বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > শুভেন্দু-সহ পরিবারের উপর ‘অবর্ণনীয়’ আক্রমণ, বিস্ফোরক শিশির, BJP যোগ কি সময়ের অপেক্ষা?
একইমঞ্চে শিশির এবং শুভেন্দু অধিকারী। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)
একইমঞ্চে শিশির এবং শুভেন্দু অধিকারী। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)

শুভেন্দু-সহ পরিবারের উপর ‘অবর্ণনীয়’ আক্রমণ, বিস্ফোরক শিশির, BJP যোগ কি সময়ের অপেক্ষা?

  • কুণাল বলেন, ‘যুক্তিতে শিশিরবাবুর তত্ত্ব দাঁড়াচ্ছে না। মন অন্য কোথাও থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’

কাঁথির অধিকারী পরিবারে কি আরও একটা পদ্ম ফুটতে চলেছে? বিধানসভা ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শিশির অধিকারীর চাঁচাছোলো মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও জোরালো হল। যিনি তৃণমূলের ‘আক্রমণের’ হাত থেকে পরিবার এবং ছেলে শুভেন্দু 'প্রতিহত' করতেও নেমেছেন।

বাংলা সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ বাংলায় একটি সাক্ষাৎকারে পূর্ব মেদিনীপুরের প্রাক্তন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বলেন, 'আমার গোটা পরিবারের উপর যে ধরনের আক্রমণ হয়েছে, তাতে তো ছেলে বাদ নেই। আক্রমণ হলে নিশ্চিত(ভাবে) আমায় প্রতিহত করতে হবে। অবর্ণনীয় আক্রমণ একেবারে। যা জীবনে কোনও শত্রু আমার বিরুদ্ধে বলতে পারেনি। এমনকী সিপিআইএম, কংগ্রেসের লোকেরাও বলতে পারেননি। কিন্তু আমাদের দল নিকৃষ্ট মানের লোকজনকে এখানে পাঠিয়ে আক্রমণ করেছেন। যাঁরা নিজেদের উপরতলার (নেতা) হিসেবে মনে করেন, তাঁরাও আক্রমণ করেছেন। সেই আক্রমণ তো আমায় প্রতিহত করতে হবে।'

গত মাসে কাঁথিতে গিয়ে শুভেন্দুকে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাদ ছিলেন না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়রা। তবে শুধু রাজনৈতিক আক্রমণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন শিশির। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বলেন, 'শুভেন্দুকে আক্রমণ করতে কী বাকি রেখেছে! ১১ বার নন্দীগ্রামে আক্রমণ হয়েছে। দলের ভিতরে থাকাকালীন ফালতু সারদা-নারদায় জড়ানো হয়েছে। এটা ফলস! সর্বৈব মিথ্যা।' 

পূর্ব মেদিনীপুরে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক মাসখানেক আগে শিশিরের সেই মন্তব্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শিশিরের তৃণমূল-ত্যাগ স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সম্ভবত ভোটের একেবারে দোরগোড়ায় দলত্যাগ করে ঘাসফুল শিবিরকে আরও বড় ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাবাবেগ অঙ্কেও জেলায় ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হবে। যদিও শিশির নিজে তৃণমূল-ত্যাগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি জানান, তৃণমূলে আছেন কিনা, তা বলতে পারবেন দলের শীর্ষনেতারা। বিজেপিতে যোগদানের কোনও নির্দেশ পাননি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে দাবি করেন, মাঠে বিজেপি আছে, তাই গেরুয়া শিবির এগিয়ে আছে।

শিশির সরকারিভাবে কিছু না জানালেও তাঁর জন্য দরজা খোলা রেখেছে বিজেপি। বঙ্গ বিজেপির নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘(বিজেপি ছাড়া) আর কোথায় যাবেন, মানুষের পাশে দাঁড়াতে, দেশকে বাঁচাতে আর কোথায় যাবেন? দেশের জন্য বাঁচতে গেলে বিজেপি ছাড়া কোথায় আসবেন, একটাই দল, একটাই সুস্থভাবে বাঁচার জায়গা, সেটা হচ্ছে বিজেপি।’ 

তবে শিশির যে তৃণমূলের বেশিদিন সঙ্গী নন, তা সম্ভবত অনুধাবন করে ফেলেছে ঘাসফুল শিবির। সেই রেশ ধরেই তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পালটা জানিয়েছেন, তৃণমূলের যুবনেতা এবং তাঁর পরিবারের প্রতি লাগাতার ব্যক্তিগত আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন শিশির-পুত্র শুভেন্দু। তারপরও বিরোধিতা করে ন্যূনতম মন্তব্য করেননি শিশির। অথচ তৃণমূল সুপ্রিমো মমকা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে শ্রদ্ধা করেন। কুণাল বলেন, ‘যুক্তিতে শিশিরবাবুর তত্ত্ব দাঁড়াচ্ছে না। মন অন্য কোথাও থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’

বন্ধ করুন