বাংলা নিউজ > ভোটের লড়াই > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > বন সহায়ক নিয়ে কারসাজি, চুরি করে বিজেপিতে গিয়েছে: নাম না করে রাজীবকে বিঁধলেন মমতা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অধুনা বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অধুনা বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

বন সহায়ক নিয়ে কারসাজি, চুরি করে বিজেপিতে গিয়েছে: নাম না করে রাজীবকে বিঁধলেন মমতা

  • মুখ্যমন্ত্রী যদি রাজীবের এই কেলেঙ্কারির কথা জানতেনই তবে কেন ব্যবস্থা নেয়নি?‌ এদিন এই প্রশ্নই তুলেছেন রাজ্য বিজেপি–র সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার।

ঘাসফুল শিবির ছেড়ে এখন পদ্মফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পর এই প্রথম রাজীব–প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার আলিপুরদুয়ারের সভায় নাম না করে অধুনা বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘‌বন সহায়ক পদ নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে। চুরি করে বিজেপি–তে চলে গিয়েছে। রাজ্য সরকার তদন্ত করছে।’‌ এই অভিযোগের পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার।

এদিন আলিপুরদুয়ারের সভার অন্তিম লগ্নে মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎ রাজ্যের বন দফতরের বন সহায়ক পদে নিয়োগ নিয়ে হওয়া সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তখনই তিনি নাম না করে প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বিরাট কেলেঙ্কারির অভিযোগ তোলেন। মমতা এদিন বলেন, ‘‌যে ছেলেটা আমাদের থেকে চলে গেছে, সে বন সহায়ক পদে নিয়োগ নিয়ে কিছু কারসাজি করেছে। আমাকে অনেকে এই অভিযোগ করেছে। আমরা সেটা তদন্ত করে দেখছি।’‌

রাজীবের নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও কটাক্ষ, ‘‌ওই ছেলেটা বাইরে গিয়ে এখন অনেক বড় বড় কথা বলে। কিন্তু ও বন সহায়ক পদে নিয়োগ নিয়ে কী করেছে সেটা ওঁরা কাছে আগে জিজ্ঞাসা করুন। চুরি করে এখন বিজেপি–তে চলে গিয়েছে। কারণ, বিজেপি তো এখন ওয়াশিং মেশিন। কালো চোরগুলি বিজেপি–তে যায় আর ফর্সা হয়ে বেরিয়ে আসে। এটাই বিজেপি দলের কাজ। সব চোর, গুন্ডা, ডাকাতদের দলে নেয় আর বলে তৃণমূলকে হারাও। তৃণমূলকে অত সহজে হারানো যাবে না। তৃণমূলই ক্ষমতায় ফিরবে।’‌

মুখ্যমন্ত্রী যদি রাজীবের এই কেলেঙ্কারির কথা জানতেনই তবে কেন ব্যবস্থা নেয়নি?‌ এদিন এই প্রশ্নই তুলেছেন রাজ্য বিজেপি–র সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘‌যদি মাননীয়া জানতেন যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তবে তিনি কেন কোনও বন্দোবস্ত করেননি। কেন তিনি পুলিশকে জানাননি?‌ তার মানে তাঁর দলে থাকলে সেই চুরি মাফ?‌ আর যখন দল থেকে কেউ বেরিয়ে যান তখন বলে তদন্ত করা হবে। এ সব তো মানুষ দেখছে। সব বুঝতে পারছে।’‌

তৃণমূলে থাকার সময় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বেসুরো হয়ে পড়লে তাঁর সঙ্গে ঘন ঘন মিটিং করেন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই কথাও এদিন তুলে ধরেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর প্রশ্ন, ‘‌রাজীব যদি সত্যিই এ সবের সঙ্গে যুক্ত, তা হলে তাঁকে দলে রাখার জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সৌগত রায়কে তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন কেন?‌ কেন রাজীবের হাতে–পায়ে ধরে দলে রাখতে চাইছিলেন তিনি?’‌

বন্ধ করুন