বাংলা নিউজ > কর্মখালি > মুখস্থবিদ্যায় লাগাম টানতে নিজস্ব শিক্ষা বোর্ড দিল্লির, পালটাবে মূল্যায়নের ধরনও
মুখস্থবিদ্যায় লাগাম টানতে নিজস্ব শিক্ষা বোর্ড দিল্লির, পালটাবে মূল্যায়নের ধরনও। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
মুখস্থবিদ্যায় লাগাম টানতে নিজস্ব শিক্ষা বোর্ড দিল্লির, পালটাবে মূল্যায়নের ধরনও। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

মুখস্থবিদ্যায় লাগাম টানতে নিজস্ব শিক্ষা বোর্ড দিল্লির, পালটাবে মূল্যায়নের ধরনও

সিবিএসই-র আওতাধীন ১,০০০টি সরকারি স্কুলকে ডিবিএসই-র অধীনে আনবে কেজরিওয়াল সরকার।

মুখস্থবিদ্যার প্রবণতা দূর করতে নিজের শিক্ষা বোর্ড গড়ে তুলতে চলেছে দিল্লি সরকার। এই নতুন বোর্ডটি হবে দিল্লি বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন (ডিবিএসই)। এর জন্য সিবিএসইয়ের আওতাধীন ১,০০০টি সরকারি স্কুলকে ডিবিএসই-র অধীনে আনবে অরবিন্দ কেজরিওযাল সরকার। শনিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বভারতীয় অভিভাবক সংগঠন এই সিদ্ধান্তের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, দিল্লিতে প্রায় ১,০০০টি সরকারি ও ১,৭০০টি বেসরকারি স্কুল রয়েছে। এক সঙ্গে এই সমস্ত স্কুল ডিবিএসই-র অংশ হবে না। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ২০-২৫টি সরকারি স্কুলকেই ডিবিএসই-র অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্কুল নির্বাচন করবে সরকার। আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলকে ডিবিএসই-র আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা দফতর সরকারি স্কুল নির্বাচন করে তাদের নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানাবে। মুখস্থবিদ্যা ও বার্ষিক পরীক্ষার চিরাচরিত নীতির উপর এই শিক্ষা ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে থাকবে না। এই নতুন বোর্ডের মাধ্যমে দিল্লি সরকার নিজস্ব ধারণা ও পাঠ্যক্রম গড়ে তুলবে। 

মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, 'স্কুলে কী এবং কী ভাবে শেখানো হয়? আমরা কেন শিক্ষা অর্জন করছি, তা আমাদের জানতে হবে। তিনটি কারণে আমরা শিক্ষাগ্রহণ করি। এবার ডিবিএসই এই উদ্দেশ্য সাধন করবে। আমরা এর মাধ্যমে কট্টর দেশভক্তদের বের করে আনব, যাঁরা দেশের জন্য প্রাণপাত করবেন এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য কাজ করবেন।' তিনি বলেন, 'নতুন বোর্ডে মুখস্থবিদ্যার চাপ কমানো হবে এবং বুঝে পড়ার উপর জোর দেওয়া হবে। এমনকী মূল্যায়নের মডেলকেও পালটে ফেলা হবে।' 

তাঁর মতে, অন্যান্য রাজ্যের বোর্ডের তুলনায় দিল্লি শিক্ষা বোর্ড পৃথক হবে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় বছরের শেষে তিন ঘণ্টার পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। কিন্তু নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সার্বিক শিক্ষার উন্নতি ঘটাতে সারা বছর ধরে মূল্যায়ন করা হবে। বোধগম্যতা ও ব্যক্তিত্বের উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে। বছরের শেষে একবার ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে না, বরং সারা বছর ধরে মূল্যায়ন চলবে বলে জানান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'নানা আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছ থেকে দিল্লি বোর্ডের জন্য সাহায্য চাইবে সরকার। আন্তর্জাতিক অনুশীলনের বিষয় জ্ঞান অর্জনের পর নতুন মডেল ডিজাইন করা হবে। এমনকী শিক্ষাদানের প্রক্রিয়াও বিশ্লেষণ করার পর নতুন মডেলে গ্রহণ করা হবে।'

তবে সর্বভারতীয় অভিভাবক সংগঠনের অধ্যক্ষ অশোক আগরওয়াল বলেন যে, সিবিএসই-র উপর মানুষের আস্থা রয়েছে, তাই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত মন্ত্রিসভার। অন্যান্য রাজ্য যেখানে নিজেদের স্কুল সিবিএসই-র আওতায় আনতে চাইছে, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত যুক্তিপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বন্ধ করুন