বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > রবীন্দ্রনৃত্যে তথ্যচিত্র বানিয়ে ঝুলিতে পুরস্কার, HT বাংলায় আড্ডা দিলেন অপরাজিতা
অপরাজিতা ঘোষ। ডান্স অফ জয়-এর আউটডোর শুটিং ।
অপরাজিতা ঘোষ। ডান্স অফ জয়-এর আউটডোর শুটিং ।

রবীন্দ্রনৃত্যে তথ্যচিত্র বানিয়ে ঝুলিতে পুরস্কার, HT বাংলায় আড্ডা দিলেন অপরাজিতা

বিশ্ব ভ্রমণ করে এবার ঘরে ফিরবে অপরাজিতা ঘোষের ‘ডান্স অফ জয়’। আপাতত দু'টি অন্তর্জাতিক পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে। রাশিয়াতে সম্মানিত হলেন তিনি। পরিচালনা, অভিনয়, লেখার কাজ এবং ইউটিউবে গল্প বলা এই নিয়েই  তাঁর যাত্রা। আবহে রবীন্দ্রনাথ। আজ দেদার আড্ডা দিলেন HT Bangla-র সঙ্গে। 

'গল্প তরু'-র ভাবনা কেমন করে ?

গল্প শোনা বা বলা আমাদের খুব পুরনো ট্র্যডিশন। ছোটবেলা থেকে গল্প শুনেই বড় হয়েছি। গল্প পড়ার চেয়ে শুনেছি অনেক বেশি। পড়তে শেখার অনেক আগে থেকেই কিন্তু শোনার অভ্যসটা তৈরি হয়ে যেত আমাদের মধ্যে।  মা, ঠাকুমা, বাবা, দাদু  যাঁদের কাছে আমরা গল্প শুনতাম তঁদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বড় ভিত তৈরি হয় এই গল্প শোনার মাধ্যমেই। 

এই জায়গা থেকে আমার মনে হয়েছিল, আমি যদি গল্প বলি, এবং সেখানে কিন্তু সেখানে ভিস্যুয়াল কিছু  থাকবে না। একটা ইলাস্ট্রেশন যদিও থাকে, একটা ডিজাইন থাকে কিন্তু আমি ভিজ্যুয়াল কিছু রাখিনি, কারণ ইমাজিনেশনের জায়গাটা সেক্ষেত্রে তৈরি হয় না। কেবল একটা সিগনেচার টিউন ব্যবহার করেছি মাত্র। শোনার  অভ্যেসটা যেন নষ্ট না হয় এবং আমাদের মধ্যে যে কল্পনার দুনিয়া রয়েছে সেটা যেন হারিয়ে না যায়। গল্পটাই যেন মুখ্য থাকে। 

এখানে আমি ভারত এবং বাংলাদেশের কিছু কনটেম্পরারি লেখকদের গল্প  তাঁদের অনুমতি নিয়ে পড়ছি। ছবি বানানোর পাশাপাশি এই কাজটাও করতে শুরু করেছি। ইউটিউবে দেখা যাবে এই গল্প শোনার আসর। চ্যানেলের নাম অপরাজিতা ঘোষ অ্যান্ড কম্পানি।  অনুষ্ঠানের নাম ‘গল্পতরু’।

গল্প তরুর ভাবনা ছবি বানাতে সাহায্য করে?

ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। আমার ছোটবেলা এবং প্রায় সকলের ছোটবেলার একটা কমন মাধ্যম এই গল্পের আদান প্রদান। এই অভ্যেস আমাদের কল্পনাপ্রবন করে তোলে। যার প্রভাব লক্ষ করা যায়  আমাদের সৃষ্টিশীল চেতনায় এবং সরাসরি ভাবে কাজের মধ্যেও। 

এই যেমন  ২৫শে বৈশাখ আমি রবিঠাকুরের কোনও গল্প পড়িনি,  পড়েছিলাম ‘ছেলেটা’।  যদিও আমার এই ক্ষেত্রটার নাম ‘গল্পতরু’। ‘ছেলেটা’ কবিতা হলেও ছোটবেলা থেকে আমার বারবার মনে হয়েছে এটা ঠিক কবিতা নয়, এটা ছোট গল্পের আঙ্গিকে লেখা একটি  গল্প। আমাকে ভীষণ নাড়া দেয় এই কবিতাটি। আসলে আমাদের সকলের মধ্যেই বোধ হয় একটা করে সেই ‘ছেলেটা’ লুকিয়ে রয়েছে। আমরা সবাই সেই ছেলেটা হতে চাই। ওই যে একটা বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দ, সব কিছুর মধ্যে কী আছে তা খুঁজে বার করার চেষ্টা। 

