বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > ঝাড়গ্রামে ঘাসফুল ফোটানো বিরবাহাকে ঘিরে 'ক্ষোভ' তৃণমূলের অন্দরেই!

ঝাড়গ্রামে ঘাসফুল ফোটানো বিরবাহাকে ঘিরে 'ক্ষোভ' তৃণমূলের অন্দরেই!

বিরবাহা হাঁসদা (ছবি সৌজন্যে টুইটার)

বন প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে বিরবাহা হাঁসদাকে। তবে এরপরই দলের অন্দরে জন্মেছে ক্ষোভ।

গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের ঝুলি ছিল শূন্য। তাছাড়া জঙ্গলমহল জুড়ে বিজেপির থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিধানসভআ নির্বাচনে ফের জঙ্গলে ফুটেছে ঘাসফুল। এবং সেই ঘাসফুল ফোটানো মালিদের অন্যতম হলে ঝাড়গ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক বিরবাহা হাঁসদা। এরই ফল স্বরূপ তাঁকে বন প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। তবে এরপরই দলের অন্দরে জন্মেছে ক্ষোভ। একাংশের দাবি, অনেক 'যোগ্য' নেতাকে টপকে মন্ত্রিত্ব লাভ করলেন বিরবাহা।

উল্লেখ্য, বিরবাহা ঝাড়গ্রাম থেকে প্রথম মহিলা হিসেবে রাজ্যের মন্ত্রী হলেন। উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগেই তৃণমূলে যওগ দিয়েছিলেন বিরবাহা। এরপরই ঝাড়গ্রাম আসন থেকে তাঁকে প্রার্থী করে ঘাসফুল শিবির। অভিযোগ, দলের অনেকেই সাহায্য করেননি বিরবাহাকে। তবে তা সত্ত্বেও প্রচার করে মানুষের মনে জায়গা করে নেন বিরবাহা। এর ফলে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জেতেন তিনি। আর তার পুরস্কার হিসেবে মন্ত্রী হলেন সাঁওতালি সিনেমার মহানায়িকা।

তবে সূত্রের খবর, বিরবাহা মন্ত্রী হওয়ায় ক্ষুব্ধ ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মুর অনুগামীরা। প্রসঙ্গত, দুলাল নিজে তিনবারের বিধায়ক। সেই অর্থে তিনি বিরবাহার থেকে বেশি 'যোগ্য' মন্ত্রী হওয়ার। তাছাড়া অনুগামীদের দাবি, দুলালের সভাপতিত্বে জেলার চারটি আসনে বড় জয় পেয়েছে তৃণমূল। সেই কারণেই দুলালকে মন্ত্রী করা উচিত ছিল।

এদিকে শুধউ অনুগামী নয়, মন্ত্রী না হতে পেরে জেলা সভাপতি পদে থাকা দুলাল নিজেও আশাহত। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'নয়াগ্রাম বিধানসভা আসনে তিনবার জেতার পুরস্কার পেয়েছি। এর বেশি এখনই কিছু বলতে চাই না।' তবে এরপর কিছুটা সুর নরম করে তিনি বলেন, 'আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। কী হবে সেটা তো সময় বলবে।'

এদিকে জেলা নেতৃত্বের একাংশ আবার বিরবাহার মন্ত্রিত্বে খুশি। এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র সুব্রত সাহা বলেন, 'লড়াকু নেত্রী বিরবাহা হাঁসদা মন্ত্রী হওয়ায় অধিকাংশ নিচুতলার কর্মীরা খুবই খুশি হয়েছেন।' একই সুর শোনা যায় জেলা তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান সুব্রত নন্দীর গলাতেও।

এদিকে গোপীবল্লভপুরের বিজয়ী খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। তিনি পেশায় চিকিৎসক হলেও নির্বাচনে নামার উদ্দেশ্যে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নেমেছিলেন। এবং ভোটের ময়দানে নেমেই প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জেতেন। খগেন্দ্রনাথকেও মন্ত্রী করার জন্য দলের একাংশ সওয়াল করেছিলেন। এদিকে বিনপুরের বিজয়ী দেবনাথ হাঁসদা রাজ্য যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি তথা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ। তাঁকেও মন্ত্রিত্ব দেওয়ার জন্য দলের অন্দরে চাপ বাড়াচ্ছিলেন যুব তৃণমূলের একটি অংশ। তবে শেষ পর্যন্ত জেলার বাকি দিনকে টপকে মন্ত্রিত্ব পান বিরবাহা।

বন্ধ করুন