বাড়ি > কর্মখালি > স্নাতক স্তরে ভরতি নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি আবুটা-র
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাস শুরু সম্ভব না হলে ভরতি নিয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন, প্রশ্ন তুলেছে আবুটা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাস শুরু সম্ভব না হলে ভরতি নিয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন, প্রশ্ন তুলেছে আবুটা।

স্নাতক স্তরে ভরতি নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি আবুটা-র

  • অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তিটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রাতিষ্ঠানিক স্বয়ত্তশাসনের ক্ষমতা দখল করার কৌশল।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে ভরতির তারিখ ও পদ্ধতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা ১৬ জুলাই ২০২০ এর বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি জানাল সারা বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বা আবুটা। তাদের অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তিটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রাতিষ্ঠানিক স্বয়ত্তশাসনের ক্ষমতা দখল করার কৌশল।

বিজ্ঞপ্তিতে সরকার দাবি করেছে, ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনলাইনে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো আছে। আবুটা-র সাধারণ সম্পাদক গৌতম মাইতির বক্তব্য, ভরতি নিয়ে এ ধরনের তাড়াহুড়োর পিছনে কোনও অ্যাকাডেমিক যুক্তি নেই। বিশেষ করে সরকার যখন ঘোষণা করেছে যে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ক্লাস শুরু হবে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই অনলাইনে ভরতির আবেদন করা সম্ভব নয়। কারণ অনেক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার নেই। ইন্টারনেট সংযোগও অনেক জায়গায় ঠিকমত থাকে না। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়ারা সাইবার ক্যাফে থেকে ফর্ম পূরণ ও অনলাইন ফি দেওয়ার চেষ্টা করবে। সে ক্ষেত্রে তাদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই সরকার যখন জানিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাস শুরু সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে ভরতি নিয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন!

স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভর্তির পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আছে। এ দিকে সরকার বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশ দিয়েছে UGC কোর্সে ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি নেওয়া হবে মেধার ভিত্তিতে। কিন্তু এবার উচ্চ মাধ্যিকে অনেক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। পরীক্ষা হওয়া বিষয়গুলির সর্বোচ্চ নম্বর পরীক্ষা না হওয়া বিষয়গুলিতে দেওয়া হয়। এর প্রভাব ভর্তি প্রক্রিয়ার ওপর যে ভাবে পড়ছে ত বেশ উদ্বেগজনক। এই অবস্থায় ১০ আগস্ট ২০২০ তারিখের মধ্যে ভর্তি শুরু করার অর্থ উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবে না।

এক্ষেত্রে অনিবার্য ভাবে উচ্চ শিক্ষার মান অনেক টা নেমে যাবে। শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ দের মতামত না নিয়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ কখনই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের এই বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টপাধ্যায় কে চিঠিও দিয়েছে আবুটা।

বন্ধ করুন