বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২১ > সোনোওয়াল মনোনয়ন পেশ করলেও মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ছাড়াই ভোটে বিজেপি, নেপথ্যে হেমন্ত?
হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

সোনোওয়াল মনোনয়ন পেশ করলেও মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ছাড়াই ভোটে বিজেপি, নেপথ্যে হেমন্ত?

  • নিজের পুরনো কেন্দ্র মাজুলি থেকেই মনোনয়ন পেশ করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।

অসমে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কে? সে বিষয়ে ভোটের পরেই সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপি। অথচ নিজের পুরনো কেন্দ্র মাজুলি থেকেই মনোনয়ন পেশ করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। তার জেরে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সোনোয়ালের কাজে খুশি নয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব? যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, জোড়া মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যাশীর কাঁটায় নির্বাচনে বিদ্ধ না হতেই মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা না করার পথে হেঁটেছে গেরুয়া শিবির।

গত শুক্রবার দিল্লিতে অসমের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং জানিয়েছিলেন, ভোটের পর দলের সংসদীয় কমিটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঠিক করা হবে। তার জেরে অসমের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। প্রশ্ন উঠতে থাকে, দলের অন্দরেই কি বিরোধের মুখে পড়েছেন সোনোওয়াল? নাকি গত পাঁচ বছরে তাঁর পারফরম্যান্সে খুশি নয় বিজেপি?

সেইসব জল্পনার মধ্যে রবিবার অসমের বিজেপির সভাপতি রঞ্জিতকুমার দাস এনটিভিকে বলেন, ‘নির্বাচনের পর দলের সংসদীয় কমিটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? আমরা যে রাজ্যগুলিতে ক্ষমতায় নেই, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করি। কিন্তু যেখানে আমরা ক্ষমতায় আছি, সেখানে আমরা সেই কাজ করি না। এই বিষয়ে আমরা দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলব।’

যদিও বিষয়টি এতটা সহজভাবে দেখতে রাজি নন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সোনোওয়ালের সঙ্গে হিমন্ত বিশ্বশর্মা গেলেও দু'জনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক অখিলরঞ্জন দত্ত বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে সোনোওয়াল এবং হিমন্তের মধ্যে চাপানউতোর চলছে। বর্তমানে যে কোনও একজনকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে নির্বাচনে ঝুঁকি নিতে চায় না বিজেপি। দুই নেতার মধ্যে দড়ি টানাটানি নিয়ে বিজেপি মুখে কুলুপ আঁটলেও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে, হিমন্তকে এমনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে যে ব্যক্তি প্রচারের দায়িত্বে থাকতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে ভোটের পর দায়িত্ব নিতে পারেন।’

বন্ধ করুন