বাড়ি > কর্মখালি > NEET ও JEE রুখতে টিএমসিপি প্রতিষ্ঠা দিবসে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ডাক মমতার
শুক্রবার টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবসে ভার্চুয়াল জনসভায় মমতার ভাষণে গুরুত্ব পেতে চলেছে NEET ও  JEE রুখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ডাক। ছবি: পিটিআই। (PTI)
শুক্রবার টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবসে ভার্চুয়াল জনসভায় মমতার ভাষণে গুরুত্ব পেতে চলেছে NEET ও  JEE রুখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ডাক। ছবি: পিটিআই। (PTI)

NEET ও JEE রুখতে টিএমসিপি প্রতিষ্ঠা দিবসে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ডাক মমতার

  • টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবসে ভার্চুয়াল জনসভায় মমতার ভাষণে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেতে চলেছে, তা নিয়ে বিশেষ সংশয় নেই।

অতিমারী পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত NEET ও  JEE রুখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসেও গুরুত্ব পেতে চলেছে বিষয়টি।

একাধিক অ-বিজেপি শাসিত রাজ্য, পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের আপত্তি সত্ত্বেও আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর NEET 2020 এবং JEE 2020 পরীক্ষা দু'টি আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় কেন্দ্রীয় সরকার। আজ, শুক্রবার দুপুরে টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবসে ভার্চুয়াল জনসভায় মমতার ভাষণে বিষয়টি যে যথেষ্ট গুরুত্ব পেতে চলেছে, তা নিয়ে বিশেষ সংশয় নেই।

গত বুধবার, কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকেও প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, কেন্দ্রের হঠকারি সিদ্ধান্তের জেরে অতিমারী পরিস্থিতিতে সশরীরে পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজিরা দিতে গিয়ে কয়েক লাখ পরীক্ষার্থী সংক্রমণের ঝুঁকির মুখে পড়তে চলেছেন। এই কারণে পরীক্ষা রুখতে তিনি যৌথ উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের প্রস্তাব দেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষস্থানীয় তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, ‘বৈঠকে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতিক্রিয়ায় দিদি খুশি। বৈঠকে তিনি বলেছেন, নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও এই বিষয়ে সতীর্থ মুখ্যমন্ত্রীদের সমর্থনই জানাবেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজু জনতাদলের প্রধান নবীন পট্টনায়েক। বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে সেপ্টেম্বর মাসে পরীক্ষার আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন নবীন। এটাই দিদির সাফল্য।’

এ দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপে নিজেদের ক্ষোভ গোপন করেনি বিজেপি নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবারই টুইট করে দলের জাতীয় তথ্য প্রযুক্তি সেল-এর প্রধান অমিত মালব্য বলেন, ‘জয়েন্ট এন্ট্রান্স ও এনইইটি পরীক্ষা আয়োজনের অপারগতার কথা জানিয়ে দরবার করার পরে এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছেন, যাতে ১৩ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে দুর্ভোগের মুখে পড়েন। নিজের রাজনৈতিক লাভের জন্য তিনি কী বিপজ্জনক পথ অবলম্বন করছেন না?’

উল্লেখ্য, ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালনের পরে ২৮ অগস্ট টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। তবে অতিমারীর কারণে এ বছর জনসমাগম এড়াতে ময়দানে গান্ধী মূর্তির কাছে ছোট জনসভা করেই অনুষ্ঠান পালন করছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। 

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম বার ভোট দিতে চলা নবীন ভোটারদের দিকে তাকিয়ে এ দিন কেন্দ্রের NEET ও JEE আয়োজনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্র পরিষদ ও তৃণমূল নেতাদের মুখে কেন্দ্র-বিরোধী ভাষণ শোনারই সম্ভাবনা রয়েছে। 

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্যের কংগ্রেস এবং বাম শিবিরও। গতকাল বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান এবং সিমিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক এবং বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে যৌথ উদ্যোগে চিঠি লিখে ওই দুই পরীক্ষা বাতিলের আবেদন জানান। 

এ দিন কংগ্রেস ছাত্র পরিষদও তাদের ৬৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যমেই পালন করবে বলে জানা গিয়েছে।

বন্ধ করুন