বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ‘কলকাতায় একটা সত্যজিৎ রায় মিউজিয়াম হওয়া ভীষণ দরকার’, ইচ্ছেপ্রকাশ 'ফেলুদা'-র!
সত্যজিৎ রায় সম্পর্কিত মিউজিয়াম তৈরি হলে যেকোনও ব্যাপারে এগিয়ে আসবেন 'ফেলুদা'। ( ছবি সৌজন্যে -দীপশঙ্কর সাহা)
সত্যজিৎ রায় সম্পর্কিত মিউজিয়াম তৈরি হলে যেকোনও ব্যাপারে এগিয়ে আসবেন 'ফেলুদা'। ( ছবি সৌজন্যে -দীপশঙ্কর সাহা)

‘কলকাতায় একটা সত্যজিৎ রায় মিউজিয়াম হওয়া ভীষণ দরকার’, ইচ্ছেপ্রকাশ 'ফেলুদা'-র!

  • বাংলার সাহিত্যের খাতিরে, বাঙালির সংস্কৃতির খাতিরে কলকাতার বুকে একটি সত্যজিৎ রায় মিউজিয়াম হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন 'ফেলুদা' তথা জনপ্রিয় অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী।

গত দুটো প্রজন্মের কাছে 'ফেলুদা' নামটা উচ্চারণ করলে চোখে ভেসে ওঠে তাঁরই মুখ। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পর বাঙালির প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রে এতটা নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তা এখনও পর্যন্ত আর কোনও অভিনেতার ভাগ্যে জোটেনি। তিনি, সব্যসাচী চক্রবর্তী। এবার বাংলার সাহিত্যের খাতিরে, বাঙালির সংস্কৃতির খাতিরে কলকাতার বুকে একটি 'ফেলুদা'-র মিউজিয়াম হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এই প্রথম কোনও সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর বহুদিনের এই ইচ্ছের কথা প্রকাশ করলেন ‘ফেলুদা’।

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সব্যসাচী জানান যে শুধু ফেলুদা মিউজিয়াম বললে ভুল হবে। তার থেকে সত্যজিৎ রায় সম্পর্কিত একটি মিউজিয়াম যদি তৈরি করা যায় তাহলে মস্ত বড় একটি কাজ হবে। অস্কার প্রাপ্ত পরিচালকের ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র, চিত্রনাট্য, হাতে আঁকা পোস্টার, চিঠি, সিনেমায় ব্যাবহৃত হরেকরকম জিনিসপত্র এরকম হাজারো টুকিটাকি দিয়ে দারুণ মিউজিয়াম তৈরি করা যায়। এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার সংগ্রহ আরও বাড়বে বলেই তাঁর বিশ্বাস।

'ফেলুদা' মিউজিয়াম তৈরি হলেও এগিয়ে আসবেন সব্যসাচী। ( ছবি সৌজন্যে -দীপশঙ্কর সাহা)
'ফেলুদা' মিউজিয়াম তৈরি হলেও এগিয়ে আসবেন সব্যসাচী। ( ছবি সৌজন্যে -দীপশঙ্কর সাহা)

সামান্য থেমে 'প্রদোষ মিত্র' আরও বলেন, 'ওই মিউজিয়ামের মধ্যেই যদি বেশ একটা বড় অংশ জুড়ে 'ফেলুদা' মিউজিয়াম করা যায় তাহলেই ষোল কলা পূর্ণ হয়। কারণ আর যতই যা হোক, ফেলুদা ছাড়া সত্যজিৎ রায় বাঙালির কাছে সম্পূর্ণ হয় না। আর তাছাড়া বাংলা সাহিত্য থেকে শুরু করে বাঙালির মনে ফেলুদা বিশেষ জায়গা দখল করে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালি পাঠক ও দর্শকের কাছে ফেলুদার উপস্থিতি ভীষণভাবে উজ্জ্বল'। তবে শুধু ফেলুদা-ই নয়, সত্যজিৎ সৃষ্ট আরও সব বিখ্যাত চরিত্রদের নানানরকম মূর্তি রেখে, তাঁদের বিষয়ে তথ্য দিয়েও সুন্দর করা সাজানো যেতেই পারে মিউজিয়ামের একাধিক ঘর।

কথায় কথায় পর্দার 'ফেলুদা' বলেন যে তিনি নিজে ইংল্যান্ডে গিয়ে শার্লক হোমস মিউজিয়াম দেখে এসেছেন। তাঁর কথায়, 'ওঁরা (ব্রিটিশরা) যদি একটা কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র এবং তাঁর স্রষ্টাকে নিয়ে আস্ত মিউজিয়াম তৈরি করে ফেলতে পারেন তাহলে আমরা কেন পারব না? ওঁরা বেকার স্ট্রিটে শার্লকের বাড়ি তৈরি করে মিউজিয়াম বানাতে পারলে আমরাও ২১, রজনী সেন রোডে ফেলুদার মিউজিয়াম তৈরি করতে পারব!'

নিজের বক্তব্যের শেষে তিনি এও বলেন যে এই বিষয়টি নিয়ে তাঁর বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে সত্যজিৎ-পুত্র তথা বিশিষ্ট বাঙালি পরিচালক সন্দীপ রায়ের সঙ্গেও। তিনিও বেশ আগ্রহী এ ব্যাপারে। তবে এব্যাপারে যদি রাজ্য সরকার আগ্রহ দেখায় তাহলে অনেকটা নিশ্চিন্ত হবেন 'ফেলুদা'। কারণ একটি মিউজিয়াম তৈরি করার পিছনে বিপুল খরচ থাকার পিছনে রয়েছে আরও নানানরকম জটিল ব্যাপার স্যাপার। তা কয়েকজন মানুষকে নিয়ে সামলানো খুব কঠিন। তাই সরকার যদি এই বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে বলাই বাহুল্য কাজটা সহজ এবং দ্রুত দুইই হবে। যার ফল হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিরা তাঁদের প্রিয় গোয়েন্দা এবং তাঁর সঙ্গে স্রষ্টার পাকাপাকি একটি ঠিকানা পাবে। 'সত্যজিৎ রায় মিউজিয়াম এবং ফেলুদা সম্পর্কিত যেকোনও বিষয়ে যদি কোনওরকম সাহায্য করতে পারি, কাজে লাগতে পারি তাহলে দারুণ লাগবে আমার', জোর গলায় জানালেন সব্যসাচী।

বন্ধ করুন