বিশ্ব জয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা করে দিলেন ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে, টিম ইন্ডিয়ার ঐতিহাসিক জয়ের পর, কিং কোহলি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা করে দেন। তবে তিনি টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলা চালিয়ে যাবেন। চালাবেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটও।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর কোহলির
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার পর বিরাট কোহলি বলে দেন যে, ‘এটাই আমার শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এটাই আমরা অর্জন করতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে মনে হবে যে, আপনি হয়তো রান পাচ্ছেন না। তার পরেই একটা বড় রান আসে। আসলে আমার কাছে ব্যাপারটা ছিল, হয় এখন, না হলে কখনও নয়। একদিনই পারফর্ম করলাম, আর এটা কাজে এল দলের।’
তখনও কোহলির ইঙ্গিত পুরো পরিষ্কার না হওয়ায়, সঞ্চালক হর্ষ ভোগলে আবার প্রশ্ন করলে, কোহলি সাফ বলে দেন, ‘ভারতের হয়ে এটাই ছিল আমার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। চেষ্টা করেছি দলে যতটা সম্ভব অবদান রাখার। পরিস্থিতিকে সম্মান দেখিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি। আমরা কাপটি তুলতে চেয়েছিলাম, সেটা পেরেছি। এখনই সময়, টি-টোয়েন্টিকে পরের পরবর্তী প্রজন্মের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা দলকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবে।’
আরও পড়ুন: ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিং নিলেই, T20 WC জেতে দল, ব্যতিক্রম শুধু ২০১০
ফাইনাল ম্যাচে জ্বলল বিরাটের ব্যাট
পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই রোহিত শর্মা, ঋষভ পন্ত, সূর্যকুমার যাদবের উইকেট হারিয়ে ভারত যখন কোণঠাঁসা, তখন হাল ধরে কোহলি। সঙ্গে পান অক্ষর প্যাটেলকে। অক্ষর ৩১ বলে ৪৭ করে নিজের ভুলে রানআউট হলেও, বিরাট হাল ধরে থাকেন। তিনি ৪৮ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৫০-এর গণ্ডি টপকানোর পরেই হাত খোলেন তিনি। ৫৯ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে দলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোরের দিকে নিয়ে যান। রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল জয়ের পর ম্যাচের সেরার পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিরাটকেই। আর বিশ্বজয়ের মঞ্চেই আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করে দেন কোহলি।
আরও পড়ুন: ভালো খেললেও মুহূর্তের অসতর্কতায় রান আউট অক্ষর, ম্যাচের রং বদলালেন ডি'কক
কিং-এর টি২০ ক্যারিয়ার
টি-টোয়েন্টিতে মোট ১২৫টি ম্যাচ খেলেছেন বিরাট কোহলি। ৪৮.৬৯ গড়ে ৪১৮৮ রান করেছেন। একটি সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। গত বছর এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই শতরানটি করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া কোহলি ৩৯টি অর্ধশতরান করে ফেলেছেন। হারারেতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল কোহলির। ঘটনাচক্রে, কোহলির অবসরের পর ফের জিম্বাবোয়ে সফরে যাবে টিম ইন্ডিয়া। তবে এই দলে সিনিয়ররা কেউ থাকছেন না। তরুণ প্রজন্মকেই এই সফরে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যাইহোক ভারতীয় টি২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে দাঁড়ি পড়ল ‘বিরাট’ অধ্যায়ের।