বাংলা নিউজ > ভোটের লড়াই > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২১ > রাজীবকে ‘‌ক্ষণিকের অতিথি’‌ মনে করছে তৃণমূল, ফেসবুক লাইভ নিয়ে চর্চা তুঙ্গে
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)

রাজীবকে ‘‌ক্ষণিকের অতিথি’‌ মনে করছে তৃণমূল, ফেসবুক লাইভ নিয়ে চর্চা তুঙ্গে

  • সূত্রের খবর, শতাব্দী রায়ের মতো রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মানভঞ্জন' হওয়ার সম্ভাবনা কম৷

শতাব্দী রায়ের ক্ষোভ প্রশমন করা গিয়েছে৷ আটকানো গিয়েছে তাঁর দিল্লি যাত্রাও৷ ফলে বীরভূমের সাংসদকে নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব৷ কিন্তু সূত্রের খবর, বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সে আশা করছে না দল৷ তবে কী করবেন ‘দাদা’? শতাব্দী রায়ের মতো রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মানভঞ্জন' হওয়ার সম্ভাবনা কম৷ শনিবার বারবেলায় তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে হাজির থাকবেন তিনি। নিজেই এই ফেসবুক লাইভ করার কথা জানিয়েছিলেন বনমন্ত্রী। তাঁর মনোভাবও তিনি স্পষ্ট করে দিতে পারেন আজ (শনিবার)।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ধরেই নিয়েছে, দলে রাজীব আর ক্ষণিকের অতিথি৷ সূত্রের খবর, ফেসবুকে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁকে প্রশ্ন করতে পারবেন৷ মানুষ কী চাইছেন, তা জানতে চাইবেন রাজীব৷ বনমন্ত্রীর এভাবে জনতার দরবার খুলে বসার বিষয়টি মোটেই ভালো চোখে দেখছে না দল৷ সম্প্রতি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকটি বৈঠকও এড়িয়ে গিয়েছেন। দলীয় বৈঠকেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে রাজীব বন্দোপাধ্যায় রাজ্যের মন্ত্রী। হাওড়া জেলা তৃণমূলের কো–অর্ডিনেটর। তিনি ফেসবুকে তাঁর পেজে লিখেছেন, ‘‌সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমি সবসময় সোশ্যাল মিডিয়াকেই আগে রাখি।’‌ রাজীবকে দলে রাখতে কথা শুরু করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব৷ চেষ্টা হয়েছিল তাঁর ক্ষোভ প্রশমনের৷ অন্তত দু’বার তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ কথা বলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও৷ তারপরও কাজের কাজ হয়নি৷

ইতিমধ্যেই মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ ছেড়েছেন হাওড়ার লক্ষ্মীরতন শুক্লা। মন্ত্রিত্ব ও জেলা সভাপতি পদ ছেড়ে দেওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায় শাসক দল। বেসুরো গাইছেন রথীন চক্রবর্তী ও সাংসদ প্রসূন বন্দোপাধ্যায়। বেসুরো গাইছেন বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। এই অবস্থায় বনমন্ত্রী ও হাওড়া জেলা তৃণমূলের কো–অর্ডিনেটর রাজীব বন্দোপাধ্যায় ঠিক কী বলতে চলেছেন, তা নিয়েও চিন্তিত রাজ্যের শাসকদলের নেতারা।

তবে নতুন পথে পথচলা শুরু করার আগে আমজনতার থেকে সেই সিলমোহর আদায় করার চেষ্টা বনমন্ত্রী করবেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা৷ উল্লেখ্য রাজীব বন্দোপাধ্যায় কখনও বলেছেন, ‘‌দলে কাজ করার মতো পরিবেশ নেই।’‌ আবার কখনও বলেছেন, ‘‌দলের শীর্ষ নেতারা, নিচুতলার কর্মীদের চাকর-বাকর মনে করেন।’‌ তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, রাজীবের সঙ্গে বিচ্ছেদ অবশ্যম্ভাবী৷ রাজীবের প্রতি যে দল আর নরম হবে না, তা আগেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ সেই কারণে লক্ষ্মীরতন শুক্লা দল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওড়া শহরে দলের জেলা সভাপতি হিসেবে অরূপ রায়ের ঘনিষ্ঠ ভাস্কর ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব দিয়েছে দল৷ অথচ অরূপ রায়ের উপরেই মূল ক্ষোভ ছিল রাজীব, লক্ষ্মীর৷ এই পরিস্থিতিতে রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের আজকের সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ নিয়ে আগ্রহ সব মহলে।

বন্ধ করুন