বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ > পুরভোটের লড়াই > আসানসোলেও কেন এঁটে উঠতে পারল না বিজেপি?‌ ভোট বিশ্লেষণে নয়া তথ্য
সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়ে পড়েছে।

আসানসোলেও কেন এঁটে উঠতে পারল না বিজেপি?‌ ভোট বিশ্লেষণে নয়া তথ্য

  • কিন্তু কেন এমন হল?‌ একাধিক কারণ উঠে এলো।

শিল্পনগরী আর সঙ্গ দিল না। শহর থেকে গ্রাম জুতোর সোল খুইয়ে ফেললেও মুশকিল আসান হল না। এই জায়গাটির নাম আসানসোল। যেখানে বিজেপি জিতে ঘুরে দাঁড়াবার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সেখানে দেখা গেল, আসানসোল পুরনিগমের ১০৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯১ আসনে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ৭টি, বামেরা দুটি, কংগ্রেস তিনটি এবং অন্যান্যরা ৩টি আসনে জিতেছে। কিন্তু কেন এমন হল?‌ একাধিক কারণ উঠে এলো।

এক, আসানসোলে ১০৬ ওয়ার্ডে গণনা হয় ২২ রাউন্ডে। কিন্তু তারপরও জয়ের হাসি হাসতে পারেননি বিজেপি নেতারা। এমনকী বিরোধী দলের তকমাও এখানে পাবে না বিজেপি। এখানের মানুষ বিজেপিকে বিশ্বাস করতে পারেনি। তাই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়ে পড়েছে। পুরসভা নির্বাচনে তাই বিজেপির পরাজয় ঘটেছে।

দুই, জিতেন্দ্র তিওয়ারি যতগুলি ওয়ার্ডে গিয়ে প্রচার করেছিল, তার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে হেরেছে বিজেপি। কারণ তাঁকে বিশ্বাস করেননি আসানসোলের মানুষ। ব্যতিক্রম শুধু তাঁর স্ত্রী চৈতালি তিওয়ারি। আসানসোল ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন জিতেন ঘরণি চৈতালী তিওয়ারি। তবে গোটা ফলাফলে স্বামীর মুখরক্ষা হল না তা বলাই বাহুল্য। এদিন ১ হাজার ৬৮৫টি ভোটে জয়ী হন চৈতালী। জিতেন্দ্র নিজে একবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে। আবার তৃণমূল কংগ্রেসে এবং পরে ফের বিজেপিতে যাওয়ায় মানুষ বিশ্বাস করেননি।

তিন, তার উপর বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে চলে যাওয়ায় এখানের সংগঠন ভেঙে পড়েছে। যা পুনরুদ্ধার করা যায়নি। শিল্পাঞ্চলের মানুষের কাছে বার্তা গিয়েছে, আবার যদি বিজেপি প্রার্থীকে তাঁরা জেতান তিনিও তৃণমূল কংগ্রেসে চলে যেতে পারেন। তাই আশা–নিরাশার দোলাচলে তৃণমূল কংগ্রেসের উপরই ভরসা রেখেছেন মানুষ।

চার, বরং অনেকটা ভরসা রেখেছে বামফ্রন্টের উপর। এখানে বিজেপির ভোটের হার ১৫.‌৯০ শতাংশ। তাই তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বামফ্রন্ট। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ১২ শতাংশ। রেল কলোনির বিস্তীর্ণ এলাকার ভোট ভাগ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টের মধ্যে। এখানে খেটে খাওয়া মানুষের এই দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যার জন্য ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সমান ভোট পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আশা প্রসাদ এবং বামফ্রন্ট প্রার্থী তনুশ্রী রায়। দু’জনেই ২,৩৫৮টি করে ভোট পেয়েছিলেন। সেখানে বিজেপি প্রার্থী রেখাকুমারী শর্মা পান ১,০০২ ভোট। তখন টস করতে হয়। তাতেও জেতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী।

এছাড়া আসানসোল শহরের কিছু ভোট বিজেপি পেয়েছে। সেখানে একক চেষ্টা করেছিলেন বিজেপির বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তাতে যেটুকু পদ্মের ফলন হয়েছে তাতে ৭টি ওয়ার্ড জুটেছে। শ্রমিক–কৃষকের ভোট পায়নি বিজেপি। এই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ড গড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রচার থেকে প্রার্থী কোনও কিছুতেই চমক ছিল না বিজেপির।

বন্ধ করুন