বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > মেমারিতে তৃণমূল–বিজেপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, রায়নায় আক্রান্ত ঘাসফুল প্রার্থী
দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই এবং এএনআই)
দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই এবং এএনআই)

মেমারিতে তৃণমূল–বিজেপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, রায়নায় আক্রান্ত ঘাসফুল প্রার্থী

  • দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি বিধানসভা এলাকা।

আর দু’‌দিনের মাথায় তৃতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে নির্বাচনী প্রচারকে ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি বিধানসভা এলাকা। আবার আগের দিন রাতে ভোটের প্রচারে বেরিয়ে এবার হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। হামলায় জখম হয়েছেন তিনি। আহত দলের আরও ৬ জন। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের রায়নায়। সুতরাং বর্ধমান জেলাজুড়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে।

মেমারির কুচুট ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের নহাটি গ্রামে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। শনিবার দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ভাঙচুর চালানো হয় গাড়ি ও মোটরবাইকেও। রেহাই পাননি বাড়ির মহিলারাও। বাড়িতে ঢুকে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এলাকায় পুলিশ গেলে তাদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। আবার পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া এবার রায়না কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। এদিন দিনভর রায়না ২ নম্বর ব্লকে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন শম্পা। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বড়বৈনানের দেনোগ্রামে প্রচার করছিলাম, তখন কয়েকজন মদ্যপ যুবক মিছিলের সামনে এসে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে বিজেপি সমর্থকরা কুড়ুল, লাঠি, এমনকী তীর–ধনুক নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় জখম হন রায়নার কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী।

অন্যদিকে মেমারি এলাকায় বিজেপি–তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দু’‌পক্ষের ২১ জন জখম হয়েছে বলে খবর। জখমদের মধ্যে ১৫ জন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী–সমর্থক। তাদেরও ৬ জন কর্মী–সমর্থক জখম হয়েছেন বলে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার জন্য বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরকে দায়ী করেছে। দু’‌পক্ষই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সংঘর্ষে জড়িতদের ধরার জন্য অভিযান চালানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বদেব ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, গ্রামে তাঁকে প্রচারে বাধা দেওয়া হয়। তখনকার মতো বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা সেখান থেকে চলে যায়। অভিযোগ, এরপরই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওই গ্রামে ঢুকে ব্যাপকভাবে হামলা চালায়। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী–সমর্থকদের ব্যাপক মারধর করা হয়। তাদের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। বেশ কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে পাল্টা হামলা চালানো হয়।

আর রায়না কেন্দ্রে রেয়াত করা হয়নি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদেরও। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। প্রার্থীর দাবি, গুরুতর আঘাত পেয়েছেন ৬ জন। তাঁদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরে স্থানান্তরিত করা হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিনা প্ররোচনায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় জড়িত বিজেপি দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।

বন্ধ করুন