাংবিধানিক সংকট বারবার তৈরি হয়েছে।

এখন রাজ্য–রাজনীতিতে চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে বাংলার মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি। আর তা নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত চরমে উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আদালতে যেতে পারে যুযুধান দু’পক্ষই। এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রের এই আচরণ কি সংবিধান পরিপন্থী? কেন্দ্র কি এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে?

তবে আইএএস বা আইপিএস আধিকারিকদের নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্যের এই সংঘাত নতুন নয়। বরং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এই সাংবিধানিক সংকট বারবার তৈরি হয়েছে। তাই এই সংকট এড়াতে সংবিধান এবং ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের রুল বুকে কয়েকটি নিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কী বলা হয়েছে? রুল বুকে উল্লেখ আছে, আইএএস বা আইপিএস আধিকারিককে ‘সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে’ ডাকা যেতেই পারে। আইএএস আধিকারিকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি দেখে কেন্দ্রের কর্মী এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক দফতর। যেটা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। ইন্দিরা গান্ধীর আমল থেকেই এটা হয়ে আসছে। যদিও এই বদলি নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর।

কি কি বিষয়ে উপর নির্ভর করে?‌ এক, আইএএস বা আইপিএস আধিকারিককের ‘এমপ্লয়মেন্ট অথরিটি’ অর্থাৎ তাঁকে যদি রাজ্যের অধীনে কর্মরত হতে হয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্র কোনও ব্যবস্থা নিতে পারে না। দুই, ১৯৬৯ সালের অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলসের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও আইএএস বা আইপিএস আধিকারিক যদি রাজ্যের অধীনে কর্মরত হন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে একমাত্র ব্যবস্থা নিতে পারে রাজ্য সরকার। তিন, রাজ্য অভিযোগ করলে বা বদলিতে সিলমোহর দিলে ওই আধিকারিককে বদলি করা যায়। চার, রাজ্যের অধীনে কর্মরত আইএএস–আইপিএস–আইএফএস আধিকারিকদের বদলি করার ক্ষেত্রে রাজ্য–কেন্দ্রকে সহমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে জল গড়াতে পারে আদালত পর্যন্তও। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, মুখ্যসচিবের বদলি নিয়ে কেন্দ্র সরকার আদালতে ক্যাভিয়েট করে রেখেছে।

একাধিক নজির রয়েছে এমন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের ধর্ণায় উপস্থিত থাকার জন্য তৎকালীন ডিজিপি বীরেন্দ্র–সহ আরও চার পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। বাংলার তৎকালীন মুখ্যসচিব মলয় কুমার দে–কে চিঠিও দিয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। একুশের নির্বাচনের আগে ফের চার আইপিএসকে সেন্ট্রাল ডেপুটেশনের নির্দেশ দেয় অমিত শাহের মন্ত্রক। বাংলায় এসে হামলার মুখে পড়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাংলার তিন আইপিএস আধিকারিককে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কিন্তু রাজ্য তাঁদের ছাড়েনি। আবার রাজীব কুমারের ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য কম বিরোধ হয়নি। রাজীব কুমারকে দিল্লি যেতে হয়েছিল।

বন্ধ করুন