বাংলা নিউজ > ক্রিকেট > এশিয়া কাপ > Asia Cup 2023 Equation: শুধু ১ ম্যাচের জন্য নিয়ম না পালটালে এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে যেতে পারত ভারত! কোন অঙ্কে?

Asia Cup 2023 Equation: শুধু ১ ম্যাচের জন্য নিয়ম না পালটালে এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে যেতে পারত ভারত! কোন অঙ্কে?

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছয় রানে হেরে গিয়েছে ভারত। (ছবি সৌজন্যে এএফপি)

এশিয়া কাপের ‘সুপার ফোর’-র নিয়মরক্ষার ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছয় রানে হেরে গিয়েছে ভারত। কিন্তু শুধু একটি ম্যাচের জন্য নিয়ম পরিবর্তন না হলে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যেতে পারত ভারত। কপাল খুলে যেত পাকিস্তানের। তবে সেটা হয়নি। ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত এবং শ্রীলঙ্কা।

ইস! ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে যদি ‘রিজার্ভ ডে’ না থাকত, তাহলে পাকিস্তানই ফাইনালে উঠে যেত। ছিটকে যেতে পারত ভারত। আগেরবারের মতো এবারও এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারত পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের হারের পর বাবর আজমদের দেশের কেউ-কেউ হয়ত সেটা ভাবছেন। স্রেফ অঙ্কের বিচারে সেটা সম্ভব হলেও বাস্তবে আদৌও সেটা হত কিনা, তা নিয়ে ধন্দ আছে। কারণ শুক্রবার যে ভারতীয় দল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হেরেছে, তা একেবারেই পূর্ণশক্তির দল ছিল না। আগেভাগেই এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে যাওয়ায় বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে দলে কয়েকটি পরিবর্তন করেন রোহিত শর্মা। যদি ভারতের কাছে বাংলাদেশের ম্যাচটা ‘ডু-অর-ডাই’ ম্যাচ হত (বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে গেলেও উঠে যেতে পারত), তাহলে নিঃসন্দেহে সেই পথে হাঁটতেন না ভারতীয় অধিনায়ক। পূর্ণশক্তির দল নামাতেন তিনি। 

কীভাবে ছিটকে যেত ভারত?

খাতায়-কলমে অবশ্য ভারতের ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি একেবারেই ঠিক। কারণ যে নিয়মে খেলা হয়েছে, সেই নিয়ম মেনে এশিয়া কাপের 'সুপার ফোর' পর্যায়ের শেষে শীর্ষে আছে ভারত। তিন ম্যাচে পয়েন্ট চার। নেট রানরেট +১.৭৫৩। সমসংখ্যক ম্যাচে সমসংখ্যক পয়েন্ট থাকলেও নেট রানরেটের নিরিখে পিছিয়ে থাকায় দুই নম্বরে আছে শ্রীলঙ্কা (-০.১৩৪)। তিনে আছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে পয়েন্ট দুই। নেট রানরেট -০.৪৬৩। আর চারে আছে পাকিস্তান। তিনটি ম্যাচে দুই পয়েন্ট পেয়েছে। নেট রানরেট -১.২৮৩।

এবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে যদি 'রিজার্ভ ডে' না থাকত, তাহলে সেই পয়েন্ট টেবিলের আমূল পরিবর্তন হত। যেহেতু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পয়েন্ট ভাগাভাগি হত (রিজার্ভ ডে'তে গিয়ে খেলা শেষ হওয়ায় দুই পয়েন্ট পেয়েছিল ভারত, রিজার্ভ ডে না থাকলে প্রথমদিনের খেলা ভেস্তে যাওয়ায় এক পয়েন্ট পেত পাকিস্তান, এক পয়েন্ট পেত ভারত), তাই তিন ম্যাচের শেষে ভারতের পয়েন্ট দাঁড়াত তিন। সেইসঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২২৮ রানে জয়ের জন্য সেই অভাবনীয় স্তরে ভারতের নেট রানরেট পৌঁছে গিয়েছিল, সেটা হত না। অনেক কম থাকত নেট রানরেট। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ ম্যাচের আগে ফাইনালের টিকিট পাকা হয়ে যেত না। বাংলাদেশ ম্যাচে জিতলে বা বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে তবেই ফাইনালে উঠতে পারত।

আরও পড়ুন: স্পিন খেলার লোক নেই, ফিনিশারের অভাব, ফাইনালের আগে ভারতের যে পাঁচ খুঁত দেখিয়ে দিল বাংলাদেশ

আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক উলটো হত। এখন যে নেট রানরেট আছে, সেটা অনেক কম হত। বরং ভারতের থেকে বেশি হতে পারত। আর ভারতের ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ার সুবাদে তিন ম্যাচের শেষে পাকিস্তানের পয়েন্ট দাঁড়াত তিন। সেই পরিস্থিতিতে নেট রানরেটের নিরিখে ‘সুপার ফোর’ পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে যেতে পারত পাকিস্তান। ছিটকে যেতে পারত ভারত।

রিজার্ভ ডে না থাকলে ‘সুপার ফোর’-র শেষে পয়েন্ট তালিকা কেমন হত?

১) শ্রীলঙ্কা: তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট।

২) পাকিস্তান: তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট।

৩) ভারত: তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট।

৪) বাংলাদেশ: তিন ম্যাচে দুই পয়েন্ট।

অর্থাৎ কেউ-কেউ বলতে পারেন যে একটি ছোট্ট নিয়ম পরিবর্তনের জেরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হারের পরও বেঁচে গেল ভারতীয় ক্রিকেট দল। 'সুপার ফোর' থেকে ছিটকে যেতে হল না রোহিত, বিরাট কোহলিদের। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটা নিয়মরক্ষার না হলে নিঃসন্দেহে হার্দিক পান্ডিয়া, জসপ্রীত বুমরাহ, কোহলিদের মতো প্রথমসারির খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিত না ভারত।

আরও পড়ুন: Asia Cup ফাইনালের আগেই বড় ধাক্কা খেল ভারত, অক্ষরের চোট, কভার হিসেবে দলে এলেন সুন্দর- রিপোর্ট

বন্ধ করুন