বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘নিজেদের মতো নিজেদের গান’-এর ফলেই বাম ভোটটা তৃণমূলে গেল, বিদ্রুপ রুদ্রনীল ঘোষের
ভোটপ্রচারে রুদ্রনীল ঘোষ। (PTI)
ভোটপ্রচারে রুদ্রনীল ঘোষ। (PTI)

‘নিজেদের মতো নিজেদের গান’-এর ফলেই বাম ভোটটা তৃণমূলে গেল, বিদ্রুপ রুদ্রনীল ঘোষের

  • শুধু নেটিজেনরা নন, এবার রুদ্রণীলকে নিয়ে কাঁটাছেড়া শুরু করেছেন তাঁর ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থরাও।

বিজেপির টিকিটে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ানোর পর থেকেই একের পর এক ট্রোল চলেছে তাঁকে নিয়ে। ‘দলে থেকে কাজ করতে পারছিলাম না’, তাঁর এই উক্তি তো এখন প্রবাদের সামিল। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় ২৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পরে কার্যত কোণঠাসা অভিনেতা। শুধু নেটিজেনরা নয়, এবার রুদ্রণীলকে নিয়ে কাঁটাছেড়া শুরু করেছেন তাঁর ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থরাও। 

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাতে লিখেছিলেন, ‘২১শের ভোট যুদ্ধ শেষ। মানুষের রায়ে আশাতীত সাফল্যে প্রথম স্থানে তৃণমূল এবং দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি। সিপিএম ও কংগ্রেস শূন্য… নতুন সরকারে যেন ফের দূর্নীতি না জেতে সেটাই কাম্য। জিতুক বাংলার সাধারণ মানুষের সত্যিকারের উন্নয়ণ, জিতুক বাংলার বেকারদের চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন, জিতুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো ও পুলিশের শিরদাঁড়া।’

এই পোস্ট নিয়েও কম ট্রোল হয়নি। রুদ্রনীলের সঙ্গে কাজ করা ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু মানুষও কমেন্টে সমালোচনা করেছেন তাঁর। অভিনেতার পোস্টে বহুজন সমাজ পার্টির ঠিকানা লিখে দিয়েছেন অনিকেত চট্টোপাধ্যায়। দেবেশ চট্টোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিয়েছেন ‘ফ্যাতাড়ু’র কয়েকটি লাইন। এর আগে তাঁর ‘কাছের বন্ধু’ সৃজিত মুখোপাধ্যায় রুদ্রনীলকে নিয়ে ‘রগড়ে দেওয়া’র মিম শেয়ার করেছিলেন। 

শেষমেশ সব বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন রুদ্রনীল। এক বাংলা দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘যাঁরা তৃণমূলকে উঠতে বসতে সমালোচনা করতেন, চোর বলতেন, তাঁরাই বিজেপিকে পরাস্ত করতে গিয়ে তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন।’ 

অনির্বাণ-ঋদ্ধি-ঋতব্রত-সুমনদের ‘নিজেদের মতো নিজেদের গান’ তৃণমূলকে ভোট পেতে সাহায্য করেছে দাবি করে রুদ্রনীল বলেছেন,  ‘তৃণমূল জমানায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রাপ্য অধিকার থেকে যে লাগাতার চুরি হয়েছে, সেটা নিয়ে সেই গানে কেউ একটা শব্দও কিন্তু বলেননি। ওঁরা প্রকাশ্যে বলতে পারেননি তৃণমূল জিন্দাবাদ। আমাকে যদি গিরগিটি বলা হয়, তাঁরা কি কম গিরগিটি? এটা দেখে দুঃখ পেয়েছিলাম, ওই গানটার মাধ্যমে আমার বামপন্থী বন্ধুরা তৃণমূলকে আড়াল করার চেষ্টা করলেন। আর সেই ফলাফলই এ বার নির্বাচনে দেখা গেল। বাম ভোটটা তৃণমূলে গেল, আর বিধানসভা থেকে বাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।’

রুদ্রনীলের দাবি, তিনি চুরির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বলেই তাঁকে নিয়ে এত সমালোচনা। তাঁর সাফ কথা, যখন যে দল পোষায়নি, তা ছেড়ে দিয়েছি। জানান, ‘যখন দেখেছিলাম, সাধারণ মানুষ যে কথা বলছেন বামপন্থী নেতারা তার থেকে অনেক দূরে, তখন দল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম। তৃণমূলে এসে দেখলাম, দেদার চুরি-জোচ্চুরি। তাই সে দলও ছেড়েছি।’

বিদ্রুপ করেছেন রাজ চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিককে নিয়েও। তাঁর কথায়, ‘সদ্য রাজনীতিতে পা দিয়েই জয়ী হয়েছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজ চক্রবর্তী ও কাঞ্চন মল্লিক। দুজনকেই শুভেচ্ছা। আশা করব প্রথা পালটে তৃণমূল এদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবে এবার।’

বন্ধ করুন