বাংলা নিউজ > ভোটের লড়াই > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > জিতেন্দ্রর ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘অজ্ঞাতবাস’ পর্ব কাটিয়ে হলেন তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র
জিতেন্দ্র তিওয়ারি। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)
জিতেন্দ্র তিওয়ারি। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)

জিতেন্দ্রর ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘অজ্ঞাতবাস’ পর্ব কাটিয়ে হলেন তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র

  • জিতেন্দ্র জানালেন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ তিনি।

অবশেষে কি জিতেন্দ্র তিওয়ারির ‘শাস্তি’ মকুব করল তৃণমূল কংগ্রেস? মাসদেড়েকের ‘ঝাঁকুনি’ পর্বের পর দলের জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়কের হাতে। দলে কোণঠাসা হয়ে যাওয়ার পর আবারও ‘প্রত্যাবর্তন’ করতে পেরে খুশি জিতেন্দ্রও। জানালেন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ তিনি।

তৃণমূল সূত্রের খবর, বিধানসভা ভোটের আগে জিতেন্দ্রর বাগ্মিতাকে কাজে লাগাতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। বিশেষত একটা সময় আইনজীবী ছিলেন জিতেন্দ্র। তাঁর সেই কথা বলার দক্ষতাকে ব্যবহার করে বিজেপির মোকাবিলা করতেই ‘ভুল’ মকুব করে দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব পাওয়ার পর আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র জানান, তাঁর উপর ভরসা রেখেছে তৃণমূল। তাতে আপ্লুত তিনি। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি-সহ বিরোধীরা যে ভুয়ো প্রচার চালাবে, তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

এমনিতে একটা সময় মমতার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন জিতেন্দ্র। কিন্তু গত বছর ডিসেম্বরে সেই তাল কাটে। শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি যোগের আবহের মধ্যে পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব ছেড়ে দেন জিতেন্দ্র। বিজেপির দিকে পা বাড়িয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের একাংশের বিরোধিতায় যাত্রাভঙ্গ হয়। কার্যত দু'কূল যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার রেশ ধরে জিতেন্দ্র জানান, তৃণমূলেই আছেন তিনি। কিন্তু আচমকা বিজেপির দিকে পা বাড়ানোর বিষয়টি তৃণমূলের তরফে একেবারেই ভালোভাবে নেওয়া হয়নি। দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন জিতেন্দ্র। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সেভাবে দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। কমেছিল গুরুত্বও। তবে দলে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠার মরিয়া চেষ্টা করছিলেন। ‘শাস্তি’ সত্ত্বেও নিজের উদ্যোগে দলের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেইসবের মধ্যে গত ২৪ জানুয়ারি আসানসোলে একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন জিতেন্দ্র। সেখানে ছিলেন মলয় ঘটক এবং অরূপ বিশ্বাস। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সেই অনুষ্ঠানের আগেই সম্ভবত বরফ গলতে শুরু করেছিল। তার রেশ ধরেই ‘অজ্ঞাতবাস’ পর্বের পর জিতেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাল তৃণমূল।

বন্ধ করুন