বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > নির্বাচনে পরাজয়ের পরও চলবে শ্রমজীবী ক্যান্টিন, রেড ভলান্টিয়ারসদের দাবি
যাদবপুরের শ্রমজীবী ক্যান্টিন
যাদবপুরের শ্রমজীবী ক্যান্টিন

নির্বাচনে পরাজয়ের পরও চলবে শ্রমজীবী ক্যান্টিন, রেড ভলান্টিয়ারসদের দাবি

  • এখানে রান্না করা খাবার পাওয়া যায় মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে।

২০১১ সালে রাজপাট থেকে যখন বামফ্রন্ট সরকার চলে গিয়েছিল তখন তাঁরা জানিয়েছিল, এবার থেকে দায়িত্বশীল বিরোধীর ভূমিকা পালন করবে এবং মানুষের সমস্যায় পাশে থাকবে। তারপর বহু বছর কেটে যায়। গোটা দেশে করোনাভাইরাস মহামারীর আকার নেয়। জারি হয় লকডাউন। আর শুরু হয় যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন। এখানে রান্না করা খাবার পাওয়া যায় মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে। এক বছর পার হয়ে গিয়েছে তবুও থামেনি রেড ভলান্টিয়ারসদের কাজ। এখন তো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। তাই গরীব, তথা খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপরেই যাদবপুরের সিপিআইএম নেতৃত্বের উদ্যোগে খেটে–খাওয়া মানুষদের জন্য নিখরচায় একটি ক্যান্টিন শুরু করার ভাবনা চিন্তা শুরু হয়। যাদবপুর বিধানসভা এলাকার বিজয়গড়ে অস্থায়ী রান্নাঘর তৈরি করে কর্মহীন শ্রমিকদের খাওয়ানোর কাজ শুরু হয়। এই রান্নাঘর ঘিরে শ্রমিক শ্রেণির সাড়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। এবার তা আরও বড় করার সিদ্ধান্ত নেন উদ্যোক্তারা।

কিন্তু আজ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই মানুষের মনে কু–ডাক দিয়েছে। এই শ্রমজীবী ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাবে না তো?‌ আজ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের হারকে কেন্দ্র করেই এই প্রশ্ন উঠছে মানুষের মনে। তাঁরা যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিনের ফেসবুক পেজে কমেন্ট করে বহু মানুষ জানতে চেয়েছেন। যদিও রাজ্যে মা ক্যান্টিন রয়েছে। যেখানে ৫ টাকায় ভাত–ডাল–ডিমের তরকারি পাওয়া যায়। তাহলে এমন উৎকন্ঠা কেন?‌ কারণ যাদবপুরে পুরসভার পক্ষ থেকে এমন ক্যান্টিন নেই। তাই এখানের খেটে খাওয়া মানুষ শ্রমজীবী ক্যান্টিনের উপরই ভরসা করতে হয়।

তবে সব উৎকন্ঠার অবসান ঘটিয়ে আজ শ্রমজীবী ক্যান্টিন ফেসবুকে নিজেদের মত জানিয়েছে, অনেকেই পেজে কমেন্ট করেছেন আজকের নির্বাচনী ফলাফলের প্রেক্ষিতে। অনেক জানতে চান ক্যান্টিন কি আর চালু থাকবে?‌ আপনাদের প্রশ্ন, উপদেশ, সমালোচনা সমস্ত গ্রহণ করেই জানাচ্ছি—আমরা একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক কর্মসূচী হিসেবে এই ক্যান্টিন শুরু করেছিলাম। নির্বাচনী প্রচারের জন্য না। তাই নির্বাচনের ফলাফল যাইহোক, যতদিন মানুষের দেওয়া অনুদান আর স্বেচ্ছাশ্রম আমাদের সঙ্গে থাকবে, এই ক্যান্টিন চলবে। মঙ্গলবার ক্যান্টিন থেকে ঠিক সময়ে রোজ খাবারের প্যাকেট দেওয়া হবে, যে কোভিড পেশেন্টদের বাড়িতে খাবার ডেলিভারি করা হয়, তাও করা হবে।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের জয়–পরাজয়ে থেমে থাকবে না কর্মীদের কাজ। তাঁরা মানুষের জন্য কাজ করবেই। মানুষকে এই ভয়ঙ্কর মহামারীতে খাবার পৌঁছে দেবে। নির্বাচনের ফলাফল কি তাই দেখে মানুষের জন্য কাজ তাঁরা করেন না। মাত্র ২০ টাকা দিয়েই খাবার সংগ্রহ করছেন, শপিং মলের নিরাপত্তারক্ষী থেকে নির্মাণ শ্রমিক, দোকানের কর্মী থেকে ই–কমার্স সংস্থার ডেলিভারি বয়। আজকের এই খারাপ সময়ে এই কাজ প্রশংসনীয়।

বন্ধ করুন