বাংলা নিউজ > ভোটের লড়াই > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > দলত্যাগীদের সঙ্গে কুমড়োর মিল খুঁজে গান বাঁধলেন মদন, মোদী–শাহকে বললেন ‘‌ওহ লাভলি’
তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। ফাইল ছবি
তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। ফাইল ছবি

দলত্যাগীদের সঙ্গে কুমড়োর মিল খুঁজে গান বাঁধলেন মদন, মোদী–শাহকে বললেন ‘‌ওহ লাভলি’

  • হাতে কুমড়ো নিয়ে মদন মিত্র বলেন, ‘‌ভিতরটা গেরুয়া, বাইরে সবুজ। অনেক দামে বিক্রি হয়েছে। আমাদের থেকে ওখানে গেছে।’‌

‘‌পাবলিক সব বোঝে, ভরসার লোক খোঁজে, আর রামের দলে লাভের লোভে গদ্দাররা গোঁজে, আরে লাভলি!’‌— ভোটের মুখে দলত্যাগীদের নিশানা করে এমনই গান বাঁধলেন তৃণমূল নেতা তথা মদন মিত্র। ফেসবুক লাইভের জনপ্রিয়তার রেশ এখন গিয়ে পড়লে গানে। যার কথা ও সুর তাঁর নিজের। কুমড়ো হাতে নিয়ে সেই গানের ভিডিও রেকর্ডিংও হয়ে গেল আলিপুর হর্টিকালচার গার্ডেনে। মদন মিত্রর কথায়, ‘‌বাংলার মাটির মানুষকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে উৎসর্গ করলাম এই গান।’‌

দলত্যাগীদের আক্রমণ করার পাশাপাশি দিদি তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারের প্রশংসা রয়েছে গানের কথায়। আর শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তৃণমূল থেকে বিজেপি–তে যাওয়া নেতাদের কুমড়ো, মুলো, ঢ্যাঁড়শের সঙ্গে তুলনা করেছেন মদন মিত্র। হাতে কুমড়ো নিয়ে মদন মিত্র বলেন, ‘‌ভিতরটা গেরুয়া, বাইরে সবুজ। অনেক দামে বিক্রি হয়েছে। আমাদের থেকে ওখানে গেছে।’‌ গানের লাইন এরকম— ‘‌কুমড়োগুলো ফুলো ফুলো, অনেক দামে বিক্রি হল।’‌ আর দলবদলের মরশুমে দাদার গান সুপারহিট, বলছেন তৃণমূল কর্মী–সমর্থকরা।

‘‌ফেঁসে গেল কালীরামের ঢোল’ গানের সুরে মদন মিত্র লিখেছেন, ‘‌বাজার থেকে কুমড়ো কিনে জিতবি বলে ভাবলি, ওহ লাভলি।’‌ এ ব্যাপারে তিনি বলেন,‌ ‘‌কেন্দ্রের বিজেপি সরকার হঠাৎ করে কুমড়ো কিনতে শুরু করেছে। কোটি কোটি টাকা দিয়ে কুমড়ো কিনছে!‌ পশ্চিমবঙ্গ থেকে কত কোটি টাকা দিয়ে তাঁরা নেতাদের কিনছেন সেই খবর আছে আমাদের কাছে।’‌ তাই গানের লাইনে তৃণমূল নেতার কটাক্ষ, ‘‌কোটি টাকার কুমড়ো গুলো, সঙ্গে কিছু ঢ্যাঁড়শ মুলো, আরে বেচবি বলে ভাবলি? ওহ লাভলি!’‌

ক্রাউড নেক্সট মিডিয়া আর্টের ব্যবস্থাপনায় তৈরি হওয়া এই গানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও কটাক্ষ করেছেন মদন মিত্র। গানের কথায় রয়েছে— ‘‌মোদী, অমিত শাহ কুমড়োর ঘ্যাঁট খা’।‌ কিন্তু কেন এমন কথা?‌ মদনের উত্তর, ‘‌নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ সকলের বাড়ি যাচ্ছেন। ৫৫ রকমের খাবার খাচ্ছেন। অথচ পাতে কুমড়ো রাখছেন না। তাই আমি বলেছি, মোদী, অমিত শাহ, কুমড়োর ঘ্যাঁট খা।’‌ যদিও পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। মদন মিত্র গানের ব্যাপারে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‌কাজ নেই, তাই এ সব করছেন।’‌

এদিকে, ভোটের মুখে নাচ–গানের মাধ্যমেই জনসংযোগে মাতছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। সম্প্রতি এমন বেশ কয়েকটি নজির মিলেছে। বিজেপি–র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে হাওড়ার বাগনানে এক গণবিবাহের অনুষ্ঠানে মহম্মদ রফির গান গাইতে দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে আলিপুরদুয়ারে এক গণবিবাহের অনুষ্ঠানে আদিবাসী মহিলাদের নাচের তালে পা মেলাতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে মতুয়াদের তালে নাচে মেতেছেন তৃণমূল বিধায়ক ধীমান রায়— এমনই এক ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

বন্ধ করুন