বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > রঙ-তুলি ভালোবাসা, বাঙালি তরুণ অনিকেতের ভাবনায় তৈরি ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ'-এর দুনিয়া
‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ'-এর কনসেপ্ট আর্টিস্টের দায়িত্ব সামলেছেন অনিকেত (ছবি সৌজন্যে অনিকেত মিত্র, ফেসবুক)

রঙ-তুলি ভালোবাসা, বাঙালি তরুণ অনিকেতের ভাবনায় তৈরি ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ'-এর দুনিয়া

  • অনিকেতের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে। কীভাবে ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’য়ের সঙ্গে যাত্রা শুরু তাঁর?

কলকাতার আর্ট কলেজের ছেলে। একসময় চাকরি ছেড়ে মুম্বই ছুটেছিলেন নিজের স্বপ্নকে তাড়া করতে। রঙ-তুলি তাঁর ভালোবাসা। তারপর দীর্ঘ লড়াই.. বলিউডে একটু একটু করে নিজের মাটি শক্ত করেছেন বাঙালি তরুণ অনিকেত মিত্র। একাধিক কাজ করেছেন বলিউডে। যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে কাজ, সৃজনশীলতার মন্ত্রবলে পর্দার ‘পৃথ্বীরাজের দুনিয়া’ তৈরি করেছেন তিনি। 

বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’। পরিচালকের আসনে ডঃ চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদী। দ্বাদশ শতাব্দীর রাজপুত সম্রাট পৃথ্বীরাজ চৌহানের জীবনী এবার উঠে এসেছে যশরাজ ফিল্মসের এই পিরিয়ড ড্রামায়। নাম-ভূমিকায় অভিনয় করছেন অক্ষয় কুমার। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন প্রাক্তন বিশ্ব সুন্দরী মানুষী চিল্লার।

চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদী পরিচালিত ৩০০ কোটি টাকার মেগা বাজেটের ছবির সেটের পরিকল্পনায়, অনিকেত মিত্রের রঙ-তুলির আঁচড়। কীভাবে ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’য়ের সঙ্গে যাত্রা শুরু অনিকেতের? নেটমাধ্যমের পাতায় সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে অনিকেত লিখেছেন, 'পৃথ্বীরাজ রাসো' বইটা আমার হাতে তুলে দিলেন পরিচালক। জুলাই মাস। জানলা দিয়ে দেখতে পাচ্ছি বৃষ্টির দাপট আরও বেড়েছে। স্মিত হেসে বললেন, "একজন ঐতিহাসিক চরিত্রকে নিয়ে যখন কাজ করবে, তার দায়িত্ববোধ অন্যান্য ছবির চরিত্রদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষটাকে চিনতে হবে, বুঝতে হবে।" শুরু হলো আমার যাত্রা আজমেরপতি চৌহান সম্রাট পৃথ্বীরাজের সঙ্গে। বইটি পিঙ্গল ভাষায় লিখেছিলেন পৃথ্বীরাজ চৌহানের বাল্যবন্ধু ও প্রধান উপদেষ্টা চন্দ বরদাই। যার জন্ম ও মৃত্যু কাকতালীয় ভাবে পৃথ্বীরাজের সঙ্গে একই দিনে। আমার হাতে তখন বইটির হিন্দি অনুবাদ।'

আরও লেখেন, 'ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকলো ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এক অবিস্মরণীয় মঞ্চ। প্রত্যেকটি চরিত্রকে জীবিত হয়ে উঠতে দেখছি আমরা চোখের সামনে। পরিচালকের শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আশির দশকে ন্যাশনাল টেলিভিশনের জন্য প্রস্তুত 'চানক্য' ধারাবাহিক। ওনার গল্পের বুনন, চারিত্রিক বিশ্লেষণ, ইতিহাসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিটেইলিং আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল প্রতিটা মুহূর্ত। এর যাবতীয় ধন্যবাদ আমি দিতে চাই সুব্রতদা ও অমিতদাকে।'

শেষে জানিয়েছেন, 'যেদিন সুব্রতদা ফোন করে প্রথমবার যশরাজ ফিল্মসের অফিসে আসতে বলেছিলেন, আমি সহজ মনে প্রশ্ন করেছিলাম 'আমার কাজটা একটু বলবেন?' একটু ভেবে উত্তর দিলেন, "পৃথ্বীরাজের দুনিয়া তৈরি করবি তুই, পৃথিবী দেখবে সেই কাজ।" এতদিন পর অবশেষে আমাদের প্রয়াস আগামীকাল মুক্তির পথে। অনেক গল্প, অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রইল এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে। আগামী দিনে হয়তো আরও অনেক ছবির সুযোগ পাবো, কিন্তু 'সম্রাট পৃথ্বীরাজ' আমায় নিজেকে চেনার সুযোগ করে দিলো।' (অপরিবর্তিত)

বন্ধ করুন