বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > ‘‌মানুষের পাশে দাঁড়াতে না—পারলে, আমাদের ইস্তফা দেওয়া উচিত’ :‌ অর্জুন
অর্জুন সিং। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
অর্জুন সিং। (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

‘‌মানুষের পাশে দাঁড়াতে না—পারলে, আমাদের ইস্তফা দেওয়া উচিত’ :‌ অর্জুন

  • গতকালই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পেরতে না পেরতেই ৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। এনিয়ে রাজ্যপালের কাছেও দরবার করেন তিনি। মঙ্গলবার একপ্রকার দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিজেপি সাংসদ।

ভোটের পরবর্তী হিংসায় জেলায় জেলায় বিজেপি কর্মীদের উপরে হামলা ও খুনের ঘটনায় এবার উল্টো সুর শোনা গেল বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের গলায়। দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। বললেন, ‘‌আমরা এতগুলো জনপ্রতিনিধিরা যদি মানুষের পাশে দাঁড়াতেই না—পারি তাহলে, আমাদের ইস্তফা দিয়ে দেওয়া উচিত।’‌

গতকালই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পেরতে না পেরতেই ৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। এনিয়ে রাজ্যপালের কাছেও দরবার করেন তিনি। মঙ্গলবার একপ্রকার দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিজেপি সাংসদ।

এদিন জেলায় জেলায় বিজেপি কর্মীদের উপরে হামলা ও শ্যামনগরে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে এনে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অর্জুন। তিনি বলেন, ‘‌রাজ্যজুড়ে বিজেপি সমর্থরা মারা যাচ্ছে। ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার পর চারিদিকে হিংসা ছড়িয়েছে। অথচ আমাদের দলে ১৮ জন সাংসদ রয়েছেন। হাতে ৭৭ জন বিধায়ক। এই অবস্থাতেও আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছি না। আমার ব্যক্তিগত মত, সাধারণ মানুষকে যদি আমরা নিরাপত্তা দিতে না পারি তাহলে, আমাদের জনপ্রতিনিধিদের উচিত ইস্তফা দিয়ে দেওয়া। এরাজ্যে গণতন্ত্র নেই। চারদিকে সন্ত্রাস চলছে।’‌

উল্লেখ্য, সোমবার তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের জেরে শ্যামনগরে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধার। ওই ঘটনায় জগবন্ধু দাস ও কৃষ্ণা দাস নামে ২ তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে জগদ্দল থানার পুলিশ। ওই ঘটনার দায় এখন তৃণমূলের উপরে চাপাচ্ছে বিজেপি।

এনিয়ে তৃণমূলের নবনির্বাচিত প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম বলেন, ‘‌ তৃণমূলের নাম নিয়ে দলকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে পরিবারের লোক মারা গিয়েছে, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা তাদের পাশে আছি। ওখানে একটা ঝামেলা হয়েছিল। তার মাঝে পড়েই ওই মহিলা মাথায় আঘাত পান। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এর জন্য আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ওই পরিবারকে সবরকম সাহায্য করব।

ওদিকে অর্জুন সিংয়ের ইস্তেফা প্রসঙ্গে হাবড়ার তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘‌ উনাকে তো পদত্যাগ করতেই হবে। উনিই বলেছিলেন, ৭টি আসনেই জিতবেন। কিন্তু শুধু ভাটপাড়ায় নিজের ছেলেকে জিতিয়েছেন। কীভাবে ভোটে কারচুপি করে তা করলেন, সেটা আমরা কমিশনের কাছ থেকে তদন্ত করিয়ে জেনে নেব। সেক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করলেও কিছু যায় আসে না। বেইমান, গদ্দারদের দলে কোনও জায়গা নেই।’‌ তৃণমূলের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে। রাজনীতিতে কীভাবে গুণ্ডা ঢোকাতে হয়, সেটা উনি ভাল মতো জানেন।’‌

বন্ধ করুন