শুভব্রত মুখার্জি:- দীর্ঘদিন কলকাতা নাইট রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলছেন সুনীল নারিন। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় তিনি রয়েছেন দলের সঙ্গে। নাইটদের উত্থান-পতনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনি। আইপিএলে নাইটরা তাদের ইতিহাসে তিনটি ট্রফি জিতেছে। তিনটি ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রেই ক্রিকেটার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সুনীল নারিনের।
২০১২ এবং ২০১৪'র আইপিএল জয়ে নারিনের ভূমিকা ছিল শুধুমাত্র বোলার হিসেবে। আর ২০২৪-এ কেকেআরের আইপিএল শিরোপা জয়ে নারিন অলরাউন্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ট্রফি জেতার পর তাই খোশমেজাজে থাকা নারিনের স্পষ্ট বক্তব্য, এর থেকে ভালো জন্মদিনের উপহার আর কিই বা হতে পারে!
এই মরশুমে টুর্নামেন্ট সেরাও হয়েছেন সুনীল নারিন। আইপিএলের ইতিহাসে তিনবার টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার পাওয়া একমাত্র ক্রিকেটার হওয়ার নজির গড়লেন তিনি। এই মরশুমে কেকেআরের হয়ে ব্যাট এবং বল হাতে অনবদ্য পারফরম্যান্স করেন নারিন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করার পরে তাঁর ঝুলিতে ছিল ৪৫০ পয়েন্ট।
এই মরশুমে নাইটদের হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি নিয়েছেন ১৭টি উইকেট।করেছেন ৪৮৮ রান। এরপরেই তিনি বলেন জন্মদিনে আইপিএল জয়ের থেকে আর কি বড় উপহার থাকতে পারে! ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল কেকেআর এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতা এবং নাইট বোলারদের নৈপূণ্যে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১৩ রানে অলআউট হয়ে যায় হায়দরাবাদ দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে বেঙ্কটেশ আইয়ারের ঝোড়ো ইনিংসের উপর ভর করে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৫৮ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে আইপিএলের শিরোপা জয় নিশ্চিত করে নাইটরা। এরপর ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সুনীল নারিন জানান, ‘আজ যখন মাঠে আসছিলাম তখন আমার ২০১২ সালের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল ২০১২ সালে যেন আমি ফিরে গিয়েছি। এই অনুভূতিটা দুর্দান্ত। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। জন্মদিনে এর থেকে ভালো উপহার আর কি পাব!’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমি আমার সেরা ক্রিকেটটা খেলছি। ব্যাটিং বোলিং এবং ফিল্ডিং তিন বিভাগকেই আমি উপভোগ করছি। আমাদের সবথেকে ভালো জিনিসটা হল দল এখন জয়ের মধ্যে রয়েছে। ভালো ছন্দে রয়েছে। প্রতি ম্যাচেই আমরা দলগতভাবে ভালো খেলেছি।’
এই টুর্নামেন্টে নারিন তাঁর ব্যাটিংকে একেবারে অন্য মাত্রা দিয়েছেন। তিনি একটি শতরানও করেছেন। পাশাপাশি তিনটি অর্ধশতরান করে তাঁর মোট রান ৪৮৮ রান করেন নারিন। নারিন জানান প্রথমে ব্যাট করতে তাঁকে যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল, প্রথম বল থেকেই চালিয়ে খেলার যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল, তা তাঁর পক্ষে খুব সহায়ক হয়েছে।