বাংলা নিউজ > ভোটের লড়াই > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২১ > শুভেন্দুর মুখে 'জেহাদি' শব্দ শুনে ব্যথিত বন্ধু আবু তাহের
তৃণমূলের মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী ও আবু তাহের। ফাইল ছবি
তৃণমূলের মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী ও আবু তাহের। ফাইল ছবি

শুভেন্দুর মুখে 'জেহাদি' শব্দ শুনে ব্যথিত বন্ধু আবু তাহের

  • তাল কাটে গত ১৯ ডিসেম্বর। বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। এর পর একাধিক সভায় শুভেন্দুর মুখে শোনা গিয়েছে ‘জেহাদি’ শব্দ।

বিজেপিতে যোগ দিয়েই ‘জেহাদি’-দের বিরুদ্ধে একাধিকবার সুর চড়িয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যে ব্যথিত তাঁরই পুরনো সঙ্গী আবু তাহের। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের এই নেতা সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘এই শুভেন্দুদাকে চিনি না। দল বদলেই উনি এভাবে বিভাজনের রাজনীতি করবেন তা কল্পনা করতে পারিনি।’

২০০৬ সালে নন্দীগ্রামে প্রথম অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন আবু তাহেরই। পরে তাতে যোগ দেন শুভেন্দু। সেই থেকে দুজনের বন্ধুত্ব দেখার মতো। নন্দীগ্রামে একই মঞ্চ থেকে সিপিএম ও পরে বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার সরব ছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাল কাটে গত ১৯ ডিসেম্বর। বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। 

এর পর একাধিক সভায় শুভেন্দুর মুখে শোনা গিয়েছে ‘জেহাদি’ শব্দ। বিজেপিতে যোগদানের পর নন্দীগ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন শুভেন্দু। সেই অনুষ্ঠানে যোগদানের পথে ভূতার মোড়ে কয়েকজনের ওপর হামলা হয়। সেই ঘটনার সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘জেহাদিরা হামলা চালিয়েছে।’ এতেই আঘাত পেয়েছেন পুরনো বন্ধু আবু তাহের। 

তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে জাত – ধর্ম অপ্রাসঙ্গিক। এখানে ভরত, সেলিম ও বিশ্বজিৎ একসঙ্গে শহিদ হয়েছেন। কেউ বেআইনি কাজ করলে তাঁকে দুষ্কৃতী বলা যেতে পারে কিন্তু জেহাদি বলবে কেন?’

তাঁর কথায়, ‘বিজেপিতে যোগদানের আগে শেষ বৈঠকে দাদা কথা দিয়েছিলেন, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করবো না। কিন্তু সে কথা রাখলেন না তিনি। এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। কখনো ভাবিনি শুভেন্দুদা এভাবে ধর্মীয় বিভাজনমূলক কথা বলতে পারেন।’

এই নিয়ে বিজেপির সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘কিছু জায়গায় বিজেপিকে রোখার জন্য নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই শুভেন্দুবাবু কিছু ভুল বলেননি। বিজেপি সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষরাই রয়েছেন।’

 

বন্ধ করুন