বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > কেন সায়নী ঘোষকে যুব সভাপতি করা হল?‌ নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কাহিনী
সায়নী ঘোষ (ফাইল ছবি, ফেসবুক @SaayoniGhoshOfficial)
সায়নী ঘোষ (ফাইল ছবি, ফেসবুক @SaayoniGhoshOfficial)

কেন সায়নী ঘোষকে যুব সভাপতি করা হল?‌ নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অন্য কাহিনী

  • তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েই আসানসোলের প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারেও নজর কেড়েছিলেন সায়নী। দক্ষিণ আসানসোল কেন্দ্রে পড়ে থেকে প্রচার চালিয়েছিলেন তিনি। তবে ওই আসনে তিনি হেরে যান অগ্নিমিত্রা পালের কাছে।

যুব তৃণমূলের সভাপতির পদে দায়িত্বে আনা হল অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন যুব সভানেত্রী হলেন তিনি। মহিলা শাখার দায়িত্ব দেওয়া হল কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন সায়নী ঘোষকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হল?‌ অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু হয় বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েই আসানসোলের প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারেও নজর কেড়েছিলেন সায়নী। দক্ষিণ আসানসোল কেন্দ্রে পড়ে থেকে প্রচার চালিয়েছিলেন তিনি। তবে ওই আসনে তিনি হেরে যান অগ্নিমিত্রা পালের কাছে।

তাহলে তাঁকে কেন এই পদে আনা হল?‌ তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, অভিনেত্রী হিসাবে তিনি বিরাট নামডাক করতে পারেননি। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে পা রেখেই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি এতটাই সচেতন যে দলের সবার নজর কেড়েছিল। বিশেষ করে নজর কেড়েছিল ফায়ার ব্র‌্যান্ড লেডি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যিনি মাটির থেকে লড়াই করে উপরে উঠে এসেছেন। তিনি বুঝেছেন এই মেয়েকে দিয়েই যুব সংগঠনের কাজ সফল করা সম্ভব।

জানা গিয়েছে, এই পদে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকটা সিনিয়র। তাই যুবদের মধ্যে থাকা অনেকেই নিজেদের কথা বা অসুবিধার কথা বলতে সংকোচবোধ করতেন। কিন্তু সেখানে একজন মহিলাকে রেখে দিলে সেটা সহজ হয়ে যাবে। তার উপর নতুন প্রজন্ম দলে টানতে অভিনেত্রী–রাজনীতিবিদকে কাজে লাগানো সহজ হবে। তাঁকে দেখে বহু যুবক–যুবতী রাজনীতিতে আসবেন। এছাড়া ২০২৪ সালকে লক্ষ্য রেখে দলের সংগঠন সাজাতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি সায়নী ঘোষ নির্বাচনে হারলেও তাঁর লড়াই নজর কেড়েছে। লড়াকু মানসিকতার সায়নীকে তাই যুবর দায়িত্ব দেওয়া হল।

উল্লেখ্য, অভিনেতা–অভিনেত্রীরা আগেও তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচনে লড়েছেন। সাংসদ, বিধায়ক পদে রয়েছেন বহু অভিনেতা–অভিনেত্রী। তাপস পাল, দেবশ্রী রায় থেকে শুরু করে মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহান, দেব, রাজ চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিক, অদিতি মুন্সি, লাভলি মৈত্র কিংবা সন্ধ্যা রায়—এরা প্রত্যেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ বা বিধায়ক পদে থাকলেও এদের মধ্যে কাউকে সাংগঠনিক পদ দেওয়ার নজির নেই। তাই সায়নীকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে আনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক কুশীলবরা।

তবে অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে কুণাল ঘোষকে। আর সম্পাদক করা হল সায়ন্তিকাকে। তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের (আইএনটিটিইউসি) সভাপতি হয়েছেন ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়। সর্বভারতীয় মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী করা হয়েছে কাকলি ঘোষদস্তিদার। পূর্ণেন্দু বসু খেত–মজুর সংগঠনের সভাপতি। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংস্কৃতিক সেলের সভাপতি হলেন রাজ চক্রবর্তী। বঙ্গ জননী সভাপতি মালা রায়কে করা হল। জুন মালিয়া ও লাভলি মৈত্রকে নিয়ে কাজ করবেন মালা।

সূত্রের খবর, আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পদ সামলাতে বলা হয়েছে সায়নীকে। তাঁর মতো জনপ্রিয় মুখকে সাংগঠনিক পদে এনে তৃণমূল কংগ্রেসের যুবশক্তিকে আরও পোক্ত করতে চাওয়া হচ্ছে। এতো সেলিব্রেটি বিধায়ক–সাংসদ থাকা সত্ত্বেও সায়নীকে এই দায়িত্বে নিয়ে আসা খানিকটা ঝুঁকির বলেই মনে করছেন অনেক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। প্রশ্ন উঠছে, এই অভিনেত্রী পারবেন তো দায়িত্ব পালন করতে?‌ তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বেছে নিয়েছেন তখন নিশ্চয়ই কোনও বিষয় আছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

বন্ধ করুন