বাংলা নিউজ > ভোটের লড়াই > অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২১ > অসমের ‘সবথেকে বড় সমস্যা’ বন্যার সমাধানে আরও ৫ বছর চাইলেন শাহ, শান অনুপ্রবেশ অস্ত্রে
নলবাড়িতে জনসভায় অমিত শাহ। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
নলবাড়িতে জনসভায় অমিত শাহ। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

অসমের ‘সবথেকে বড় সমস্যা’ বন্যার সমাধানে আরও ৫ বছর চাইলেন শাহ, শান অনুপ্রবেশ অস্ত্রে

  • শাহ দাবি করেন, অসমের সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারবে একমাত্র বিজেপি।

বিজেপির আমলে অসমে উন্নয়নের ‘বন্যা’ হয়েছে। কিন্তু শেষ পাঁচ বছরে প্রকৃত বন্যার যে সমস্যা, তার সমাধান হয়নি। সেই কাজ পূরণের জন্য আরও পাঁচ বছরের সময় চাইলেন অমিত শাহ। 

রবিবার নলবাড়ির জনসভায় শাহ দাবি করেন, অসমকে ‘বুলেট-মুক্ত’ করেছে বিজেপি সরকার। আন্দোলনের হাত থেকেও রাজ্যকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়েছে। আর অসমের বন্যা সমস্যা সমাধানের জন্য আরও একবার বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আর্জি জানান। বন্যাকে রাজ্যের ‘সবথেকে বড় সমস্যা’ হিসেবেও চিহ্নিত করেন তিনি। 

বিজেপির আমলে অসমে কীভাবে উন্নয়নের পাদপ্রদীপ জ্বলেছে, সেই খতিয়ান তুলে ধরেন শাহ। তিনি জানান, রাজ্যে ২০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের উপর ছ'টি সেতু তৈরি করেছে বিজেপি সরকার। গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতাল। ৭.২ লাখ চা-বাগান কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। শাহ দাবি করেন, নয়াদিল্লিতে ক্ষমতায় আসার সময় অসমে মাত্র ৭৯,০০০ কোটি টাকা পাঠিয়েছিল কংগ্রেস। সেখানে ১৪ তম অর্থ কমিশনের আওতায় রাজ্যের জন্য ১.৫৫ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

উন্নয়নের পাশাপাশি অনুপ্রবেশ অস্ত্রেও শান দেন শাহ। ভোটমুখী অসমে নিজের প্রথম রাজনৈতিক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস এবং অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (এআইইউডিএফ) ক্ষমতায় আনলে রাজ্যে অনুপ্রবেশের ‘সমস্ত দরজা’ খুলে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমায় জোরে বলুন। কংগ্রেস এবং আজমল (এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদিন্ন আজমল) কি অসমকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে? ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের স্বাগত জানাতে সমস্ত দরজা খুলে দেবে ওরা। কারণ অনুপ্রবেশকারীরা ওদের ভোটব্যাঙ্ক।’ সেই পরিস্থিতির হাত থেকে রাজ্যকে ‘সুরক্ষা’ রাখতে আরও এক দফায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আর্জি জানান। শাহ দাবি করেন, অসমের সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারবে একমাত্র বিজেপি।

আসন্ন ১২৬ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এআইইউডিএফ, সিপিআই, সিপিআইএম, সিপিআইএমএল এবং আঞ্চলিক গণ মোর্চার (এজিএম) সঙ্গে জোট করেছে কংগ্রেস। লড়াইয়ের ময়দানে নামছে অসম জাতীয় পরিষদ এবং রাজোর দলের জোটও। বিশেষত দু'দলই কঠোরভাবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরোধিতা করছে। যা অসমের সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের ক্ষেত্রে ‘আশঙ্কার’ বলেও দাবি করা হচ্ছে। সেই জোটের নাম না করে শাহ দাবি করেন, ভোট কাটাকুটিতে বিজেপিকে সুবিধা পাইযে দিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে ওই দুটি দল। যে জোটের হৃদয়ে অসমের স্বার্থের লেশমাত্র নেই বলেও দাবি করেন শাহ।

বন্ধ করুন