 

 

রাশিয়াতে পরিচালক অপরাজিতা।
রাশিয়াতে পরিচালক অপরাজিতা।

 ‘ডান্স অফ জয়’ কেন?  এই ডকু ফিচার মূলত কীসের বার্তা বয়ে আনে?

'ডান্স অফ জয়' বানানোর একটা বড় কারণ, যেহেতু আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা বোলপুরে, সেখানে সব কিছুতেই রবীন্দ্রনাথ, ছোট থেকেই  অবলীলায় নাচ শিখেছি, ধরেবেঁধে নয়। অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষদের সাহচার্য পেয়েছি, এবং সবচেয়ে বড় কথা হল, ওটা আমার কমফোর্ট জোন।  বড় হওয়ার পর আমার মনে হল, দেখি তো রবীন্দ্রনাথের নাচ নিয়ে কোনও কাজ হয়েছে  কিনা। খোঁজ করার পর জানলাম তেমন ভাবে কোনও  ভিজুয়্যল ডকুমেনটেশন হয়নি। 

তখন গুরুজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করি। শঙ্কর নারায়ণ, জিতেন সিংহ,  সৌমেন জ্যেঠু (সৌমেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়)  এঁদের কাছে যাই। আমার ইচ্ছের কথা জানাতেই সকলে মিলে আমায় বলেন অবশ্যই যেন এই কাজটা আমি করি। সেই মতোই ডান্স অফ জয়ের শুটিং শুরু হয়।  গুরুজিরা আমায় সবরকম ভাবে সাহায্য করেন। জিতেনদা তো তাঁর বাড়ি খুলে দেন শুটিং করার জন্য। শুধু তাই নয় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকতেন শুটিং চলা কালীন , সেই সময় তিনি বেশ অসুস্থ। 

আরও একটা কথা বলতে চাই, জিতেনদার মৃত্যুর আগে এই ছবিতে কাজ করে গেলেন। এটা আমার বিরাট পাওয়া। সৌমেন জেঠুও সব ইনফর্মেশন দিয়ে আমায় খুবই সাহায্য করেছেন। এরপর কনটেম্পোরারি  ডান্সার, যেমন সুদর্শন তাঁর রবীন্দ্র নৃত্য সম্বন্ধে যে ধারণা রাখেন সেটাই তুলে ধরেছেন। 

আবার রঞ্জন বন্দোপাধ্যায় বলছেন যে ররিঠাকুরের গান ছাড়া তাঁর নাচের কোনও মানে হয় না। এই ভাবেই বিভিন্ন মত, বক্তব্য এবং ব্যখ্যা উঠে এসেছে ‘ডান্স অফ জয়’ এর মধ্যে দিয়ে। এটি মূলত ডকু ফিচার। রবীন্দ্রনাথ মানেই কিন্তু গুরু গম্ভীর বিষয় নয়, সেটাই খুব সহজ ভাবে একটা প্রেমের গল্পের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরেছি।

ছবির আলোচনায় মগ্ন। সুদর্শণ ও পরিচালক।
ছবির আলোচনায় মগ্ন। সুদর্শণ ও পরিচালক।

ছবি মুক্তির আনন্দটা  আসলে কোথায়?

আপাতত সাতটি ফেস্টিভ্যলে গিয়েছে ‘ডান্স অফ জয়’। তার মধ্যে কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যলে শিশির মঞ্চে  যেদিন ছবিটি দেখানো হয় সেদিন বাইরে প্রবল বৃষ্টি। ভেবেছিলাম লোক আসবে না। অথচ এতই লোক সমাগম হয়েছিল  যে সব দর্শককে জায়গা দিতে পারেনি  হল। এটা আমার কাছে খুব আনন্দের। 

