বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > হেস্টিংসে BJP-র কার্যালয়ে একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙা হল ব্যারিকেড
বিক্ষোভ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
বিক্ষোভ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

হেস্টিংসে BJP-র কার্যালয়ে একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙা হল ব্যারিকেড

  • বিজেপির অন্তর্কলহ উস্কে দিয়েছে তৃণমূল।

যত সময় যাচ্ছে, তত প্রার্থী তালিকার কাঁটা বিঁধছে বিজেপির গলায়। রবিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রার্থী নিয়ে যে অসন্তোষ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, সোমবার তা আছড়ে পড়ল হেস্টিংসে বিজেপি নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে। দুপুর থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখালেন কমপক্ষে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের কর্মীরা। ক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি নেতা শিবপ্রকাশ, অর্জুন সিং, মুকুল রায়রা।

সোমবার দুপুরে হেস্টিংসে প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করেন পাঁচলা এবং উদয়নারায়ণ বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। রাস্তায় বসে স্লোগান তোলা হয়। ব্যারিকেড ভেঙে বিজেপির কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তিতে অনেকেই রাস্তায় পড়ে যান। তাঁদের সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে থাকে পুলিশ। পাঁচলার বিজেপির প্রার্থী মোহিত ঘাঁটির বিরুদ্ধে তোলাবাজি, নারীপাচারের অভিযোগ তোলেন বিজেপি কর্মীরা। পাশাপাশি তাঁদের দাবি, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েই টিকিট পেয়েছেন মোহিত। একইভাবে উদয়নারায়ণপুরের 'বহিরাগত' প্রার্থী সুমিতরঞ্জন করারের টিকিটও ফিরিয়ে দাবি জানানো হয়। অনেকের হাতেই 'সুমিতরঞ্জন করারকে বিজেপির প্রার্থী মানছি না, মানব না' পোস্টারও দেখা যায়। 

তারইমধ্যে মুকুল, শিবপ্রকাশ, অর্জুন, সব্যসাচী দত্তরা বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে তাঁরা কর্মীদের বোঝান। প্রার্থীদের নিয়ে যে অসন্তোষ আছে, তা বিবেচনার জন্য দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হবে বলেও আশ্বস্ত করেন সব্যসাচীরা। তাতে পাঁচলা এবং উদয়নারায়ণপুর বিজেপিকর্মীরা কিছুটা শান্ত হন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই নতুন করে বিজেপির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন রায়দিঘির বিজেপি কর্মীরা। শান্তনু বাপুলির প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের দাবিতে রীতিমতো হাঙ্গামা শুরু হয়। বিজেপির কার্যালয়ে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।

বিষয়টি নিয়ে তেমন আমল দিতে রাজি নয় বিজেপির একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, এগুলি নেহাত বিক্ষিপ্ত ঘটনা। যদিও বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য জানান, গেরুয়া শিবিরে এরকম ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত। তা কোনওরকমভাবে মানা যায় না। সেই সুযোগে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। বিজেপির অন্তর্কলহ উস্কে দিয়ে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের মন্তব্য, এতদিন যে বিজেপি কর্মীরা দল করতেন, যে নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেন, তাঁরাই এখন টিকিট পাচ্ছেন। তাই এরকম ঘটনা স্বাভাবিক একেবারে। আর এই ঘটনায় বিজেপির দৈন্যতা ফুটে উঠছে।

বন্ধ করুন