বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > সভা–সমাবেশ নিয়ে ব্যাপক চাপে পড়লেন মোদী–শাহ, বিকল্প পথের ভাবনা
নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ। (ফাইল ছবি, সৌজন্য কে রাজ কে/হিন্দুস্তান টাইমস)
নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ। (ফাইল ছবি, সৌজন্য কে রাজ কে/হিন্দুস্তান টাইমস)

সভা–সমাবেশ নিয়ে ব্যাপক চাপে পড়লেন মোদী–শাহ, বিকল্প পথের ভাবনা

  • প্রধানমন্ত্রী কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করলেও বাংলায় নির্বাচনী সভায় বারবার আসছেন।

কলকাতায় তিনি আর কোনও বড় নির্বাচনী সভা–সমাবেশ করবেন না। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ রাজ্যজুড়ে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। আবার বাংলা সফরে এসে তিনি কোনও নির্বাচনী জনসভা থেকে র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করবেন না। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সিপিআইএমের পক্ষ থেকে বড় কোনও সভা–সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত সবার আগে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে বিজেপি কী করবে?‌ প্রধানমন্ত্রী কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করলেও বাংলায় নির্বাচনী সভায় বারবার আসছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকালও এসেছিলেন সভা করতে। আবারও প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যে আসছেন সভা করতে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। নির্বাচন কমিশন ক্যাম্পেন কার্ফু জারি করেছে করোনা রুখতে। সন্ধ্যে ৭টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কোনও সভা–সমাবেশ করা যাবে না। তারপরই তাঁরা আসছেন এবং বাংলায় সভা করছেন। এমনকী ভিড় দেখে আপ্লুত হচ্ছেন। আরও ভিড় হোক সভায় তার আহ্বানও করছেন।

এই পরিস্থিতিতে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের জনসভা থেকে জানিয়ে দেন করোনার কথা ভেবে তিনি আর বড় এবং দীর্ঘ সভা করছেন না। তাই এখন তাড়াতাড়ি চলে গেলেও ভোটে জিতে ফের কালিয়াগঞ্জে আসবেন। এদিন ১৫ মিনিটেই সভা শেষ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বিজেপি সূত্রে খবর, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে আসায় তাদের উপরও চাপ বাড়ছে। বঙ্গ–বিজেপির এক প্রথমসারির নেতা বলেন, ‘‌করোনা সংক্রমণ বাড়ছে এটা ঠিকই। কিন্তু নির্বাচনের সময় তো সভা–সমাবেশ করতেই হবে। সেখানে সমস্ত দলই এই প্রচার কর্মসূচি থেকে সরে যাওয়ায় আমাদের উপরও চাপ বাড়ছে। কেন শুধু আমরাই সভা–সমাবেশ করছি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও আমরা সমাবেশের বহর অনেকটাই কমিয়ে এনেছি। এখন দেখা যাক কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কি সিদ্ধান্ত নেন।’‌

জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনে যখন বাকি দফাগুলি একসঙ্গে করে দিতে প্রস্তাব দিয়েছিল তখন বেঁকে বসেছিল বিজেপি। একেবারে প্রচার বন্ধ করতেও তারা রাজি নয়। আবার রাজ্যে এসে মোদী–শাহ প্রচার করতে শুরু করলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজ্যের মানুষজনই। সেকথা তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলেও ধরছেন। ফলে বাংলার মানুষ যখন সভা–সমাবেশ চাইছেন না তখন তাঁরা সভা কাটছাঁট করবেন কিনা এখন সেটাই দেখার। ইতিমধ্যেই অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও মোদী–শাহের সভা–সমাবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছে। তাতেও বেশ চাপ বেড়েছে তাঁদের বলে সূত্রের খবর।

বন্ধ করুন