বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > দীর্ঘ ২০ বছর পর তামিল বিধানসভায় বিজেপি, পুদুচেরিতে অভিষেক গেরুয়া শিবিরের
পালানিস্বামী, পনিরসেলভামের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী (ফাইল ছবি পিটিআই)
পালানিস্বামী, পনিরসেলভামের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী (ফাইল ছবি পিটিআই)

দীর্ঘ ২০ বছর পর তামিল বিধানসভায় বিজেপি, পুদুচেরিতে অভিষেক গেরুয়া শিবিরের

  • ২০২১ সালের নির্বাচনে এনডিএ-র হার হলেও 'জিতেছে' বিজেপি। দীর্ঘ ২০ বছর পর তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রবেশ করতে চলেছে বিজেপি। 

২০২১ সালে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র হার হলেও 'জিতেছে' বিজেপি। দীর্ঘ ২০ বছর পর তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রবেশ করতে চলেছে বিজেপি। এআইএডিএমকে-র সাহায্য নিয়ে ৪টি আসনে জিতে দুই দশক পর তামিল বিধানসভায় প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে গেরুয়া শিবির। এছাড়া পুদুচেরিতে এই প্রথমবার খাতা খুলতে পেরেছে বিজেপি। সেখানে ৬টি আসনে জিততে পেরেছে বিজেপি। সরকার গঠন করতে চলেছে এনডিএ।

তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট গড়ে বিজেপি লড়েছিল ২০টি আসনে। সেই কটা আসনে ২০ শতাংশ, অর্থাত্ ৪টি আসনে জিততে পেরেছে বিজেপি। তিরুনেলভেলি, নাগরকয়েল, মোদাকুরিচি এবং দক্ষিণ কোয়েম্বাতুর।

গত পাঁচ বছর ধরেই দ্রাবিড় রাজনীতিতে দাগ কাটার চেষ্টা করছিল বিজেপি। এআইএডিএমকে-র অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে বিজেপির মধ্যস্থতা রাস্তা চওড়া করে দিয়েছিল গেরুয়া শিবিরের জন্য। এম করুণানিধি এবং জে জয়ললিতার মৃত্যুর পর দ্রাবিড় রাজনীতিতে যেই শূন্য স্থান তৈরি হয়, সেখানে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছে বিজেপি। যদিও একুশের লড়াই মূলত ডিএমকে বনাম এআইএডিএমকে-র ছিল, বিজেপির মূল লক্ষ্য ২০২৬-এ একা লড়াই করা।

এই পরিস্থিতিতে একুশে বিজেপির ৪টি আশনে জয় উদ্বুদ্ধ করেছে গেরুয়া শিবিরকে। এই বিষয়ে তামিলনাড়ুর নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা সিটি রবি বলেন, 'এই জয় নিশ্চিতভাবে আমাদের দলকে এরাজ্যে বাড়াতে সাহায্য করবে।' উল্লেখ্য ২০১৬ সালে বাংলায় ৩টি আসন পাওয়া বিজেপি একুশে মমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল। সেই ফর্মুলাতেই তামিলনাড়ুতেও এগোতে চায় গেরুয়া শিবির।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০১ সালে ডিএমকের সঙ্গে জোট গড়ে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ৪টি আসন জিতেছিল বিজেপি। তারপর গত ১৫ বছর তামিল বিধানসভায় কোনও প্রতিনিধি ছিল না বিজেপির। এই আবহে 'উত্তর ভারতীয়' তকমা ঝেড়ে ফেলতে রাজ্য সংগঠন ঢেলে সাজিয়েছে বিজেপি। তামিলনাড়ুতে বিজেপির রাশ যায় দলিত এল মুরুগানের হাতে। তখন থেকেই রাজ্যে হিন্দু ভোটকে 'এক' করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি। পাশাপাশি মোদী-শাহের একাধিক রাজ্য সফরে উদ্বুদ্ধ হয়েছে দলীয় কর্মীরা। রাজ্যে ৪৮ হাজার বুথ কমিটি তৈরি করতে সক্ষম হয় বিজেপি।

বিজেপি যে কিছুটা হলেও হিন্দু মেরুকরণ করতে সক্ষম হয়েছিল, তার প্রমাণ মোদাক্কুরিচিতে ডিএমকে নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভলক্ষ্মী জগদীশানের হার। তাঁকে হারান বিজেপির সি সরস্বতী। অপরদিকে তিনবারের বিধায়ক সুরেশ রাজনকে হারিয়েছেন বিজেপির দুরাইস্বামী। এই জয়ের নেপথ্যেও ছিল মেরকরণের খেলা। এই পরিস্থিতিতে এবার ৪ জন বিধায়কের উপর ভর করে ২০২৬-এর অঙ্ক কষতে শুরু করবে বিজেপি। 

 

বন্ধ করুন