বাংলা নিউজ > কর্মখালি > কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিনেই অনার্সের দুটি পেপারের পরীক্ষা! ক্ষোভ পড়ুয়াদের
অনেকে জানাচ্ছেন, তাঁদের মোবাইল পুরনো। টানা ব্যবহার করলে কয়েক ঘণ্টায় চার্জ শেষ হয়ে যায়। একই দিনে দুটি পরীক্ষা হলে, সেক্ষেত্রে তাঁরা কী করবেন? প্রশ্ন করছেন পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি : ফেসবুক (Facebook)
অনেকে জানাচ্ছেন, তাঁদের মোবাইল পুরনো। টানা ব্যবহার করলে কয়েক ঘণ্টায় চার্জ শেষ হয়ে যায়। একই দিনে দুটি পরীক্ষা হলে, সেক্ষেত্রে তাঁরা কী করবেন? প্রশ্ন করছেন পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি : ফেসবুক (Facebook)

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিনেই অনার্সের দুটি পেপারের পরীক্ষা! ক্ষোভ পড়ুয়াদের

সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) আশিস চট্টোপাধ্যায় জানান, অনলাইন পরীক্ষা শুরুর পরে দিনে দুইটি পত্রে পরীক্ষা আগেও হয়েছে। এমনকি তিনটি পত্রের পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরীক্ষা নিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি আসন্ন সেমেস্টেরের অনলাইন পরীক্ষার নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়। আর তাই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। একই দিনে অনার্সের দুটি পেপারের পরীক্ষা নিয়ে অখুশি পড়ুয়ারা।

বুধবার মধ্যরাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পরীক্ষা-সূচি অনুযায়ী, চূড়ান্ত সিমেস্টারের থিয়োরেটিক্যাল পরীক্ষা নেওয়া হবে ২৯ এবং ৩০ জুলাই। ওই দু’দিনই হবে দু’টি করে পত্রের পরীক্ষা।

অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমেস্টারের ক্ষেত্রে ১২ অগস্ট একই দিনে দুটি পত্রের পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টায় একটি পত্র। তারপর আবার দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ছবি : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (CU)

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁরা জানান, অনার্সের পাঠক্রম অনেক বড়। আর পরীক্ষা দেওয়াও বেশ পরিশ্রমের ব্যাপার। অনলাইন হলেও অনার্স পেপারে কলাবিভাগের বিষয়গুলিতে অন্তত ২৫-৩০ পাতা করে লেখেন অনেকেই। অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রায় সেরকমই। একই দিনে ২টি পরীক্ষা হলে তা শারীরিকভাবে কষ্টদায়ক, মত পড়ুয়াদের। তাছাড়া আরও কিছুদিন সময় হাতে দিয়ে নির্ঘণ্ট বের করতে সমস্যা কোথায়? প্রশ্ন তাঁদের। #change_the_schedule_cu হ্যাশট্যাগে পোস্ট করছেন কেউ কেউ।

তাছাড়া দৈনিক ডাটা নিয়েও চিন্তিত কেউ কেউ। অনেকে জানাচ্ছেন, তাঁদের মোবাইল পুরনো। টানা ব্যবহার করলে কয়েক ঘণ্টায় চার্জ শেষ হয়ে যায়। একই দিনে দুটি পরীক্ষা হলে, সেক্ষেত্রে তাঁরা কী করবেন? প্রশ্ন করছেন পরীক্ষার্থীরা। এছাড়া প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগও সবসময়ে মেলে না।

অবশ্য অনেককে পাল্টা যুক্তি দিতেও দেখা যাচ্ছে। তাঁদের বেশিরভাগই প্রাক্তনী। তাঁদের মতে, ৫০ বা ৬৫ নম্বর করে এক-একটি পেপারের পরীক্ষা। তাই তুলনামূলকভাবে কম লিখতে হবে। ফলে একদিনে দুটি দেওয়াই যায়।

মোট নম্বর কম হলেও একই দিনে দুটি পরীক্ষা দেওয়া বেশ কঠিন, মেনে নিচ্ছেন অধ্যাপকদের একাংশও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইংরাজি সাহিত্যের অধ্যাপক জানালেন, 'এখনকার ছাত্রছাত্রীরা দিনে একটা করে পরীক্ষা দিয়েই অভ্যস্ত। স্কুলেও তাই ছিল, কলেজেও সেটাই চলছিল। অনলাইনে পরীক্ষার সময়ে এই প্রথা বদলনোয় তাঁদের একটু ভয় হওয়াটাই স্বাভাবিক।' সোশ্যাল মিডিয়াতেও পোস্ট করেছেন এক অধ্যাপিকা। 

গোটা বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয় ডিএসও এবং ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিটি’। পরীক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়গুলি তুলে ধরেন তাঁরা।

তবে সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) আশিস চট্টোপাধ্যায় জানান, অনলাইন পরীক্ষা শুরুর পরে দিনে দুইটি পত্রে পরীক্ষা আগেও হয়েছে। এমনকি তিনটি পত্রের পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, '৩১ অগস্টের মধ্যে ফল প্রকাশ করতেই হবে। এই বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তিও বেরিয়ে গিয়েছে। তাই এখন আর পরীক্ষার দিন বদলানো সম্ভব নয়।'

বন্ধ করুন