বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > চাকরি ছেড়ে অভিনয়, ‘রিস্ক হ্যায়, তো ইশক হ্যায়’ এটাই প্রতীকের জীবনের মূল মন্ত্র
প্রতীক গান্ধী

চাকরি ছেড়ে অভিনয়, ‘রিস্ক হ্যায়, তো ইশক হ্যায়’ এটাই প্রতীকের জীবনের মূল মন্ত্র

  • ‘শাবানা আজমি ম্যাম আমাকে বলেছিলেন, গত ২০ বছরে এটা তাঁর দেখা সেরা পারফর্ম্যান্স ছিল, আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি’ জানিয়েছেন প্রতীক।

অভিষেক বচ্চনের ‘দ্য বিগ বুল’ মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের এবার ফোকাসে এসেছে গুজরাটি অভিনেতা প্রতীক গান্ধী অভিনীত ‘স্ক্যাম: ১৯৯২’। দুজনেই তাঁদের ছবিতে স্টক ব্রোকার হর্ষদ মেহতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি হিউম্যানস অফ বম্বে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছবির আগের এবং পরে নিজের জীবন নিয়ে খোলসা করলেন প্রতীক। 

প্রথমবার অভিনয় সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াকালীন আমি প্রথমবার স্টেজে পারফর্ম করি। সেটা শুধুমাত্র ৫ মিনিটের একটা পর্ব, কিন্তু যে হাততালি আমি পেয়েছিলাম সেট আমার সঙ্গে রয়ে গেছে। এরপরই এভাবেই অভিনয়ের প্রতি আমার চেষ্টা শুরু হয়- তাড়াতাড়ি, আমার শিক্ষকেরা আমাকে আরো চরিত্রের জন্য কাস্ট করতে শুরু করে। কিন্তু আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার; বাবা আমাকে উৎসাহ দিত কিন্তু পাশাপাশি এও বলত, ‘প্রথমে ডিগ্রি নিয়ে নাও, তারপর যা খুশি করো’। আমি এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শুরু করি। সঙ্গে ছোটো খাটো কাজ করা শুরু করি, কারণ ভালবাসাতো অভিনয়ের প্রতিই ছিল’।

মুম্বইতে শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে আমি মুম্বইতে পাড়ি দিই। চার বছর ধরে আমি একটা প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করি যেন আমি আরো ভালো অভিনয় করতে পারি। কিন্তু কয়েক মাস এমনও গেছে কোনও আয় নেই। সুতরাং, আমি টিভি টাওয়ার ইনস্টল এবং অ্যাঙ্করিংয়ের মতো কাজগুলি করেছি'।

প্রতীক বলেন, 'এরপর ২০০৬ সালে সুরাটের বন্যায় আমাদের বাড়ি ভেসে যায়। তখন আমার পরিবার বম্বেতে চলে আসে এবং ৪ জন আমরা একটা এক কামরার ঘরে থাকতে শুরু করি; বিয়ের পরও আমরা ৫ জন ওই ছোটো জায়গায় একসঙ্গে থাকি। আমি পুরো সময়ের জন্য একটা চাকরি জোগাড় করি। তবুও আমি কাজের পাশাপাশি ২ ঘণ্টা করে অভিনয়ের অনুশীলন করতাম এবং কাজের পর অনেক জায়গায় নাটক করতে যেতাম। এভাবে ৬ বছর কাটিয়েছি আমি’।

এরপর গুজরাটি ছবিতে অভিনয় করা শুরু করেন তিনি। ‘শেষ পর্যন্ত! আমি একটি গুজরাটি ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পাই। তাই, ২২ দিন অফিসের কাজ থেকে ছুটি নিয়ে শ্যুটিং করেছিলাম। শ্যুটিংয়ের মাঝে মাঝে আমি অফিস থেকে কাজের জন্য ফোন পেতাম। শ্যুটিংয়ের শেষে আমি আবার কাজে ফিরে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো প্রোমোশান পায়নি’। 

পোস্টারে প্রতীক গান্ধী
পোস্টারে প্রতীক গান্ধী

তিনি আরো বলেন, ‘ভাগ্যবশত, বে ইয়ার দারুণ হিট হয়; রাতারাতি আমি গুজরাটি ছবির মেইন স্ট্রিম অভিনেতা হিসেবে পরিচয় পেয়ে যাই। পরের বার যখন আমি ফের একটা ছবির অফার পাই, ৩৬ বছর বয়সে রিস্ক নিয়ে আমি আমার চাকরিটা ছেড়ে দিই! তখন আমার মাথায় বাড়ি লোন এবং সন্তানের দায়িত্ব ছিল’।

‘স্ক্যাম ১৯৯২’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতীক বলেন, ‘কিন্তু আমি কখনো ভাবতে পারিনি এটা এত বড় হিট হবে। এটা অভিভূত করার মতো। যখন শাবানা আজমি ম্যাম আমাকে বলেছিলেন, গত ২০ বছরে এটা তাঁর দেখা সেরা পারফর্ম্যান্স ছিল, আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। আমার স্ত্রী ছিল পরম আনন্দিত! এবং আমার বাবা-মা আমাকে যখন আইআইএফএ জিততে দেখেছিলেন, তাঁরা খুব উৎসাহী ছিলেন’। 

ছবি মুক্তির পরে জীবনের মোড় ঘুরে গিয়েছিল প্রতীকের। তিনি জানিয়েছেন, ‘স্ক্যাম মুক্তি পাওয়ার মাত্র ৫ মাসের মধ্যেই, আমার জীবন ১৮০ ডিগ্রি মোড় ঘুরে গেছে! লোকে আমাকে এখন ‘লিড অভিনেতা’ হিসেবে চেনেন। জীবন যেন একেবারে একটা দৌড় দেখাতে শুরু করে। তবে এই সমস্ত ঘটেছিল কারণ ৩৬ বছর বয়সে আরামদায়ক হওয়ার পরিবর্তে, আমি ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ... রিস্ক আছে তো ভালবাসাও আছে’ শো-এ বিখ্যাত ট্যাগলাইন প্রতিধ্বনিত হয়েছিল।

বন্ধ করুন