বাংলা নিউজ > ভোটের লড়াই > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টায় বিজেপি, তুলোধনা শিবসেনার মুখপত্রে
বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টায় বিজেপি, তুলোধনা শিবসেনার মুখপত্রে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য প্রতীক ছোরগে/হিন্দুস্তান টাইমস)
বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টায় বিজেপি, তুলোধনা শিবসেনার মুখপত্রে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য প্রতীক ছোরগে/হিন্দুস্তান টাইমস)

বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টায় বিজেপি, তুলোধনা শিবসেনার মুখপত্রে

  • বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্ত্যক্ত করার জন্যই জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছে শিবসেনার মুখপত্রে।

এবার বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল শিবসেনা। সোমবার শিবসেনার মুখপত্র সামনায় উল্লেখ করা হয়, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণ করতে চাইছে বিজেপি। সেখানের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্ত্যক্ত করার জন্যই 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি দেওয়া হয়েছিল। এটা তাঁর দুর্বল জায়গায় আঘাত করার কৌশল বলেও তুলে ধরা হয়েছে। এটিকে রাজ্যের অস্থির রাজনীতির আরও একটি ঘটনা বলা যায়। এবারের ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন মমতা তাঁর বক্তৃতা করতে যাচ্ছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এবং সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পাদকীয়তে একদিকে বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে শিবসেনা। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘‌প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে সরকারি অনুষ্ঠানে এই স্লোগান উঠল। তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অপমানিত হন এবং বিব্রতবোধ করেন। বঙ্গ–বিজেপি এই দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে এবং এভাবে নির্বাচন পর্যন্ত আক্রমণ করে যাবে। তাঁর বিব্রতবোধ করা উচিত হয়নি। কারণ বিজেপি ভোটব্যাঙ্কের জন্য এই রাজনীতি করেছে।’‌

এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‌এটা সরকারি অনুষ্ঠান। কিছু মর্যাদা বজায় রাখা উচিত। আপনি যখন কাউকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, আপনার অতিথিকে অপমান করা ঠিক নয়।’‌ ২০১৮ সালে মমতা এবং মোদি যখন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন এবং সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তখনও 'জয় শ্রীরাম ধ্বনি' উঠেছিল। কিন্তু মমতা বিদেশি অতিথিদের সামনে ততটা কড়া প্রতিক্রিয়া দেখেননি। ইতিমধ্যেই শিবসেনার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ১০০টি আসনে লড়বেন তাঁরা। তার মধ্যেই এই সম্পাদকীয় মমতাকেই সমর্থন করছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

নেতাজি ভবন পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী যান জাতীয় গ্রন্থাগার এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠানটির আয়োজক ভারত সরকার, যেখানে জয় শ্রীরাম ধ্বনি এবং মোদী মোদী স্লোগান উঠেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে। যখন তিনি বক্তৃতা দিতে মঞ্চে উঠেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও। সামনা’‌র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘বিজেপি ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করতে চাইছে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের মতো। বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণ করতে চাইছে।’

বন্ধ করুন