বাংলাদেশেও খুব ভালো স্ক্রিনিং হয়েছে। সিঙ্গাপুরে স্ক্রিনিংয়ের পরে প্রায় দু'ঘন্টা আলোচনা হয়েছে ছবি নিয়ে। এবং রাশিয়াতেও তাই, প্রায় দেড় থেকে দু'ঘন্টা এই ছবি নিয়ে আলোচনা করেছেন সিনেমা বিশেষজ্ঞরা। আমিও আপ্লুত হয়েছি মানুষের ভালোবাসায়। 

 

রাশিয়ার অভিজ্ঞতা কিছু বলুন।

আমি যখন রাশিয়াতে অ্যওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাই, সেখানে স্টেজে উঠে প্রথমে বলতে শুরু করি যে, আপনারা হয়ত জানেন বা জানেন না যে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর বলে একজন ভারতীয়… ব্যাস এইটুকু বলতেই ওখানে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত ফিল্ম মেকার দিমিত্রি, তিনি আমায় থামিয়ে বলে ওঠেন, ‘তুমি এটা বললে কী করে! রবীন্দ্রনাথকে চিনবে না, এটা হয়!’ আমি তখন বলেছিলাম, নতুন প্রজন্ম হয়ত রবীন্দ্রনাথকে চিনবে না, তাই বললাম। 

উত্তরে দিমিত্রি বলেছিলেন, ‘ যাঁরা চেনেন না সেটা তাঁদের দুর্ভাগ্য’। অসম্ভব ভালো সারা পাই ওই দেশ থেকে। বিশেষকরে নাচ বিষয়টা ওঁদেরকে খুব নাড়া দিয়েছিল। রাশিয়া খুব শিক্ষিত একটি দেশ। তাঁরা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য কবিতা গান এইসব সম্বন্ধে জানতেন, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের নাচ সম্বন্ধে তাঁদের ধারণা ছিল না।

 

 

বিদেশে সম্মান।
বিদেশে সম্মান।

শুনলাম জাপানে গিয়েই প্রথম এই ছবির চিন্তা মাথায় আসে?

জাপান বেড়াতে গিয়েছিলাম চেরি ব্লসম দেখতে। সেখানে সোকা ইউনিভার্সিটিতে টেগোর স্কোয়ার রয়েছে। গিয়ে দেখলাম একটা খোলা জায়গায় রবীন্দ্রনাথের বিরাট একটি মুর্তি। তার পেছনে চেরি ব্লসমে ভরে রয়েছে। ওপরে নীল খোলা আকাশ। এখানেই ওঁরা রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেন। 

এই দৃশ্যটা যেন একটা স্বপ্ন দৃশ্যের মতো ছিল আমার কাছে! কী পরিমাণ সম্মান গুরুদেবের সারা বিশ্বে। আর আমি তাঁরই দেশের মেয়ে! আমার অস্তিত্বে মিশে রয়েছেন রবী ঠাকুর। গর্বে ভরে উঠি প্রতি মুহূর্তে। বলা যেতে পারে এখান থেকেই আমার অন্তরে ডান্স অফ জয়ের বীজ বপন হয়েছিল

গুরু জিতেন সিংহ-র সঙ্গে শুটিংয়ের ফাঁকে।
গুরু জিতেন সিংহ-র সঙ্গে শুটিংয়ের ফাঁকে।

পরবর্তী ছবির সম্বন্ধ কিছু বলুন।

ডান্স অফ জয়ের পর ‘মিস্টিক মেমোয়ার’ আমার ফিচার  ফিল্ম। এখন বিদেশে বিভিন্ন ফেস্টিভ্যলে দেখানো হচ্ছে। এখানে জ্যোতিদাদা বলে একটি চরিত্র রয়েছে যা কিনা বাস্তবে রবী ঠাকুরের জ্যোতিদাদার অনুসরনেই তৈরি। 

আসলে আমি নিজে রবীন্দ্রনাথ দ্বারা প্রভাবিত। আমার সব কিছুতেই তিনি, কিন্তু তাঁর থাকাটা খুব সাবলীল এবং সরল। যাঁকে আমি খুব সহজভাবে রিলেট করতে পারি আমাদের প্রতিদিনের জীবন যাপনের সঙ্গে। এবং মানুষের কাছে খুব সাধারণভাবেই রবী ঠাকুরকে তুলে ধরতে পারি আমার কাজের মধ্যে দিয়ে সেটাই আমার ইচ্ছে।

এরপর কী প্ল্যানিং? ফেস্টিভ্যলের ছবি সবাই কীভাবে দেখতে পাবে?

