বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > তিন পুলিশ অফিসার দলবদলু বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠ, থাকছেন কেষ্টর খাসতালুকে
অনুব্রত মণ্ডল। ফাইল ছবি
অনুব্রত মণ্ডল। ফাইল ছবি

তিন পুলিশ অফিসার দলবদলু বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠ, থাকছেন কেষ্টর খাসতালুকে

  • গত ১৯ এপ্রিল বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার এবং বোলপুরের এসডিপিওকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

শুরু হয়ে গিয়েছে অষ্টম দফার নির্বাচন। তবে বীরভূম জেলার নির্বাচনে যে ৬ জন পুলিশ অফিসারকে মাত্র দু’দিনের জন্য পোস্টিং দেওয়া হয়েছে, তাঁদের তিনজনই এক দলবদলু বিজেপি নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ। ওই তিন অফিসার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বহুদিন ধরে কাজ করেছেন। তাই কমিশনের এই নির্দেশ ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার এবং বোলপুরের এসডিপিওকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন প্রশ্ন উঠেছে, অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে কি গেরুয়া শিবিরের অবস্থা খুবই শোচনীয়?‌

নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বীরভূম জেলায় মোট ৬ পুলিশ অফিসারকে অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। ওই অফিসারদের অবিলম্বে রিলিজ দেওয়ার জন্য চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এবং চার জেলার এসপিকে চিঠি ইস্যু করেছেন রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ, এসবের নেপথ্যে দলবদলু নেতার হাত রয়েছে।

ভোট পরিচালনার জন্য বীরভূম জেলার পোস্টিং পাওয়া দলবদলু নেতা ঘনিষ্ঠ তিন অফিসার হলেন তন্ময় মুখোপাধ্যায়, মহম্মদ খুদরোতে খোদা এবং শীর্ষেন্দু দাস। তাঁদের মধ্যে তন্ময়বাবু ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার। বাকি দু’জন ইনস্পেক্টর। তিনজনই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তন্ময় মুখোপাধ্যায় প্রায় পাঁচ বছর হলদিয়ার এসডিপিও ছিলেন। দলবদলু নেতার স্নেহভাজন হওয়ায় হলদিয়া শিল্পাঞ্চল–সহ গোটা মহকুমায় তাঁর ব্যাপক দাপট ছিল।

এই তন্ময়বাবুকেই অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে দু’দিনের জন্য পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। দলবদলু নেতার ঘনিষ্ঠ আর এক অফিসারের নাম মহম্মদ খুদরোতে খোদা। তিনি হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের তিনটি থানায় ওসি এবং আইসি হিসেবে প্রায় এক দশক কাজ করেছেন। প্রথমে দুর্গাচক ও ভবানীপুর থানার ওসি ছিলেন। তারপর হলদিয়ার আইসি হন। প্রায় প্রতিবার নির্বাচনের মুখে তাঁকে অন্য জেলায় বদলি করা হতো। আর ভোট মিটলেই ফিরিয়ে আনা হতো শিল্পাঞ্চলে। পুরোটাই দলবদলু নেতার অঙ্গুলিহেলনে হতো, সেটা জেলা পুলিশের প্রত্যেকের কাছে পরিষ্কার ছিল। এবার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির প্রাক্কালে তাঁকে পূর্ব বর্ধমানের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর পদে বদলি করা হয়েছিল। তাঁকেও দু’দিনের জন্য ভোট করতে বীরভূম পাঠানো হয়েছে।

আর শীর্ষেন্দু দাস তমলুক থানার ওসি ছিলেন। তিনিও দলবদলু নেতার স্নেহভাজন। প্রোমোশন পেয়েই তিনি বদলি হন ডোমকল থানায়। অনেকে বলেন, শীর্ষেন্দুবাবুকে ডোমকলে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যেও ওই নেতার হাত ছিল। নন্দীগ্রামে ভোট প্রচারের শেষদিন মহিষাদলের সার্কেল ইনস্পেক্টর হিসেবে শীর্ষেন্দুবাবুকে আনা হয়। নন্দীগ্রাম থানা মহিষাদল সার্কেলেই। এই পুলিশকর্তার সুতাহাটা এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ছিল একসময়। তারপর বহু সময় কেটে গিয়েছে। আর অষ্টম দফার নির্বাচনে তাঁরাই আছেন ফ্রন্টলাইনে।

বন্ধ করুন