বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২১ > মুখ্যমন্ত্রিত্বের 'লড়াইয়ে' জয়ী হিমন্ত, ‘ক্রাইসিস ম্যানেজারেই’ আস্থা বিজেপির
বিধায়কদের স্রেফ নিয়মরক্ষার বৈঠকে হিমন্ত বিশ্বশর্মা। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
বিধায়কদের স্রেফ নিয়মরক্ষার বৈঠকে হিমন্ত বিশ্বশর্মা। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

মুখ্যমন্ত্রিত্বের 'লড়াইয়ে' জয়ী হিমন্ত, ‘ক্রাইসিস ম্যানেজারেই’ আস্থা বিজেপির

  • প্রত্যাশিতই ছিল।

প্রত্যাশিতই ছিল। বিধায়কদের স্রেফ নিয়মরক্ষার বৈঠকে অসমের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হিমন্ত বিশ্বশর্মার নামে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ল। আগামিকাল (সোমবার) শপথগ্রহণ করবেন তিনি।

শনিবার রাতেই বোঝা গিয়েছিল, রবিবার বিধায়কদের বৈঠক নেহাত নিয়মরক্ষার হতে চলেছে। সেই মতো রবিবার সকাল থেকেই তৎপরতা শুরু হয়। সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট নাগাদ অসমে সোনোওয়ালের বাসভবনে পৌঁছান বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) বি এল সন্তোষ। মিনিট ২০ পরে সেখানে আসেন হিমন্ত। তারপরই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে ইস্তফা দেন সোনোওয়াল। সেই সময় সোনোওয়ালের বাসভবনেই ছিলেন হিমন্ত-সহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তারপর বৈঠকের জন্য বিধানসভায় পৌঁছান বিধায়করা। আসেন বিজেপি নেতা নরেন্দ্র সিং তোমার এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা অসমে বিজেপির পর্যবেক্ষক অরুণ সিংও পৌঁছে যান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৈঠকে যোগ দিতে একসঙ্গে বিধানসভায় পৌঁছান হিমন্ত এবং সোনোওয়াল। 

স্বল্পদৈর্ঘ্যের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে হিমন্তকে দলনেতা বেছে নেওয়া হয়। হিমন্তের নাম প্রস্তাব করেন সোনোওয়াল। সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানান অসমের রাজ্য বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস এবং হাফলঙের নব-নির্বাচিত বিধায়ক নন্দিতা গোলোসা। সেই ঘোষণার পরই অসমের ঐতিহ্যবাহী ‘গামোসা’ দিয়ে স্বাগত জানান সোনোওয়াল। বৈঠকের পর তোমর বলেন, ‘আমি অন্যান্য বিধায়কদের জিজ্ঞাসা করি যে আর কারও নাম তাঁদের মাথায় আছে কিনা। তাঁরা কারও নাম করেননি। আমাদের সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিমন্তের নামই শুধু প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে হিমন্তকে দলনেতা বেছে নেওয়া হয়েছে।’

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন হিমন্ত। যিনি ২০০১ সাল থেকে কংগ্রেসের তরুণ গগৈয়ের সরকারে টানা তিনবার মন্ত্রী ছিলেন। তারইমধ্যে ২০১৬ সালে অসমে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর অনস্বীকার্য ভূমিকা ছিল। তারপর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হয়ে উঠেছেন। নর্থ-ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (নেডা) আহ্বায়ক হেসেবে অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং ত্রিপুরা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে একটি অংশের তরফে যথেষ্ট সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তা সত্ত্বেও যথেষ্ট জনপ্রিয় হিমন্ত। সূত্রের খবর, কমপক্ষে ৪০ জন নব-নির্বাচিত বিধায়কের সমর্থন আছে হিমন্তের পক্ষে। সেই কারণেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বন্ধ করুন