বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > Aindrila Sharma: ‘মা ডান হাতটা নাড়তে পারছি না..’, মঙ্গলবার দুপুরে কী হয়েছিল? জানালেন ঐন্দ্রিলার মা

Aindrila Sharma: ‘মা ডান হাতটা নাড়তে পারছি না..’, মঙ্গলবার দুপুরে কী হয়েছিল? জানালেন ঐন্দ্রিলার মা

আচমকাই ব্রেন স্ট্রোকের শিকার ঐন্দ্রিলা

Aindrila Sharma: মঙ্গলবার দুপুর ১.৩০টা নাগাদ প্রথম শারীরিক অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা। দশ মিনিটের মধ্যেই অসাড় হয়ে যায় সারা শরীর! ভয়ঙ্কর স্মৃতি ফিরে দেখলেন অভিনেত্রীর মা। 

ফাইট ঐন্দ্রিলা ফাইট! সকলেই এখন এই প্রার্থনাই করছে। ফের একবার ফিনিক্স হয়ে ফিরে আসবে ঐন্দ্রিলা, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাবলীল অভিনয়ে মুগ্ধ করবে তাঁর অনুরাগীদের- আশা সকলের। দু-বারের ক্যানসার জয়ী অভিনেত্রী গত মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ব্রেন স্ট্রোকে। তারপর থেকে হাওড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি অভিনেত্রী, রয়েছেন ভেন্টিলেশনে। ইতিমধ্যেই ৭২ ঘন্টা পেরিয়েছে, এখনও জ্ঞান ফেরেনি ঐন্দ্রিলার। অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন ঐন্দ্রিলা, খবর পরিবার সূত্রে। পাশাপাশি ঐন্দ্রিলার প্রেমিক সব্যসাচী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে কোনও নেগেটিভ খবর যেন না রটানো হয়।

মেয়ের চিন্তায় ঘুম উড়েছে ঐন্দ্রিলার মা শিখা দেবীর। মেয়েকে হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে শুয়ে থাকতে দেখতে চান না তিনি, তাই সাহস করে সেখানে যাননি। প্রবল মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ঐন্দ্রিলার পুরো পরিবার, এর মাঝেই এক সংবাদমাধ্যমের কাছে সেই অভিশপ্ত মঙ্গলবারের ঘটনাক্রম নিয়ে মুখ খুললেন শিখা শর্মা। 

ঐন্দ্রিলার মা কান্নাভেজা গলায় জানান, ‘বাড়িতে লক্ষ্মী পুজো হল, দিওয়ালির আনন্দ হল। কোনওরকম সমস্যা ছিল না। ওয়েব সিরিজের শ্যুটিংয়ে গোয়া যাবার কথা। দু-দিন আগে সব্যর জন্মদিন সেলিব্রেট করল। কিচ্ছু সমস্যা ছিল না ওর শরীরে। মঙ্গলবার ঘুম থেকে উঠল। মাসি ওকে খেতে দিল। এরপর ও বাচ্চা দুটোকে (পোষ্য) খাওয়ালো, ওষুধ খাওয়ালো। আমাদের সব বলে দিল আমি পাঁচ-সাতদিন থাকব না, ওদের কীভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ওয়েব সিরিজের জন্য গোয়া যাবে। এরপর আমার পাশে একটু শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর বলল মা আমার ডান হাতটা নড়ছে না। আমি ভাবলাম ফাজলামি করছে। এরপর হাতটা তুলে দেখলাম, যখন তুললাম দেখি অসাড় হলে যেমন পড়ে যায় সেটা হল। তখন আমার অন্যরকম লাগলো। আমিও তো মেডিক্যাল পার্সন…’।

ঐন্দ্রিলার মা টলি ফ্যাক্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘এরপর মিনিট পাঁচেকের মধ্যে দু-টো পা… পরপর একেবারে দশ মিনিটের মধ্যে গোটা শরীরে ডিপ্লেজিয়া হয়ে গেল। আর কিচ্ছু নাড়াতে পারল না। মাথার যন্ত্রণা অসহ্য়, আমার কাছে মাথার যন্ত্রণার ওষুধ ছিল সেটা দিলাম। এরপর শুরু হল চূড়ান্ত বমি। আর মাথা নাড়াতে পারেনি। এরপর ডাঃ সুমন মল্লিককে ফোন করলাম, উনি বললেন সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে চলে আসতে। সব্যকে (সব্যসাচী) ফোন করলাম, ও ছিল না। ও এল, তারপর গার্ডদের ডেকে ঐন্দ্রিলাকে নামিয়ে নিয়ে গেলাম। নিউরো সার্জেন নিলয় বিশ্বাস ছিলেন, উনি সারক্ষণ ছিলেন। সাথে সাথে ট্রিটমেন্ট পেয়েছে। উনি বললেন, ব্রেন ড্যামেজ হয়েছে। হঠাৎ করেই এমনটা ঘটল। কোথাউ পড়ে যায়নি, চোট পায়নি.. কিচ্ছু হয়নি! এরপর ওটি-তে ঢোকানো হল, তখন রাত ৮টা-৮.৩০টা। এরপর ওটি থেকে বার করা হল ১০.৩০টা নাগাদ। তারপর তো আইসিইউ-তে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে চলছে।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় একটু স্বস্তির খবর মিলেছে হাসপাতাল সূত্রে। জানা গিয়েছে, সংজ্ঞা না ফিরলেও চোখ খোলার চেষ্টা করছেন ঐন্দ্রিলা। তাঁর শরীরের বাঁ দিকে সাড় ফিরছে। জানা গিয়েছে, বাম চোখ এবং বাম কাঁধ সামান্য নাড়াতে পারছেন অভিনেত্রী। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ধীরে ধীরে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট কমিয়ে ঐন্দ্রিলা যেন স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে, সেই চেষ্টাই করছেন তাঁরা।

 

বন্ধ করুন