বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > সুশান্ত মামলার ফরেনসিক রিপোর্ট CBI এর হাতে তুলে দিল এইমসের বিশেষজ্ঞ দল
সুশান্ত সিং রাজপুত 
সুশান্ত সিং রাজপুত 

সুশান্ত মামলার ফরেনসিক রিপোর্ট CBI এর হাতে তুলে দিল এইমসের বিশেষজ্ঞ দল

  • সোমবার সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দলকে প্রয়াত অভিনেতার ফরেনসিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে এইএমসের বিশেষজ্ঞ দল। এদিন বৈঠকেও বসেন তাঁরা। 

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলার রহস্য জট খুলতে এইএমএসের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলের স্মরণাপন্ন হয়েছিল সিবিআই। যে পরিস্থিতিতে সুশান্তের মৃত্যু হয়েছে তা যাচাই করে এক্সাপার্ট ওপিনিয়ন জানতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সুশান্তের ময়না তদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখা এবং নতুন করে ভিসেরা রিপোর্ট তৈরির কাজও করেছে এইএমসের চার সদস্যের এক বিশেষজ্ঞ টিম। অবশেষে সোমবার নিজেদের রিপোর্ট সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিলেন তাঁরা। 

হিন্দুস্থানের রিপোর্ট অনুসারে, সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে সিবিআই। এই রিপোর্ট এবং এখনও পর্যন্ত নিজেদের তদন্তে উঠে আসা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি চূড়ান্তে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা-এই মামলা আদতে খুন নাকি আত্মহত্যা ?

এইএমসের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টিমের নেতৃত্বে ছিলেন সংস্থার ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডঃ সুধীর গুপ্তা। সোমবার নয়া দিল্লিতে সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দলের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক হয় এইএমসের ফরেনসিক এক্সপার্টদের। জানা গিয়েছে গতকাল সকাল ১১টায় বৈঠকে বসেছিল তাঁরা। 

গত ৭ সেপ্টেম্বর সুশান্তের ভিসেরা পরীক্ষা দ্বিতীয়বারের জন্য করা হয় এইএমসের তরফে। যার নেতৃত্বে ছিলেন সুধীর গুপ্তা। অভিনেতার শরীরে কোনওরকম বিষ বা মাদক দ্রব্য ছিল কিনা তা স্পষ্ট হয়ে যাবে এই পরীক্ষায়। এর আগে মুম্বইয়ে কালিনা ল্যাবে সুশান্তের দেহের অর্গ্যান গুলির ভিসেরা পরীক্ষা হয়েছিল। মুম্বই পুলিশ সূত্রে খবর, সেই রিপোর্টে কোনওরকম অস্বাভাবিকতা উঠে আসেনি। ভিসেরা স্যাম্পেলের অবশিষ্ট ২০ শতাংশ দিয়েই পুনরায় রিপোর্ট তৈরি করেছেন এইএমসের বিশেষজ্ঞ টিম। 

এই দলের তিন সদস্য সুশান্তের মুম্বইয়ের কার্টার রোড অ্যাপার্টমেন্টেও গিয়েছিল বিস্তারিত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। এর আগে শিনা বোরা, সুনন্দা পুষ্করের মতো দেশের হাই প্রোফাইল মৃত্যু রহস্যের মামলায় সিবিআইকে সাহায্য করেছেন ডঃ সুধীর গুপ্তা ও তাঁর টিম। সুশান্তের মামলাতেও নিজেদের মেডিকো-লিগ্যাল ওপিনিয়ন দিয়েছে এই দল। 

এই মামলার তদন্ত নিয়ে ডঃ গুপ্তা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান- সুশান্ত মামলার কিছু লিগ্যাল বিষয় এখনও খতিয়ে দেখতে তবে একটা লজিক্যাল পরিসমাপ্তিতে পৌঁছানোর জন্য। এই মামলায় এইএমস টিম এবং সিবিআইয়ের ধারণা এখনও পর্যন্ত আলাদা নয়। তিন আশ্বাস দেন- ‘এই রিপোর্ট এক্কেবারে নিশ্চিত হবে’। অর্থাত্ এই রিপোর্ট স্পষ্টতই বলে দেবে এই মামলা সুইসাইড নাকি হোমিসাইড (খুন)। 

বিহার সরকারের আবেদন মেনে অগস্টের ৫ তারিখ এই মামলার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয় কেন্দ্র সরকার। যদিও সুপ্রিম কোর্টে এই রায়ের বিরোধিতা করেছিলেন মামলা মূল অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তী ও মহারাষ্ট্র সরকার। ১৯ অগস্ট কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সুপ্রিম সিলমোহর পরে।

১৪ জুন মুম্বইয়ের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্তের দেহ।ঘটনার পর  ১০৪ দিন অতিক্রান্ত। তবে ‘জাস্টিট ফর সুশান্ত’ আন্দোলন এখনও থামছে না সোশ্যাল মিডিয়ায়। দ্রুত সিবিআই টিম কোনও সিদ্ধান্ত পৌঁছাক, আরও দ্রুত করা হোক তদন্তের গতি- দাবি সুশান্তের পরিবার ও শোকস্তব্ধ অনুরাগীদের। 

বন্ধ করুন