লকডাউন মিটে গেলে এবং সব সুস্থ হলে আমি চেষ্টা করব' ডান্স অফ জয়'-কে মানুষের কাছে নিয়ে আসতে। সাতটা ফেস্টিভ্যল, দু'টো ইন্টারন্যশনাল অ্যাওয়ার্ড পর্ব সারা হয়ে গিয়েছে এই ছবির। এবার একটা প্ল্যটফর্ম চাই যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোতে পারি আমার ছবি নিয়ে। সেই চেষ্টাই করছি।  

পরবর্তী ছবির সম্বন্ধ কিছু বলুন।

ডান্স অফ জয়ের পর ‘মিস্টিক মেমোয়ার’ আমার ফিচার  ফিল্ম। এখন বিদেশে বিভিন্ন ফেস্টিভ্যলে দেখানো হচ্ছে। এখানে জ্যোতিদাদা বলে একটি চরিত্র রয়েছে যা কিনা বাস্তবে রবী ঠাকুরের জ্যোতিদাদার অনুসরনেই তৈরি। 

আসলে আমি নিজে রবীন্দ্রনাথ দ্বারা প্রভাবিত। আমার সব কিছুতেই তিনি, কিন্তু তাঁর থাকাটা খুব সাবলীল এবং সরল। যাঁকে আমি খুব সহজভাবে রিলেট করতে পারি আমাদের প্রতিদিনের জীবন যাপনের সঙ্গে। এবং মানুষের কাছে খুব সাধারণভাবেই রবী ঠাকুরকে তুলে ধরতে পারি আমার কাজের মধ্যে দিয়ে সেটাই আমার ইচ্ছে।

এরপর কী প্ল্যানিং? ফেস্টিভ্যলের ছবি সবাই কীভাবে দেখতে পাবে?

লকডাউন মিটে গেলে এবং সব সুস্থ হলে আমি চেষ্টা করব' ডান্স অফ জয়'-কে মানুষের কাছে নিয়ে আসতে। সাতটা ফেস্টিভ্যল, দু'টো ইন্টারন্যশনাল অ্যাওয়ার্ড পর্ব সারা হয়ে গিয়েছে এই ছবির। এবার একটা প্ল্যটফর্ম চাই যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোতে পারি আমার ছবি নিয়ে। সেই চেষ্টাই করছি।  

পরবর্তী ছবির সম্বন্ধ কিছু বলুন।

ডান্স অফ জয়ের পর ‘মিস্টিক মেমোয়ার’ আমার ফিচার  ফিল্ম। এখন বিদেশে বিভিন্ন ফেস্টিভ্যলে দেখানো হচ্ছে। এখানে জ্যোতিদাদা বলে একটি চরিত্র রয়েছে যা কিনা বাস্তবে রবী ঠাকুরের জ্যোতিদাদার অনুসরনেই তৈরি। 

আসলে আমি নিজে রবীন্দ্রনাথ দ্বারা প্রভাবিত। আমার সব কিছুতেই তিনি, কিন্তু তাঁর থাকাটা খুব সাবলীল এবং সরল। যাঁকে আমি খুব সহজভাবে রিলেট করতে পারি আমাদের প্রতিদিনের জীবন যাপনের সঙ্গে। এবং মানুষের কাছে খুব সাধারণভাবেই রবী ঠাকুরকে তুলে ধরতে পারি আমার কাজের মধ্যে দিয়ে সেটাই আমার ইচ্ছে।

এরপর কী প্ল্যানিং? ফেস্টিভ্যলের ছবি সবাই কীভাবে দেখতে পাবে?

লকডাউন মিটে গেলে এবং সব সুস্থ হলে আমি চেষ্টা করব' ডান্স অফ জয়'-কে মানুষের কাছে নিয়ে আসতে। সাতটা ফেস্টিভ্যল, দু'টো ইন্টারন্যশনাল অ্যাওয়ার্ড পর্ব সারা হয়ে গিয়েছে এই ছবির। এবার একটা প্ল্যটফর্ম চাই যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোতে পারি আমার ছবি নিয়ে। সেই চেষ্টাই করছি।  

 

 

 

বন্ধ করুন