বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > সায়ন্তিকাকে কেন বাঁকুড়া বিধানসভার টিকিট, ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী
প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সায়ন্তিকা।
প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সায়ন্তিকা।

সায়ন্তিকাকে কেন বাঁকুড়া বিধানসভার টিকিট, ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

  • ‘তারকা প্রার্থী’ বলে সায়ন্তিকাকে কটাক্ষ করে চলেছে বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের এক হাত নিলেন মমতা।

বাঁকুড়ায় নাকি একই প্রার্থী পর পর দু'বার জেতে না। সে কারণেই পুরনো প্রার্থী বদলে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্রের টিকিট দেওয়া হয়েছে। এমনটাই ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তামলিবাঁধ স্টেডিয়ামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাঁকুড়ার একটা ট্রেন্ড হচ্ছে, পাঁচ বছর বাদে এক এক জন জেতে। তাই এ বার সায়ন্তিকাকে দিয়েছি। যাতে আপনারা জোড়া ফুলে ভোট দেন। শম্পাকে এ বছর অন্য কাজে লাগাব।’’

মমতার এই বক্তব্য নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিরোধীরা। বাঁকুড়ার বিজেপির সাংসদ সুভাষ সরকার যেমন বলেছেন, ‘বাঁকুড়ার মানুষ কাজ দেখে তবেই ভোট দেন। মুখ্যমন্ত্রী সেটা জানেন। বুঝেছেন, এখানের উন্নয়নে খামতি থেকে গিয়েছে। তাই পুরনো প্রার্থী সরিয়ে তারকা প্রার্থী দিয়েছেন। আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে যা হয়।’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র আবার বলেন, ‘এখানকার মানুষ বাঁকুড়ার প্রার্থীদেরই জেতায়। বহিরাগতদের কখনওই বাঁকুড়ার মানুষ মেনে নেয়নি।’ যদিও ২০১৪ সালে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে দীর্ঘ দিনের বাম-সাংসদ বাসুদেব আচারিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী মুনমুন সেন। ২০১৯ সালের ভোটে অবশ্য তাঁকে আসানসোল থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। সে বার হেরে যান মুনমুন।

এর আগে ২০১১ সালে বাঁকুড়ায় তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ কাশীনাথ মিশ্র। কিন্তু অসুস্থতাজনিত কারণে বছর খানেকের মধ্যেই তিনি মারা যান। উপনির্বাচনে বাঁকুড়ায় তৃণমূলের টিকিটে জেতেন কাশীনাথবাবুর স্ত্রী মিনতি মিশ্র। এই মিনতি মিশ্র আবার ২০১৬ সালে হেরে যান বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী শম্পা দরিপার কাছে। যাঁকে তৃণমূল দল বিরোধী কাজের জন্য সে বছরই নির্বাচনের আগে বহিষ্কার করেছিল। শম্পা গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। জেতার পরে অবশ্য তৃণমূলেই ফিরে আসেন। 

বাঁকুড়ায় সায়ন্তিকার নাম ঘোষণার পর থেকেই বিরোধীরা তাঁকে ‘তারকা প্রার্থী’ বলে কটাক্ষ করেই চলেছে। অভিনেত্রীর হয়ে প্রচারে এসে মমতা বিরোধীদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘আপনাদের তারকা সম্পর্কে তো আমরা বাজে কথা বলছি না। তারা কী? আর সায়ন্তিকা অনেকের থেকে ভাল। ও ভাল পরিবারের মেয়ে, পুলিশ পরিবারের মেয়ে।’ এই প্রসঙ্গে দেব-মিমি-নুসরতের উদাহরণ টেনে মমতা বলেন, ইচ্ছা থাকলে ভাল কাজ সকলেই করতে পারেন। চলচ্চিত্র তারকারাও এর ব্যতিক্রম নয়। এ দিন সায়ন্তিকাও বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা লিপস্টিক-পাউডার মেখেও তাদের চেয়ে বেশি কাজ করি। আসলে ওরা মেয়েদের এগোতে দিতে চায় না।’

বন্ধ করুন