বাড়ি > কর্মখালি > করোনা আবহে CBSE ও ICSE পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ, সতর্ক প্রস্তুতি স্কুল কর্তৃপক্ষের
CBSE র দ্বাদশ শ্রেণির অবশিষ্ট পরীক্ষা ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
CBSE র দ্বাদশ শ্রেণির অবশিষ্ট পরীক্ষা ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

করোনা আবহে CBSE ও ICSE পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ, সতর্ক প্রস্তুতি স্কুল কর্তৃপক্ষের

  • অতিমারীর প্রেক্ষিতে পরীক্ষা নিয়ে যেমন উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের, তেমনই চিন্তায় রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

করোনা সংক্রমণ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। এদিকে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) ও ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট একজামিনেশন (ICSE) বোর্ডের অবশিষ্ট পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসছে। জুলাইয়ে এই পরীক্ষা নিয়ে যেমন উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের, তেমনই উদ্বিগ্ন স্কুল কর্তৃপক্ষও।

CBSE র দ্বাদশ শ্রেণির অবশিষ্ট পরীক্ষা ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে প্রশ্ন উঠছে এই আবহে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হবে কি না অথবা এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক বা ঐচ্ছিক করা হবে কি না, তাই নিয়ে।

তবে CBSE আধিকারিকরা আশাবাদী। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালো ভাবেই পরীক্ষার আয়োজন করতে পারবেন বলে তাঁরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

CBSE-র এক প্রবীণ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে সামাজিক দূরত্বের জন্য সরকার নির্ধারিত সমস্ত নিয়ম অনুসরণ করা সম্ভব হবে। ১৩ হাজারেরও বেশি স্কুলে পরীক্ষা নেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই, ভিড় হওয়ার কোনও সম্ভাব নেই। আমরা নিশ্চিত যে সঠিক দূরত্ব বজায় থাকবে। মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হবে। তা ছাড়া, একটি শ্রেণিকক্ষে ১২ জনের বেশি পরীক্ষার্থী থাকার সম্ভাবনা নেই।’

স্কুলগুলি দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায়, বেশিরভাগ অধ্যক্ষ বোর্ড পরীক্ষার জন্য সেগুলিকে প্রস্তুত করছেন। নিয়মিত ভাবে স্কুল চত্বর জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। স্কুলগুলি কী ভাবে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করবে, সে ব্যাপারে CBSE নির্দেশিকার জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছেন।

দিল্লির কে আর মঙ্গলম স্কুলের অধ্যক্ষ সংগীতা অরোরা জানিয়েছেন, স্কুলের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ করে জনালা খুলে দেওয়া হবে এবং পাখা চালানো হবে। কিন্তু জুলাই মাসের গরমে মাস্ক পরে লেখা শিক্ষার্থীদের পক্ষে বেশ কষ্টকর হবে। তবে, কোনও শিক্ষার্থীর দেহের তাপমাত্রা অনুমোদিত তাপমাত্রার থেকে সামান্য বেশি হলে কী করা হবে, তাই নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, স্কুল প্রশাসন স্কুল প্রাঙ্গণে পৌঁছানো শিক্ষার্থীদের পরিচালনার বিষয়টি নিয়েও উদ্বিগ্ন। কারণ ছাত্রছাত্রীরা যখন তাদের বন্ধুদের অনেক দিন পরে দেখতে পাবে, তখন তাদের সঙ্গে বসে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে চাইবে। এ বাদে, স্কুল চত্বর বার বার পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজনও ।

সরকারি স্কুলগুলি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। কারণ অনেক স্কুল এখনও দিল্লি সরকারের শুকনো রেশন বিতরণ কেন্দ্র হিসাবে কাজ করছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেশন সংগ্রহ করতে আসা ব্যক্তি এবং পারীক্ষার্থীদের জন্য পৃথকভাবে ঢোকার পরিকল্পনা করেছে।

রোহিনীর সর্ভদ্য কো-এড বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অবধেশ কুমার ঝা বলেছেন, বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হবে। ‘প্রশ্নপত্র স্কুলে পৌঁছে দেওয়াও একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযোগের সম্ভাবনা বাড়বে। শিক্ষার্থীরা তাদের লক্ষণগুলি আড়াল করার চেষ্টা করতে পারে। শিক্ষকরা স্কুল চত্বরে আসতে ভয় পাচ্ছেন কারণ উত্তরপত্র বিতরণ এবং তা সংগ্রহ করার সময় সংযোগের প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে।’

পরীক্ষা বাধ্যতামূলক না করে পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ঐচ্ছিক করা বা একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নম্বর দেওয়ার প্রশ্নে CBSE আধিকারিক বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তগুলি কেবল বিস্তারিত আলোচনার পরে নেওয়া যেতে পারে। বিকল্প পদ্ধতি অবশ্যই আছে। তবে এখনও পর্যন্ত আমরা পরীক্ষা নেওয়ার লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

অধ্যক্ষরা জানিয়েছেন যে, অনেক কর্মী ভয়ে বিদ্যালয়গুলি স্যানিটাইজ করতে অস্বীকার করেছেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু আবহাওয়া গরম থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রেকর্ড হতে পারে।

এদিকে, বেশিরভাগ বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের সুরক্ষা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। একটি টুইটার জরিপে দেখা গেছে যে প্রায় ৮৮% পিতামাতা তাঁদের সন্তানের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরীক্ষা বাতিলের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশনও দায়ের করেছেন অভিভাবকরা।

প্রায় ২০০ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং জওহর নবোদয় বিদ্যালয়-সহ বেশ কয়েকটি স্কুল কোয়ারান্টাইন কেন্দ্র হিসাবে কাজ করছে। এইমস-এর ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জুলাই মাসে ভারতে কোভিড -১৯ সংক্রমণ শীর্ষে উঠতে পারে।

এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সব দিক মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, CBSE পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে JEE এবং NEET পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। CBSE পরীক্ষার সিদ্ধান্তের প্রভাব পুরো শিক্ষাবর্ষের ওপর পড়তে পারে।

এদিকে, এক দল অভিভাবক ICSE বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গণ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সংক্রমনের সম্ভাবনা, গণ পরিবহনে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছনো, পরীক্ষার আগে কোনও শিক্ষার্থী যদি করোনা আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে কী হবে, ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

ICSE বোর্ডও জানিয়েছে, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির অবশিষ্ট পরীক্ষা জুলাই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে নেওয়া হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বোর্ডের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

বন্ধ করুন