বাঁ দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডান দিকে স্বাধীনতা সংগ্রামী ভূপেন্দ্রকুমার দত্ত।
বাঁ দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডান দিকে স্বাধীনতা সংগ্রামী ভূপেন্দ্রকুমার দত্ত।

সংসদে মোদীর মুখে যাঁর নাম, কে ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ভূপেন্দ্রকুমার দত্ত?

  • মায়ের কাছে রামায়ণের কাহিনী শুনতে শুনতে লক্ষণের চরিত্রটি পছন্দ হয় তাঁর। এর পর আজীবন ব্রহ্মচর্য পালনের শপথ নেন তিনি।

পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের নজির দিতে বৃহস্পতিবার লোকসভায় ২ বাঙালি হিন্দু স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিণতির কথা মনে করান প্রধানমন্ত্রী মোদী। নাম করেন ভূপেন্দ্রকুমার দত্ত ও যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের। কিন্তু কে ছিলেন ভূপেন্দ্রকুমার। কে-ই বা ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ। স্বাধীনতার পর দেশের জন্মমুহূর্তের সেই ইতিহাস বেদনার হলেও সত্যি।

এদিন মোদী বলেন, 'আমি কংগ্রেসের কাছে জানতে চাইব আপনারা কখনও ভূপেন্দ্রকুমার দত্তের নাম শুনেছেন? দেশভাগের পর যে ভাবে পাকিস্তানে হিন্দু, শিখ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে ভাবে অত্যাচার হয়েছে, জোর জবরদোস্তি হয়েছে, তা কল্পনাও করা যায় না। অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটিতে ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে ২৩ বছর জেলে থাকেন তিনি। ৭৮ দিন জেলে অনশন করেন।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশভাগের পর ভূপেন্দ্রকুমার দত্ত পাকিস্তানেই থেকে যান। সেখানে সংবিধান সভার সদস্য ছিলেন। সংবিধান তৈরির কাজ যখন চলছে তখন তিনি সংবিধান সভায় বলেন, সীমান্তের এপারে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। যাঁরা এখনো এপারে রয়েছি তারা অসম্ভব দ্বিধায় বাস করছি। এর পরে পাকিস্তানে পরিস্থিতি এত খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে তাঁকে ভারতে চলে আসতে হয়েছিল। ভারতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।'

ইতিহাসের পাতা উলটালে দেখা যায়, ১৮৯২ সালের ৮ অক্টোবর অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলার ঠাকুরপুর গ্রামে জন্ম হয়েছিল ভূপেন্দ্রকুমার দত্তের। মায়ের কাছে রামায়ণের কাহিনী শুনতে শুনতে লক্ষণের চরিত্রটি পছন্দ হয় তাঁর। এর পর আজীবন ব্রহ্মচর্য পালনের শপথ নেন তিনি।

স্কুলে পড়াকালীন অনুশীলন সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন ভূপেন্দ্রকুমার। যোগ দেন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে। বঙ্কিমচন্দ্র ও বিবেকানন্দের মুগ্ধ পাঠক ছিলেন তিনি। ১৯১১ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন ভূপেন্দ্রকুমার। সেখানে একাধিক সক্রিয় স্বাধীনতা সংগ্রামীর সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। তখনই বাঘা যতীনের নেতৃত্বে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর পর খুলনায় চলে যান ভূপেন্দ্রনাথ। যোগ দেন দৌলতপুর কলেজে। সঙ্গে খুলনা ও যশোরে বিপ্লবী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব বর্তায় তাঁর ঘাড়ে।

বাঘাযতীনের মৃত্যুর পর আত্মগোপন করতে হয় তাঁকে। এরই মধ্যে ১৯১৭ সালে একটি ডাকাতির মামলায় গ্রেফতার হন ভূপেন্দ্রকুমার। ১৯২০ সালে মুক্তি পান তিনি। কারাবন্দি অবস্থায় এক টানা ৭৮ দিন অনশন করেন তিনি। মুক্তির পর গান্ধীজির সঙ্গে দেখা করে কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯২৩ সালে ফের গ্রেফতার হন তিনি। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের সমর্থনে ‘ধন্য চট্টগ্রাম’ প্রবন্ধ লেখায় তাঁকে গ্রেফতার করে ৮ বছর কারারুদ্ধ করে রেখেছিল ব্রিটিশ সরকার।


বন্ধ করুন