বাংলা নিউজ > কর্মখালি > কর্মীদের একটি চাকরিতে বেঁধে রাখা অনুচিত, মুনলাইটিং বিতর্কে মত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

কর্মীদের একটি চাকরিতে বেঁধে রাখা অনুচিত, মুনলাইটিং বিতর্কে মত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

ছবিটি প্রতীকী, সৌজব্য মিন্ট (Mint)

রাজীব চন্দ্রশেখর বলেন, 'কর্মী-উদ্যোক্তাদের যুগ এটি। সংস্থাগুলিকে এটি বুঝতে হবে যে তরুণ ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীদের মন এবং মনোভাবে পরিবর্তন হয়েছে।'

কর্মীদের একটি চাকরিতে বেঁধে দেওয়া উচিত নয় সংস্থাগুলির। শুক্রবার সফ্টওয়্যার শিল্পে মুনলাইটিং বিতর্ক প্রসঙ্গে এমনটাই বললেন ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর। তিনি বলেন, ক্যাপটিভ ওয়ার্ক মডেল ব্যর্থ হবে। কর্মীদের এভাবে আটকে রাখতে পারে না সংস্থাগুলি।

পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ফোরাম অফ ইন্ডিয়ার বার্ষিক ফোরামে ভাষণের সময়ে এই বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'কর্মী-উদ্যোক্তাদের যুগ এটি। সংস্থাগুলিকে এটি বুঝতে হবে যে তরুণ ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীদের মন এবং মনোভাবে পরিবর্তন হয়েছে।'

তিনি বলেন, এক সময়ে কর্মীরা বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থায় চাকরি নিতেন। তারপর সেই সংস্থাতেই সারা জীবন কাটিয়ে দিতেন। তবে এখন সেই দিন চলে গিয়েছে।

'এখনকার তরুণ প্রজন্ম তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করতে এবং তার থেকে আরও বেশি আয় করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। সুতরাং, যে সংস্থাগুলি তাদের কর্মীদের 'পিন' করতে চায়, এবং বলে তাঁদের নিজস্ব স্টার্ট-আপে কাজ করা উচিত নয়, তাঁদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে,' বলেন তিনি।

মুনলাইটিং কী?

কোনও সংস্থায় চাকরিরত অবস্থায় কাজের সময়ের বাইরে অন্য কোনও সংস্থার হয়ে কাজ করাকে মুনলাইটিং বলে। সম্প্রতি ভারতীয় আইটি সেক্টরে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে এটি। সুইগির মতো সংস্থা কর্মীদের মুনলাইটিংয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তাদের মতে কর্মীরা যদি তাদের মূল চাকরিতে ক্ষতি না করে ছুটির দিন বা শিফটের বাইরে অন্য কিছু করে অর্থ উপার্জন করেন, তাতে তাঁদের আপত্তি নেই। অন্যদিকে উইপ্রোর মতো বড় সংস্থার মতে, এভাবে এক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অবস্থায় অন্য সংস্থার জন্য কাজ করে উপার্জনের চেষ্টা নীতিবিরুদ্ধ।

উইপ্রো সম্প্রতি ৩০০ জন কর্মীকে প্রতিযোগী সংস্থার হয়ে কাজ করার 'অপরাধে' বরখাস্ত করেছে।

আরও পড়ুন : ‘রোজ ঘূণাসূচক ই-মেল পাচ্ছি’, ৩০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা পর দাবি উইপ্রো প্রধানের!

টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস এবং আইবিএম-সহ শীর্ষস্থানীয় আইটি সংস্থাগুলিও মুনলাইটিংকে প্রতারণা বলে নিন্দা করেছে।

অন্যদিকে, টেক মাহিন্দ্রার সিইও সি পি গুরনানি বলছেন, কর্মীরা তাঁদের মূল কাজে কোনও ব্যাঘাত না ঘটিয়ে মুনলাইটিং করলে তাতে কোনও সমস্যা নেই।

মহামারী শুরুর পরে, আইটি এবং সফ্টওয়্যার পরিষেবা শিল্পে রিমোট-ওয়ার্কিং শুর হয়। আর সেই সুযোগে অন্য সংস্থার হয়ে বাড়তি সময়ে কাজ করা শুরু করেন অনেকে। এদিকে নতুন স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলিও রিমোট কর্মীদের মাধ্যমে নতুন সফটওয়্যার ব্যবসা, পরিষেবার ব্যবসায় এগোতে শুরু করে।

বন্ধ করুন